• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
২০০ কোটি টাকার বিদেশি অর্ডার

২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ

ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য

পর্দা নামল বাণিজ্য মেলার

২০০ কোটি টাকার বিদেশি অর্ডার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মাসব্যাপী ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নেমেছে গতকাল শনিবার। শেষ দিনে মেলার সব স্টল-প্যাভিলিয়নে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে হিমশিম খেতে হয়েছে বিক্রেতাদের। এ দিন স্টলগুলোয় ছিল ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়সহ নানা রকম অফারের ছড়াছড়ি। কোনো কোনো পণ্য একটি কিনলে আবার আরেকটি মিলছে সম্পূর্ণ ফ্রিতে। স্টল মালিকদের দেওয়া ছাড় আর অফারগুলো লুফে নিচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের লক্ষ্যই ছিল-দাম কমিয়ে অধিক বিক্রি বাড়ানো। তেমনি ক্রেতারাও মেলাজুড়ে খুঁজে বেড়িয়েছেন কত কম দামে, কত বেশি পণ্য নিয়ে ঘরে ফিরবেন।  বাণিজ্য মেলার এই আসরে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো প্রায় ২০০ কোটি টাকা রফতানি আদেশ পেয়েছে বলে জানিয়েন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে চলা মেলার সমাপনী ঘোষণায় তিনি এ কথা জানান। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গত বছর ২৩তম আসরে ১৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার রফতানি আদেশ পেয়েছে। আর এ বছর বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো প্রায় ২০০ কোটি টাকা রফতানি আদেশ পেয়েছে। সে হিসেবে এ বছর রফতানি আদেশ বেড়েছে ৩৫ কোটি টাকা। এবারের মেলায় মানুষের উপস্থিতিও প্রায় অর্ধকোটি পার হয়েছে।’

সমাপনী অুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এসএম রেজওয়ান হোসেন এবং মেলার আয়োজক সংস্থার প্রধান হিসেবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য।

এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ছয় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ ছাড়া মেলা আয়োজন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় সার্বিক দিক-নির্দেশনা, অবদান এবং সহযোগিতার জন্য ৩৩ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেয় মেলার আয়োজক সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরাদের গোল্ড কালার্ড ট্রফি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে সিলভার ট্রফি ও ব্রাস ট্রফি প্রদান করা হয়। নারী উদ্যোক্তা বিভাগে সিলভার ট্রফি পেয়েছে গৃহিণী ফুড প্রোডাক্টস ও মা এন্টারপ্রাইজ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি শুরু হয় মাসব্যাপী এ বাণিজ্য মেলা। এরপর ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক দিন মেলার সময় বাড়ানো হয়। সময় বাড়ানোর পর গতকাল মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপনী ঘোষণা করা হয়। সমাপনী দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ মেলা।

এবারের বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ছিল ৬০৫টি। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল ৪১২টি। এবার বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

উল্লেখ্য, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads