• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads

বিদেশ

ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দিহান নয় টিলারসন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৬ জানুয়ারি ২০১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে আলোচিত এক বইয়ে প্রশ্ন উঠলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, এ বিষয়ে তার মনে কখনোই প্রশ্ন জাগেনি।
প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কখনোই সন্দিহান ছিলেন না বলেও জানান তিনি, খবর বিবিসির।

‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি: ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’-এর লেখক সাংবাদিক মাইকেল ওলফ ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সন্দেহ আছে দাবি করার পর হোয়াইট হাউজের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেন।

বইটির প্রকাশ ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টার কথাও জানিয়েছিল মার্কিন গণমাধ্যম, যে কারণে শুক্রবার থেকে এর আগাম বিক্রিও শুরু হয়েছে।

ওলফের দাবি, বইতে থাকা প্রায় দুইশ সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তিনি ট্রাম্পের ‘শিশুসুলভ’ চরিত্রের ধারণা পেয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন, ‘মিথ্যায় ভরপুর’ বইটি গণমাধ্যম ও অন্যদের তার বিরুদ্ধে উসকে দিতে পারে।

“তাদের উচিত ছিল নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করা। দুঃখজনক,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার টিলারসন সিএনএনকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তার কখনোই সন্দেহ ছিল না।

উত্তর কোরিয়া ও ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টিলারসনের দূরত্ব এবং তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে গত বছর মার্কিন গণমাধ্যমে ছিল নানান আলোচনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রী একবার ট্রাম্পকে ‘নির্বোধ’ ডেকেছিলেন বলেও বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিলারসন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান। বলেন, ২০১৮ সালের পুরোসময় দায়িত্বে থাকার ব্যাপারেও তিনি আত্মবিশ্বাসী।

“কোনো কারণ নেই, তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার। ট্রাম্প যে অতীতের তথাকথিত প্রেসিডেন্টদের মতো নন, এটা স্বীকৃত বলেই ধারণা করছি। একই কারণেই মার্কিন জনগণ তাকে পছন্দ করেছে,” বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি: ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’ বইয়ের লেখক মাইকেল ওলফের দাবি, হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রেসিডেন্টের শিশুসুলভ আচরণের কথা বলেছেন।

“তিনি তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি চান। কোনো কিছু পড়েনও না, শুনতেও চান না।”

ওলফের বইটিতে ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পপুত্রের সঙ্গে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের বৈঠককে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে হোয়াইট হাউজের সাবেক চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যাননের অভিযোগের কথা আছে। আরো আছে- নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্পের হতভম্ব, বিস্মিত অবস্থা, হোয়াইট হাউজ নিয়ে ভয় পাওয়াসহ বহু অজানা তথ্য।

ট্রাম্প বলেছেন, সাংবাদিক ওলফের সঙ্গে তিনি কখনো কথা বলেননি এবং তাকে হোয়াইট হাউজেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

ওলফের ভাষ্য, ট্রাম্পের সঙ্গে তিনঘণ্টা কাটিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সময় এবং অভিষেকের পর তার সঙ্গে তিনি এ সময় কাটান। ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথাও হয়েছে।

“আমার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের পুরোদস্তুর কথা হয়েছে। এটি যে সাক্ষাৎকার ছিল সেটি তিনি বুঝেছেন কি না জানিনা। কিন্তু এটি মোটেই অফ দ্য রেকর্ড নয়।”

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদিন মিনিটে মিনিটে কথা হয় এমন মানুষদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও ওলফ জানান।

“উপদেষ্টা থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত শতকরা ১শ’ ভাগ মানুষই প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার সক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন করেছে।”

নতুন বই নিয়ে হোয়াইট হাউজের সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে ওলফ বলেন, “প্রেসিডেন্টের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বিশ্বে তার মতো অবস্থানে পদচারণা করা যে কারোর চেয়েই সম্ভবত তিনি কম বিশ্বাসযোগ্য।”

বই প্রকাশে বাধা দেয়ার চেষ্টারও সমালোচনা করেন ওলফ।

“অভূতপূর্ব। মাঝারি মানের কোনো কোম্পানির প্রধান নির্বাহীও এ ধরণের চেষ্টা করতেন না।”

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গণমাধ্যমে বইটি নিয়ে তুমুল হই চই হলেও এটি ট্রাম্পের তেমন ক্ষতি করতে পারবে না; উল্টো রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের মধ্যে তিনি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads