• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮
লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া

ছবি: বাংলাদেশের খবর

আবহাওয়া

লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৭ জানুয়ারি ২০২১

ঘন কুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়া বইছে হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থিত লালমনিরহাট জেলায়। গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। সড়কে লাইট জালিয়ে চলছে যানবাহন। বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

রাতে বাড়ে শীতের ঘনত্ব আর সকাল থেকে বিকাল গড়িয়ে গেলেও দেখা মিলে না সূর্যের। ঠান্ডার দাপট বেড়েছে কয়েকগুণ। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও শীতের ঘনত্বের সাথে হিমেল হাওয়া যুক্ত হয়ে ঠাণ্ডা বেড়েছে কয়েকগুণ। তীব্র কুয়াশায় সড়কে লাইট জালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

আজ রোববার দিনের মধ্যভাগে সূর্যের দেখা মিললেও অল্প সময়ের মধ্যে আবারও কুয়াশায় ঢেকে যায়। শীতের তীব্রতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে জেলার প্রায় অর্ধশত চরাঞ্চলের হাজার হাজার ছিন্নমুল পরিবার। শ্রমজীবী মানুষ তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশাকে উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করছেন। সকালে পর্যন্ত হাট বাজার বিপণীবিতান ও সড়কগুলোতে মানুষের আনাগোনা কম থাকলেও ১০টার পর কাজের জন্য ঘরের বাইরে বের হয় মানুষ। ফুটপাত ও পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষদের ভিড়। 

ভ্যান চালক আব্দুল মালেক জানান, শীতের ভয়ে ঘরে বসে থাকলে তো পেটে ভাত যাবে না। পরিবারের সদস্যদের খাবার যোগাড় করতেই ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি।

রিকশাচালক বেলাল হোসেন জানান, পেটের দায়ে তীব্র শীতেই রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। তবে যাত্রী না থাকায় দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৭৫ টাকা আয় হয়েছে। এভাবে দিন শেষে যা আয় হবে তা দিয়েই চলবে সংসার। 

তিস্তা গোবর্দ্ধন চরের সিরাজুল, আতিকুল ও নেছার আলী বলেন, শীতের সময় চরাঞ্চলে ঘরেও থাকা কষ্টকর। বাঁশ ও ভাঙা বেড়া দিয়ে শীত ঘরে ঢুকে বিছানাও হিম হয়ে যায়। ঠান্ডার কারণে ঘুমও হয় না। সকালেই আবার এই ঠাণ্ডাতেও পেটের দায়ে মাঠে কাজ করতে হয়।

জেলার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি গ্রামের শাহিনা,আবুল হাসেম ও মইনুদ্দিন বলেন, এমন ঠান্ডা কখনই দেখি নাই। সারা শরীর শুধু কাঁপছে। গাছের পাতা ও খড় কুটায় আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছি।

এদিকে শীতার্ত মানুষদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে শীত বস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ অব্যহত রয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বলের পাশাপাশি শিশুদের জন্য সোয়েটার বিতরণের দাবি জানিয়েছেন শীতার্ত ছিন্নমুল মানুষজন। 

তীব্র শীতের কারণে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’গুলোতে ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠাণ্ডাজনিত সর্দ্দি-জ্বর, কাশি, নিউমেনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সকল হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়। 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, সরকারিভাবে ৪০ হাজার ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ১০ হাজার মিলে মোট ৫০ হাজার পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শিশুদের জন্যও সোয়েটারের বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত বিতরণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads