• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads
আগমনী নিশান উড়িয়েছে শীত

রাজধানীতে গতকাল সকালে সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশা আর শিশিরভেজা প্রকৃতি ভিন্ন রূপে ধরা দেয় নগরবাসীর কাছে

ছবি : রাকিব হাসান

আবহাওয়া

আগমনী নিশান উড়িয়েছে শীত

  • তপু রায়হান
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৮

রাজধানীর অনেক এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বুধবার সকালটা একটু ভিন্ন ছিল। অনেকের ঘুমভাঙা চোখ আটকে গেছে জানালার ঝাপসা কাচে। সাড়ে ৭টার আগে মিহি কুয়াশায় ঢাকা আর শিশিরভেজা পথে নেমে অবাক হয়েছেন অনেকে। মেঘহীন আকাশে সূর্যের দেখাও মিলেছে দেরিতে। এর সঙ্গে শেষরাতের শীত শীত অনুভূতিটাও অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, প্রকৃতির এই অবস্থা শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। বুধবারের মাঝারি কুয়াশা উড়িয়ে দিয়েছে এই শহরে আসন্ন শীতের নিশান।

বুধবার রাজধানীর বছিলা এলাকায় দেখা যায়, কুয়াশায় চারপাশ ছেয়ে গেছে। ২০ মিটার দূরের বস্তুও ঝাপসা দেখায় ৭টার আগে। বুড়িগঙ্গা নদীর এপার থেকে ওপারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। একই অবস্থার কথা জানা গেছে মিরপুর, উত্তরা, হাতিরঝিল ও বনশ্রী এলাকারও। সকাল ৮টার দিকেও হাতিরঝিল এলাকায় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালনার দৃশ্য চোখে পড়েছে।

নগরবাসীর অনেকেরই ভাষ্য, বুধবারই রাজধানী জুড়ে অন্যান্য দিনের  তুলনায় বেশি কুয়াশা দেখা গেছে। শেষরাতে কেউ কেউ ফ্যান বন্ধ করে গায়ে কাঁথা জড়িয়েছেন। তবে গরম কাপড় পরার মতো শীত এখনো আসেনি বলে মনে করেন তারা।

আর আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রাজধানীতে বুধবার সকালের এই কুয়াশার পেছনে আছে মঙ্গলবার সকালে নামা ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। তবে মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় যেহেতু ইতোমধ্যে শীত পড়তে শুরু করেছে তাই মধ্যাঞ্চলেও কয়েক দিনের মধ্যেই শীত নামতে শুরু করবে। আর রাজধানীতে শীত আসবে চলতি মাসের শেষের দিকে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, এ সময় যে কুয়াশা পড়ে তা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে না। ভোর থেকে সকাল ৯টা-১০টার মধ্যেই তা চলে যায়। ডিসেম্বরের শেষ থেকে এবং জানুয়ারি মাসে যে কুয়াশা পড়ে তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ওই সময়ের কুয়াশার ঘনত্ব থাকে বেশি। তবে এই কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত আসছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের নভেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের নদী অববাহিকাসহ বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ মাসে দিন ও রাতে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে। এ মাসে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং দৈনিক গড় সূর্যকিরণ কাল সাড়ে ৬ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৭  ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads