• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
বাজেট পাসে ব্যর্থ আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রে আবারো অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে আবারো অচলাবস্থা

ছবি : ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্র

বাজেট পাসে ব্যর্থ আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রে আবারো অচলাবস্থা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

আইনপ্রণেতারা বাজেট পাসে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক ‘শাট ডাউন’ (আর্থিক বরাদ্দ বন্ধ) বা অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। বাজেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরিতে ৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল দাবি করে। এ কারণে বাজেট পাসে রাজি হচ্ছেন না আইনপ্রণেতারা। ট্রাম্পও বলেছেন, সীমান্ত দেয়ালের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া না হলে তিনি বাজেটে সই করবেন না। ফলে এই শাট ডাউন।

বাজেট পাস না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর চার ভাগের এক ভাগের জন্য তহবিল বরাদ্দ গতকাল শনিবার প্রথম প্রহর অর্থাৎ শুক্রবার রাত ১২টা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্বরাষ্ট্র, নিরাপত্তা, পরিবহন, কৃষি, রাজ্য ও বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। এ ছাড়া, বন্ধ হয়ে যায় জাতীয় পার্ক এবং বনও। এ নিয়ে চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো দেশটিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এর মেয়াদ কত দিন হতে পারে, তা নিশ্চিত নয়।

অচলাবস্থা কার্যকর হওয়ায় শত শত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়তো বেতন ছাড়া কাজ করতে হবে অথবা সাময়িক ছুটিতে যেতে হবে। অচলাবস্থার শুরুর কিছু আগে টুইটারে প্রকাশ করা এক ভিডিও ভাষণে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই সমস্যার সমাধান এখন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের হাতে। তবে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পকে দোষারোপ করে বলেছেন, তিনিই এই অচলাবস্থাকে  উসসে দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। তার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সমঝোতার অভাবে কখনো কখনো কংগ্রেস তা পাস করতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থায় অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনার তহবিল জোগান দেওয়া হয়। অস্থায়ী এই বাজেট বরাদ্দ করতে হলে, দুই কক্ষের অনুমোদনসহ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর অপরিহার্য। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ১৩০ কোটি ডলার বাজেট বরাদ্দের একটি বিল অনুমোদন করে। সে সময় হোয়াইট হাউজের পক্ষে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বিলটি অনুমোদন করা হবে। তবে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ট্রাম্প বিলটিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান।  ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সমঝোতার অভাব এবারই প্রথম নয়। এর আগেও কয়েক দফায় নির্ধারিত সময়ে অস্থায়ী বাজেট পাস করা সম্ভব হয়নি। এবার অভিবাসন ও দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে সমঝোতার অভাবে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রিমারদের (শৈশবে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী) সুরক্ষা প্রশ্ন সামনে এনে এ বছরের জানুয়ারিতে বাজেট অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানায় ডেমোক্র্যাট সিনেটররা।

তিন দিন ধরে অচলাবস্থার পর তিন সপ্তাহের জন্য একটি ব্যয় বিল পাসের ব্যাপারে সম্মত হয় আইনপ্রণেতারা। এরপর ফেব্রুয়ারিতেও কয়েক ঘণ্টার জন্য অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। গতকাল শনিবার থেকে দেশটিতে তৃতীয় দফার অচলাবস্থা শুরু হলো। তবে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, উগ্র ডানপন্থিদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতি নিজের অঙ্গীকার প্রমাণ করতেই ট্রাম্প  দেয়াল নির্মাণের অর্থ বরাদ্দের প্রশ্নে এমন অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে এ সংক্রান্ত আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, বরাদ্দ প্রশ্নে যদি অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে হয়, তাহলে তিনি ‘গর্ববোধ’ করবেন। তবে শুক্রবার তিনি সব দায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ, উচ্চ সুদের হার ও সম্ভাব্য সরকারি শাট ডাউনের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার শেয়ারবাজারের প্রায় প্রতিটি ইনডেক্স তলানির কাছাকাছি চলে আসে। শীর্ষ স্থানে থাকা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নাসডাকের শেয়ারের অবস্থান ২০ শতাংশ কমে গেছে। দ্য ডো জনস তাদের শেয়ারে সবচেয়ে বড় দরপতন দেখেছে গত সপ্তাহে। দ্য এস অ্যান্ড পির শেয়ার পড়ে গেছে সাত শতাংশ।  ২০১১ সালের আগস্টের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এটিই সবচেয়ে বড় দরপতন। ২০০৮ সালের নভেম্বরের পর সেবার নাসডাকের শেয়ারের পতন হয়েছিল ৮.৩৬ শতাংশ। আর ডো জনসের পতন হয়েছিল ৬.৮ শতাংশ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads