• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
আইনে কাটবে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব

ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য

আইনে কাটবে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব

ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ হবে

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ব্যবসা-বাণিজ্যে শৃঙ্খলা আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্যের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সুনির্দিষ্ট আইন করা হচ্ছে। এজন্য একটি আইনের খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিডা থেকে সেটি পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশ আইন কমিশনে। আইন কমিশন সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পর্যালোচনা করতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইনের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতির পথে। আর উন্নত দেশের কাতারে আসবে ২০৪১ সালের মধ্যে। এজন্য বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে হবে। দরকার হবে বড় ধরনের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আসবেন। ফলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা থেকে এক ধরনের বিরোধ কিংবা দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। এ জন্য আইনটির প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেগুলো বিদ্যমান আইনের আওতায় আদালতে সুরাহা হচ্ছে। কিন্তু আলোচ্য আইনটি করা হলে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব সহজে সমাধান হবে।

জানতে চাইলে বিডার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি খসড়া তৈরি করে আইন কমিশনকে দিয়েছি। পৃথিবীর অনেক দেশে এমন আইন রয়েছে। দেশে ব্যবসা ও বাণিজ্য প্রসার করতে কিছু আইনি সংস্কার আমাদের করতে হবে। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয় আইনের আওতায়।

দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। অর্থনীতির চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্তরে আটকে আছে। টাকার অঙ্কে বাড়লেও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়ছে না। সরকারের নানা উদ্যোগেও খুব বেশি সুফল আসছে না এ ক্ষেত্রে। এমন পরিস্থিতিতে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সূত্রগুলো বলছে, দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি রেকর্ড ছুঁয়েছে। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি প্রশ্নের মুখে, কারণ কর্মসংস্থান বাড়ছে না বলে। কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে নিতে আট সূচকে সরকারের নজর দরকার। এই আটটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হবে। ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশের কাতারে উঠে আসবে। ইতোমধ্যে ব্যবসার পরিবেশ, বিনিয়োগে গতি আনতে মূলধন জোগান, বিদ্যমান অবকাঠামো পরিস্থিতির উন্নয়ন, টেকসই নগরায়ণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণকে সহায়তা, তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধিতে নীতিসহায়তা, ব্যবসায়ের জন্য কর কাঠামো সংস্কার এবং ব্যাংক খাতের উন্নয়নে সরকারের স্পষ্ট পদক্ষেপ আসতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য হয়ে উঠেছে অন্যতম নিরাপদ স্থান। গত বছর সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। অথচ এই সময়ে পৃথিবীর অনেক দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে। বিনিয়োগের এই ধারাকে আরো গতিশীল করতে হবে। এরই মধ্যে মিতসুবিসি, জাপান টোবাকো, সুজকি, টয়োটা, হোন্ডা, সুমিটোমা, রিলায়েন্স, আদানি গ্রুপ, হিটাচি, আলিবাবা, এক্সিলারেটরের মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে শুরু করেছে। গত দুই বছরে এসব কোম্পানি তার বিনিয়োগ প্রসার করতে শুরু করেছে বাংলাদেশে। আগামীতে আরো কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন। অনেক বিদেশি বিনিয়োগ আসছে বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নানা কারণে ব্যবসায়িক সম্পর্ক টেকে না, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সরকার চাইছে এসব বিরোধ শৃঙ্খলায় আনতে।

নতুন মেয়াদে দায়িত্ব দিয়ে সরকার বেসরকারি খাতকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে চায়। এ জন্য যা যা করা দরকার সব করার পক্ষে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি সরকারের অন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন।

গত এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো দেশে শিল্পমেলার আয়োজন করা হয়। সপ্তাহব্যাপী এই বড় আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে সময় বলেন, আমরা তো বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বেসরকারি খাতকে আমাদের সংবিধানেই স্বীকৃতি দেওয়া আছে। আমি সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতটা সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত করে দিয়েছি। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা সার্বিক হিসাবে আছে দেশে ৭৮ লাখের মতো শিল্প-কারখানা বেসরকারি খাতে আছে। প্রতিবছর সেখানে যদি একটা মানুষ কাজের সুযোগ পায় তাহলে ৭৮ লাখ লোক তো কাজ পাবে।

বিশ্বব্যাংক একটি দেশের ব্যবসার পরিবেশ কেমন তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রতিবছর ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম অবস্থানে। আগের বছরের চেয়ে উন্নতি হয়েছে মাত্র এক ধাপ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ১৬৭তম অবস্থানে চলে গেছে। এ সূচকে ২০০৮ সালেও ১১৫তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। এরপর শুধু পিছিয়েছে। তবে চলতি বছরই এই সূচকে বড় উল্লম্ফন চায় সরকার। আর আগামী বছর ৫০তম দেশের কাছাকাছি আসতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। এজন্য আমরা নির্বাচনের আগে অবস্থানে নিয়েছিলাম সরকারের ধারাবাহিকতায়। আশা করি, সরকারের পদক্ষেপে বেসরকারি খাত আরো গতি পাবে। প্রসার লাভ করবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads