• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
ads

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থা নিরসনে দুটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৬ জানুয়ারি ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আংশিক অচলাবস্থা (শাটডাউন) নিরসনে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত দুটি প্রস্তাবই খারিজ হয়ে গেছে। এদিন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে আলাদা করে প্রস্তাব দুটি উত্থাপিত হয়েছিল। ৫০-৪৭ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয় রিপাবলিকান বিল। আর ডেমোক্র্যাট দলীয় বিলটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে ৫২-৪৪ ভোটে। পাস করানোর জন্য প্রত্যেকটি প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত ৬০টি করে ভোট থাকতে হতো। বিল দুটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় সহসা অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাবনাও ম্লান হয়ে গেল। সিএনএনের খবর।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে বরাদ্দ অনুমোদনের প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সমঝোতা না হওয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারে চলছে আংশিক শাটডাউন। দেশটির ৮ লাখ সরকারি কর্মীকে ঘরে থাকতে কিংবা বেতন ছাড়া কাজ করতে বলা হয়েছে। তারপরও দেয়াল নির্মাণের প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সিনেটে দুটি বিল উত্থাপন করতে সম্মত হয় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা।

রিপাবলিকানদের উত্থাপিত বিলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সব শাখায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ ও অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের কথাও বলা হয় ওই প্রস্তাবে। আর ডেমোক্র্যাটদের বিলে সরকারকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অস্থায়ী বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্কের সুযোগ তৈরি করতে এ অস্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে জানানো হয়। ছয় রিপাবলিকান নিজেদের দলের অবস্থানের বাইরে এসে ডেমোক্র্যাট বিলকে সমর্থন দিয়েছেন। আবার এক ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর রিপাবলিকান বিলকে সমর্থন দিয়েছেন। 

এদিকে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে বরাদ্দ না রাখা হলে তিনি কোনো বিলে স্বাক্ষর করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান মোতাবেক, কোনো বিলকে আইনে পরিণত করতে হলে সেটিতে অবশ্যই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগবে। আর সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে ট্রাম্পকে বরাদ্দ দিতে কোনো অবস্থাতেই রাজি নয় ডেমোক্র্যাটরা। এমন অবস্থায় আংশিক অচলাবস্থা নিরসনের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। তার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও সমঝোতার অভাবে কখনো কখনো মার্কিন কংগ্রেস তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থায় অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনার তহবিল জোগান দেওয়া হয়। অস্থায়ী এই বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের অনুমোদনসহ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের তিন-চতুর্থাংশ কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ বরাদ্দ করা আছে। বাকি এক-চতুর্থাংশের বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ায় অচলাবস্থা ঠেকাতে গত ২১ ডিসেম্বর নতুন অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দ ছিল অপরিহার্য। তবে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সৃষ্টি হয় ‘অচলাবস্থা’। বরাদ্দ কম পড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১৫টি কেন্দ্রীয়

দফতরের মধ্যে ৯টিতে তখন থেকে আংশিক শাটডাউন চলছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads