• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৫
ads
সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ে নিহত ৯

ছবি : সংগৃহীত

আবহাওয়া

সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ে নিহত ৯

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৮ মে ২০১৯

রাজধানীতে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে নামাজরত অবস্থায় এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। নিহতের নাম শফিকুল ইসলাম (৩৬)। এ ছাড়া ইফতারের আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে রেজাউল হোসেন (৪০) ও মোতালেব হোসেনের ছেলে মো. মুসা (৩৫)। আহত হয়েছেন একই এলাকার হজরত আলী (৬০)। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে হঠাৎ দমকা বাতাস ও ঝড়ে রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় দেয়ালচাপা পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যায় ইফতারের পরপর হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া রাজশাহীতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঝড়ে ইট খসে পড়ে এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত হন।

ঝড়ে প্যান্ডেল ভেঙে বায়তুল মোকাররমে নিহত ১, আহত ১৫ : রাজধানীর হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে নামাজরত অবস্থায় এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। একজন পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। নিহতের নাম শফিকুল ইসলাম (৩৬)। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ করে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার বলেন, ‘বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে নামাজের জন্য তৈরিকৃত একটি প্যান্ডেল বাতাসে ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া জানান, ঝড়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে শফিকুল ইসলাম নামে একজন মারা গেছেন। তার মরদেহ হাসপাতালেই রয়েছে। একই ঘটনায় নগর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এএসআই শরিফুল ইসলাম (৩৬) ছাড়াও রফিউজ্জামান (২৪), মনিরুল ইসলাম (৩০), আবদুল কুদ্দুস (৩৪), জানে আলম (২২), সাদিকুর রহমান (২৭), তারেক রহমান (৩৫), মাসুদ (২৬), জহিরুল ইসলাম (২৮), সজীব (২৫), আওয়াল (২৮), বিপ্লব (২৪) ও আমিন উল্লাহ (২৬) আহত হয়েছেন। তবে তাদের কেউই গুরুতর আহত হননি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় নিহত ৪ : ইফতারের আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে রেজাউল হোসেন (৪০) ও মোতালেব হোসেনের ছেলে মো. মুসা (৩৫)। আহত হয়েছেন একই এলাকার হজরত আলী (৬০)। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে রেজাউল ও মুসা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আহত হজরত আলীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

অপরদিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই ধানকাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গানুইর গ্রামে মালিপুকুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের গানুইর গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে শফিনুর রহমান বিষু (৩২) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার পিঠাইল গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে হাসান আলী (৩০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গানুইর গ্রামের মালিপুকুর মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলেন বুলবুল হোসেন, শফিনুর রহমান ও হাসান আলীসহ কয়েকজন। দুপুরের পর ছিল আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অন্ধকার নেমে আসে এবং ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এতে শ্রমিকরা মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ করেই বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই শফিনুর রহমান ও হাসান আলী মারা যান। এ সময় বুলবুল হোসেন আহত হন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাড্ডায় দেয়ালধসে নিহত ৩ : হঠাৎ দমকা বাতাস ও ঝড়ে রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় দেয়ালচাপা পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের পরপর হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, মধ্যবাড্ডায় প্রাণ সেন্টারের পাশে একটি দেয়ালধসে তিনজন আহত হন। এর মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ও একজনকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনজনই নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।

রাজশাহীতে মাথায় ইট পড়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু : রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় কালবৈশাখীর ঝড়ে মাথায় ইট পড়ে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহতের নাম আবদুস সোহবান সরকার (৬৫)। তিনি বানেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

পুঠিয়া থানার ওসি শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, বিকেলে পুড়িয়া বাজারে আবদুস সোহবান তার নিজস্ব আড়তে বসে ছিলেন। এ সময় কালবৈশাখীর ঝড়ে দোকানের একটি ইট খসে তার মাথায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

এ সময় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকায় ৯৩ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় :

ইফতারির পর হঠাৎ ৯৩ কিলোমিটার বেগে রাজধানীর ওপর দিয়ে বয়ে গেল কালবৈশাখী ঝড়। জৈষ্ঠ্য মাসে এমন আরো কালবৈশাখী মাঝে মধ্যে হানা দেবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, ঢাকায় মৌসুমের বড় ধরনের কালবৈশাখী হয়ে গেল শুক্রবার সন্ধ্যায়। এ ঝড়ের সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ৯৩ কিলোমিটার। দেশের অন্যান্য স্থানেও এ ঝড় বয়ে গেছে।

হঠাৎ এ ঝড় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেশ তাণ্ডব চালিয়ে গেছে প্রকৃতিতে। ভেঙে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা, গাছপালা। উড়িয়ে নিয়ে গেছে চাল। ইফতারির পরপরই হওয়ায় ঘরে ফেরা অনেক মানুষও বেশ বিপাকে পড়ে এ ঝড়ে। সঙ্গে দমকা বৃষ্টি থাকায় ভোগান্তি আরো বাড়ে।

কদিনের তীব্র গরমের পর এ ঝড়-বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি আতঙ্ক হয়ে দেখা দেয় রাজধানীবাসীর। ব্যাপক সতর্কতা থাকার পরও ঘূর্ণিঝড় ফণীর সময়ে বাতাসের গতিবেগ এতো ওঠেনি রাজধানীতে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৈশাখটা যেমন খরতাপে কেটেছে, জৈষ্ঠ্যটাও একইভাবে কাটবে। মাঝে একটু আধটু বৃষ্টিপাত কিছুটা আরাম দিলেও দিনের বেলায় সূর্য তার তেজ নিয়েই হাজির হবে। ফলে তাপমাত্রার তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।

রাজধানীর এ বৃষ্টিপাত বেশিক্ষণ চলবে না। কিছুটা তাপ কমবে। আবার বাড়বে। এভাবেই চলবে। খুলনা ও ঢাকার কিছু কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। এটা অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়া অধিদফতর এক পূর্বাভাসে আরো জানিয়েছে, সাগরে লঘুচাপ আছে। সোমবার নাগাদ তাপমাত্রা আরো বাড়বে। তবে আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও কিছুটা বাড়বে। আর শনিবার সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে এবং রংপুর, রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো অথবা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া দেশের সর্বত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও আকাশ মেঘলা থাকবে। তবে কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষণের কোনো সতর্কতা নেই।

গতকাল শুক্রবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি। আর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজারহাটে, ৩৭ মিলিমিটার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads