• মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রতীকী ছবি

আবহাওয়া

গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন

সোমবার বৃষ্টির সম্ভাবনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ মে ২০১৯

আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার রাজধানীতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে এই দুদিন তাপমাত্রা একই থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা বাড়তে পারে। তবে রোববার থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির মাধ্যমে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় আবহাওয়া অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার তাপমাত্রা প্রায় এমনই থাকতে পারে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ আবদুর রশীদ জানান, আগামী দুই দিনেও রাজধানীতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।

এদিকে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক দিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এর আগে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এরপরই ওই সব স্থানে তাপপ্রবাহ কমে যায়। তবে এরপর আবারো বেড়ে যায় গরম। তীব্র গরমে দেশের কয়েকটি জায়গায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই।

অন্যদিকে রাজধানীর মানুষ রয়েছে অন্য ভোগান্তিতে। শহরে রয়েছে খাবার পানির সঙ্কট। মানুষ খাবার পানির চাহিদায় রাস্তার পাশে দূষিত পানি ও শরবত পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ জন্যই সামান্য বৃষ্টির প্রয়োজন রাজধানীবাসীর। আর এই তীব্র গরমের মধ্যেই খানিকটা স্বস্তির খবর দিল আবহাওয়া অফিস।

‘কইতে পারেন কহন বৃষ্টি অইবো’ : ‘স্যার, গরমে তো চান্দি গরম, আপনেরা তো শিক্ষিত মানুষ, কইতে পারেন কহন বৃষ্টি অইবো।’

গতকাল দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে যানজটে আটকে থাকা সিরাজ মিয়া নামের এক রিকশাচালক গামে ভিজে পাশে মোটরসাইকেলে থাকা একজনকে এমন প্রশ্ন করেন। রিকশাচালক সিরাজ মিয়ার মতো গরমে নাভিশ্বাস সব শ্রেণি-পেশার মানুষের।

এদিকে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন মগবাজার, মালিবাগ, বাংলামোটর ও শাহবাগ ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড তাপে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ রীতিমতো হাঁপাচ্ছেন। দরদর করে ঝরছে ঘাম। অনেকে রোদের তাপ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করলেও ঝলসানো রোদে তারাও ঘামছেন।

দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, গরমে ক্লান্ত হয়ে রিকশাচালকদের কেউ কেউ রিকশার ওপরে ঘুমাচ্ছেন আবার কেউবা রিকশার পাশেই বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

ছুটির দিনে তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে স্কুলশিক্ষকের কাছে কোচিং করাতে নিয়ে এসেছিলেন কলাবাগান বশিরউদ্দিন রোডের বাসিন্দা তারান্নুম কবীর। তিনি বলেন, মেয়ের কোচিং শেষে বাসায় যাব। রোজা রেখে এই গরমে টেকা দায়।

আবার রমজানের প্রথম শুক্রবার জুমার নামাজে প্রতিটি মসজিদে ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। নামাজ শেষে অনেককেই ঘামে ভিজে মসজিদ থেকে বের হতে দেখা গেছে।

বাংলামোটরে ঢাকা কলেজের ছাত্র সোহাগ মোল্লা বলেন, দেশে সবকিছু বেশি। ফণীর প্রভাবে কিছুটা ঠান্ডা পেয়েছিলাম। পরে সেই গরম। পরিবেশের এমন বিরূপ আচরণের মূল কার্যকারণ খোঁজা জরুরি বলে মত দেন তিনি।

হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়েছে : দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মাঝে চলতি মাসে আরো একটি তীব্র ও দুটি মৃদু তাপপ্রবাহের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এই গরমে ঝুঁকি বেড়েছে হিটস্ট্রোকের। এজন্য বয়স্ক ব্যক্তিদের এবং নারী শিশুদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা। তাদের মতে, গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি ছাড়াও রয়েছে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা। তাছাড়া এ সময় ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপও বাড়ে।

চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে মানুষের শরীরে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে হিটস্ট্রোক হতে পারে। সাধারণত মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রক্ত ভূমিকা রাখে। আবহাওয়া উষ্ণ হলে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং শরীরের তাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে হিটস্ট্রোক হয়। এটাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই, হিটস্ট্রোকের কারণে মৃত্যুও হতে পারে।

এদিকে তীব্র গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চার হাজার ৩৩৮ জন। এর মধ্যে ১ মে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৯৪ জন, ২ মে ৭০১ জন, ৩ মে ৫৪৯ জন, ৪ মে ৫৩৩ জন, ৫ মে ৬২৭ জন, ৬ মে ৬৩৯ জন এবং ৭ মে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৯৫ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬২০ জন।

এদিকে আবহওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে আরো গরম বাড়ার খবর। চলতি মাসের সামনের দিকে তাপমাত্রা আরো বাড়বে। সামনের দুই সপ্তাহে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ অর্থাৎ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং অন্য অংশে ১-২টি মৃদু অর্থাৎ ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা মাঝারি অর্থাৎ ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভগের অধ্যাপক ডা. ইফফাত আরা শামসাদ বলেন, গরমে শিশুরা সর্দি, ঠান্ডা, জ্বর ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয় বেশি। এ সময় শিশুদের পাতলা কাপড় পরাতে হবে, নিয়মিত গোসল করাতে হবে। কিছুক্ষণ পরপর প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে। কোনোভাবেই যেন শরীরে পানিস্বল্পতা তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, গরমের এই সময় শিশুদের ঘামাচি হয় বেশি। ঘামাচি হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। শিশুদের স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে। কোনো ধরনের গুরুপাক খাবার দেওয়া যাবে না। শিশু যদি বুকের দুধ পান করে, তাহলে মায়েদের আরো বেশি পানি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads