• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
ads
আটকে যাচ্ছেন মন্দ ব্যবসায়ীরা

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি)

প্রতীকী ছবি

বাণিজ্য

আটকে যাচ্ছেন মন্দ ব্যবসায়ীরা

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৬ এপ্রিল ২০১৯

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপি হয়েছে ২২ লাখ কোটি টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যা ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় এখন প্রায় পাঁচ গুণ। সরকারের হিসাব থেকে এমন তথ্য মিলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের শেষদিকে এটি ১০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেসরকারি খাতের জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উদার হচ্ছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান প্রশ্নে ভালো ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সহায়তা পাবেন। তবে আটকে যাচ্ছেন মন্দ ব্যবসায়ীরা।

সূত্র বলছে,  ভালো ব্যবসায়ী ও মন্দ ব্যবসায়ী চিহ্নিত করা কঠিন কাজ হলেও সরকার শিগগিরই এর একটি কৌশল চূড়ান্ত করবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন, বার্ষিক আয়-ব্যয়, কর্মসংস্থান, ব্যাংকের ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ, সুশাসনসহ কিছু সূচক সামনে রেখে সরকার ভালো ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ ও সহায়তা অবারিত করতে চাচ্ছে। তবে এই সুযোগে যাতে মন্দ ব্যবসায়ীরা ফায়দা নিতে না পারে তার দিকে সজাগ অর্থমন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করছে। বৈঠকে ডাকা হচ্ছে ব্যবসায়ীদেরও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্দ ব্যবসায়ীদের ব্যাংকের দায় পরিশোধে কঠোর হবে সরকার। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের ঋণ আদায় করা হবে। এজন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সম্পদের মালিকানা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন। 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশে দুই শ্রেণির ব্যবসায়ী আছে। একটি ভালো শ্রেণির। অপরটি অসাধু শ্রেণির ব্যবসায়ী। আমরা ভালো ও অসাধু ব্যবসায়ীদের এক কাতারে ফেলব না। ভালো ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে গিয়ে হোঁচট খেতে পারেন। তারা ঝুঁকি নেন ব্যবসা করতে। ঝুঁকি নিয়ে ঋণ নেন। কিন্তু সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা ব্যবসার জন্য চেষ্টা করছেন। তাই তাদের সব ধরনের সহায়তা ও ছাড় দেওয়া হবে। তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। ব্যবসায় যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হবে। আমি এখানে কারো ব্যবসা বন্ধ করতে আসিনি।

সরকার মনে করছে, আসছে অর্থবছরে বাজেটের আকার ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা বাড়বে। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়াতে পারে সাড়ে ৫ লাখ কোটি  টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেট প্রাক্কলিত হয় ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা। যদিও এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। সরকার আগামী ৫ বছরে বিনিয়োগ জিডিপির ৩৭ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য বেসরকারি খাতকে বড় ধাক্কা দিতে হবে। অতীতের তুলনায় বিনিয়োগ বেড়েছে, বর্তমানে এ পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এটা জিডিপির ৩১ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ হার ছিল ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সরকারি বিনিয়োগ বেড়ে হয়েছে জিডিপি-র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সূত্র বলছে, বিগত দিনে ক্ষতিগ্রস্ত যেসব ব্যবসায়ী ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছেন তারা ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিলকৃত ঋণ ১২ বছরে পরিশোধ করা যাবে এবং দিতে হবে ৯ শতাংশ সরল সুদ। অর্থাৎ সুদের ওপর কোনো সুদ ধার্য করা হবে না। তবে মন্দ ব্যবসায়ীরা এর আওতায় আসছে না। সরকার ব্যবসায়ীদের দুইভাবে চিহ্নিত করতে চায়। ভালো বা সাধু ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্নভাবে অনেক বেশি ছাড় দেওয়া হবে। অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ী এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে সব মিলিয়ে একটি মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ তিনবারে ৩৬ মাসের জন্য পুনঃতফসিল করতে পারে ব্যাংকগুলো। আর প্রথমবার পুনঃতফসিলের জন্য ডাউন পেমেন্ট হিসেবে মোট বকেয়ার ১০ শতাংশ, দ্বিতীয়বার ২০ শতাংশ এবং তৃতীয়বার ৩০ শতাংশ দিতে হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, মামলার ভারে জর্জরিত ব্যাংকিং খাত। ঋণ আদায় করতে না পেরে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। কিন্তু সময়মতো এ মামলাও নিষ্পত্তি হয় না। বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এমন লক্ষাধিক মামলা বিচারাধীন। এর বিপরীতে আটকে আছে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা। তবে সরকার এসব ঋণ আদায়ে নবায়নের সুযোগ দিতে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য পুনঃতফসিলের প্রস্তাবিত নীতিমালায় এমন বিধান রাখা হতে পারে। তবে তার আগে এ জন্য ব্যাংক ও গ্রাহককে সমঝোতায় আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাংকের মামলা খরচ পরিশোধ করতে হবে গ্রাহককে। এর পরেই চলমান মামলা স্থগিত করার আবেদন করতে পারবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

বর্তমানে কোনো ঋণ তিন মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ছয় মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সন্দেহজনক এবং নয় মাস মেয়াদোত্তীর্ণ হলে মন্দমানে খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করা হয়। প্রতি পর্যায়ে সময় বাড়িয়ে ছয় মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ১২ মাস মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ সন্দেহজনক এবং দেড় বছর মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা মন্দমানে শ্রেণিকরণ করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে বাড়তি সময় পাবে। এর আগে এক সময় এমন বিধান ছিল। পরে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইএমএফের পরামর্শে ২০১২ সালে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads