• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প

আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প

ছবি : ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার চার দিনের মাথায় গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। সিরিয়া থেকে ২ হাজার মার্কিন সেনা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিতে গিয়ে এর স্বপক্ষে ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছিলেন— আইএস জব্দ হয়েছে, তাই আর সেখানে সেনা রাখার কোনো যুক্তি নেই। তার এই ঘোষণায় ঝড় উঠেছিল ঘরে-বাইরে। বেঁকে বসেছিলেন খোদ প্রেসিডেন্টের ‘কাছের লোক’ হিসেবে পরিচিত প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস। ম্যাটিসের পর-পরই ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন আইএস-বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের মার্কিন প্রতিনিধি ব্রেট ম্যাকগার্ক। ট্রাম্প তবু অনড়। এমনকি, আফগানিস্তান থেকেও অর্ধেক সেনা সরানোর কথা ঘোষণা করেছে তার প্রশাসন।

অথচ আন্তর্জাতিক মহলের একটা বড় অংশ বলছে, সিরিয়া থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত হটকারিতা। সে দেশের এখনো কয়েকটি ঘাঁটিতে বেশ সক্রিয় জঙ্গিরা। এই অবস্থায় মার্কিন সেনা না থাকা মানে দু’টি সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে আইএস। এবং দ্বিতীয়ত, হঠাৎ তৈরি হওয়া শূন্যস্থান দখলে মরণ কামড় দিতে পারে রাশিয়া।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আজ চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। সিরিয়া এবং ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন সেনা জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ফ্রান্স। মাক্রোঁর কথায়, ‘একজোট হয়ে যুদ্ধ মানে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই। মাঝ পথে ময়দান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ হয় না। এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।’ আইএস যে পুরোপুরি নির্মূল হয়নি, ট্রাম্প নিজেও সেটা মানছেন। তবু ফ্রান্সে নয়, বাকি যুদ্ধ জয়ে তিনি ভরসা রাখছেন তুরস্কের উপরে। গতকাল তিনি টুইট করেন, ‘তুর্কি প্রেসি়ডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান নিজে আমাকে কথা দিয়েছেন, আইএসের শেষ দেখে ছাড়বেন। এবং আমার মনে হয়, এই কাজটা শুধু তিনিই পারবেন।’ তারপরেই তিনি এক লাইন লেখেন—‘আমার সেনারা ঘরে ফিরছে।’

ট্রাম্পের এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে অনেকে বারাক ওবামার পদাঙ্ক অনুসরণ বলছেন। মুসলিম দুনিয়ায় জর্জ ডব্লিউ বুশের সেনা মোতায়েনকে চ্যালেঞ্চ করেই হোয়াইট হাউসে এসেছিলেন ওবামা। ২০১১ সালে ইরাক থেকে সেনা তুলে নেন তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালে ফের মসুলের দখল নেয় জঙ্গিরা। আবারো নামে মার্কিন সেনা। ট্রাম্পের সিরিয়া-সিদ্ধান্তকেও কূটনীতিকদের অনেকে ‘রাজনৈতিক’ বলছেন। তাদের দাবি, সবটাই ভোটের কথা মাথায় রেখে। আইএস নিধন ছাড়া আমেরিকার কখনোই কোনো সুস্পষ্ট সিরিয়া-নীতি ছিল না বলেও জানিয়েছেন তারা।

ট্রাম্প তার সিরিয়া-ফেরত সেনাদের অভ্যর্থনা জানানোর মেজাজে। এদিকে তার প্রশাসনেরই এক রিপোর্ট বলছে, সিরিয়ায় এখনো ১৪ হাজারেরও বেশি আইএস জঙ্গি রয়েছে। প্রতিবেশী ইরাকে আরো বেশি। কাঁটা তাই থাকছেই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads