• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads

অতিরিক্ত চাহিদায় বাড়ছে দূরত্ব

বিদেশ

খরুচে স্ত্রী, তাই বিচ্ছেদ চান মেয়র

  • প্রকাশিত ২৮ নভেম্বর ২০১৭

স্ত্রী অত্যন্ত খরুচে স্বভাবের, আর ব্যয় বহন করতে পারছেন না, তাই মুক্তি চান মেয়র।  নিম্ন আদালতের কাছে কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী প্রতীমপ্রিয় দাশগুপ্ত এমনটাই জানিয়েছেন।

গত সোমবার কলকাতার মেয়র এবং রাজ্যের দমকল ও আবাসনমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা আলীপুরের জেলা ও দায়রা জজ সুরঞ্জন কণ্ডুর আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

ওই দিন মেয়রের আইনজীবী প্রতীমপ্রিয় দাশগুপ্ত আদালতকে জানান, ২০০৬ সাল থেকে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা নেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের।  তার স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত খরুচে স্বভাবের। তার চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতেন তিনি।

মেয়র সব সময় তার প্রয়োজন মেটালেও প্রায়ই অন্যের চেকের টাকা তুলে নিতেন রত্না।  দেশের বাইরে গেলেও স্ত্রীর খরচের জন্য টাকা রেখে যেতেন শোভন।  এসব কারণে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না।  তাই বিবাহবিচ্ছেদ চাইছেন তিনি।

আদালত এ মামলার শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আগামী ১৩ ডিসেম্বর।  একই সঙ্গে মামলাটির বিচারের জন্য পাঠানো হয় আলীপুরের ষষ্ঠদশ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের আদালতে।

আদালতে মেয়রের আইনজীবী জানান, শোভন চট্টোপাধ্যায় তার ১৩ বছরের মেয়ের দায়িত্ব নিতে চান। নিজের কাছে রাখতে চান।  সেই মর্মে আবেদনও করেছেন।  তবে ২১ বছরের ছেলে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।  কারণ ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক।

মেয়রের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী শুভাশিস দাশগুপ্ত আদালতে জানান, তার মক্কেল আগামী ১৩ ডিসেম্বর আদালতে লিখিত বক্তব্য পেশ করবেন।

১৩ নভেম্বর শোভন চট্টোপাধ্যায় তার স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পারিবারিক হিংসা ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করেন।  কলকাতার আলীপুরের দায়রা আদালতে মামলাটি করেন তিনি।  আগামী ১৯ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।  যদিও এই মামলার আগে শোভন চট্টোপাধ্যায় থানায়ও আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় কলকাতার চাঞ্চল্যকর নারদ কেলেঙ্কারি মামলায় জড়িয়ে আছেন।  তার বিরুদ্ধে রয়েছে পাঁচ লাখ রুপি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।  গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির নারদনিউজ ডটকম নামের একটি নিউজ পোর্টাল ফাঁস করে ১৩ জন তৃণমূল নেতা, সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী, এক পুলিশ কর্মকর্তা এবং কলকাতা মেয়রের গোপনে অর্থ নেওয়ার ছবি।  ফাঁস হওয়ার পর মেয়রের স্ত্রী কলকাতার নিউমার্কেট থানায় গত জুনে নারদনিউজ পোর্টালের কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন।

এদিকে এই নারদ কেলেঙ্কারির মামলা চলে যায় ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এবং ইডির হাতে।  এ মামলায় তদন্তের স্বার্থে মেয়রকে ডাকা হয় সিবিআই এবং ইডি দপ্তরে।  শোভন চট্টোপাধ্যায় জেরায় জানিয়েছিলেন, স্ত্রীই তার সব হিসাবপত্র দেখেন।  ডাক পড়ে মেয়রের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়েরও।  কিন্তু গত জুলাই মাস থেকে চিকিৎসার জন্য রত্না চট্টোপাধ্যায় লন্ডনে থাকায় তিনি হাজিরা দিতে পারেননি।  চলতি মাসের প্রথম দিকে তিনি ফিরে আসেন কলকাতায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads