• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

২৩ বছর বয়সী এমিলি শেঙ্কল এসেছিলেন ইন্টারভিউ দিতে। সুন্দরী অস্ট্রিয়ান ওই যুবতীকেই সহকারী হিসাবে নিয়োগ দেন সুভাষ চন্দ্র বসু।

বিদেশ

নেতাজির প্রেম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারি ২০১৮

অসহযোগ আন্দোলনের কারণে জেলে যাওয়ার পর থেকেই নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর শরীর বেশ খারাপ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য সুভাষ বসুকে শেষমেশ অস্ট্রিয়ায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থানকালে এক ইউরোপীয় প্রকাশকের কাছ থেকে বই লেখার অনুরোধ পান সুভাষ বোস। ‘দা ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল’ নামে ওই বই লেখার জন্যই তখন সহকারী হিসেবে ২৩ বছর বয়সী এমিলি শেঙ্কলকে নিয়োগ দেন তিনি। ১৯৩৪ সালের জুন মাস; সুভাষ চন্দ্রের বয়স তখন ৩৭ বছর। স্বাধীনতাকামী এ নেতা তখন হয়তো ধারণাও করতে পারেননি ওই অস্ট্রীয় তরুণী তার জীবনে নতুন ঝড় তুলে দেবেন।

সুভাষ চন্দ্র বসুর বড়ভাই শরৎ বসুর নাতি ও প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুগত বসুর লেখা ‘হিজ ম্যাজেস্টিজ অপোনেন্ট-সুভাষ চন্দ্র বসু অ্যান্ড ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল এগেইনস্ট এম্পায়ার’-এ লিখেছেন, এমিলির সঙ্গে সাক্ষাতের পরেই সুভাষের জীবনে একটা নাটকীয় পরিবর্তন এসেছিল। দুজনের মধ্যে প্রেমপত্র বিনিময় হতো। এমিলিকে উদ্ধৃত করে সুগত বসু তার বইতে লিখেছেন, প্রেমের আভাসটা সুভাষ চন্দ্র বসুর দিক থেকেই এসেছিল। ১৯৩৪-এর মাঝামাঝি সময় থেকে পরের বছর দু’য়েক অস্ট্রিয়া আর চেকোস্লোভাকিয়াতে থাকার সময় সম্পর্কটা আরো মধুর হয়ে উঠেছিল। যুদ্ধের সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোতে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য সাহায্য পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপের মধ্যে সুভাষচন্দ্র নিজের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতেন। তারপর চিঠিতে উঠে আসে দু’জনার আবেগঘন কথোপকথন।

সুভাষ চন্দ্র এক চিঠিতেই লিখেছিলেন, আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে। হতে পারে, পুরো জীবনটাই হয়তো জেলে কাটাতে হবে, অথবা আমাকে গুলি করা হবে, কিংবা ফাঁসিও হতে পারে। এও সম্ভব যে তুমি হয়তো আমাকে কখনো আর দেখতেই পাবে না, অথবা আমি হয়তো কখনো তোমাকে চিঠিও লিখতে পারব না। কিন্তু ভরসা রেখ, তুমি চিরকাল আমার হূদয়ে থাকবে, আমার মনে, আমার স্বপ্নে থাকবে। যদি এই জীবনে সম্ভব না হয়, তাহলে পরের জীবনে তোমার সঙ্গেই থাকব আমি।

এই চিঠি দেওয়া-নেওয়ার পালার মাঝেই প্রথম যেবার এমিলি আর সুভাষের দেখা হয়েছিল, তখনই তারা বিয়ে করেন। ১৯৩৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়েছিল অস্ট্রিয়ার বাদগাস্তিনে। দুজনেরই পছন্দের রিসর্ট ছিল ওটা। তবে দুজনেই নিজেদের বিয়ের ব্যাপারটা গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

সুভাষ চন্দ্র আর এমিলি শেঙ্কলের প্রেমপর্বের ওপরেই একটা বই লিখেছেন তিনবার ভারতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ড. কৃষ্ণা বসু। ‘আ ট্রু লাভ স্টোরি-এমিলি অ্যান্ড সুভাষ’ নামের ওই বইটিতে দুজনের প্রেমপর্বের অনেক জানা-অজানা তথ্য রয়েছে।

১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫; এই প্রায় একযুগ সময়কালে দুজনে বছর তিনেকেরও কম সময় একসঙ্গে কাটাতে পেরেছিলেন। এর মধ্যে ১৯৪২ সালের ২৯ নভেম্বর জন্ম নেয় তাদের একমাত্র সন্তান অনিতা। মেয়েকে দেখার জন্য ওই বছর ডিসেম্বরে ভিয়েনায় পৌঁছান সুভাষ চন্দ্র। তারপরে বড়ভাই শরৎ চন্দ্রকে বাংলায় লেখা একটি চিঠিতে সুভাষ চন্দ্র স্ত্রী-কন্যার ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

তারপরেই সুভাষ চন্দ্র বসু সেই মিশনে রওনা হন, যেখান থেকে এমিলি আর অনিতার কাছে আর কোনোদিনই ফিরে আসেননি। এমিলি সুভাষের স্মৃতি নিয়েই ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। একটা ছোট টেলিগ্রাফ অফিসে চাকরি করেই তাদের সন্তান অনিতাকে জার্মানির প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ বানিয়েছেন এমিলি। এ সময় সুভাষ চন্দ্রের পরিবার থেকে কোনোরকম সাহায্য নিতে অস্বীকার করে গেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, সুভাষ চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে যে গোপনীয়তা রক্ষা করতে চাইতেন, এমিলিও সম্পূর্ণভাবে তার মর্যাদা রেখে গেছেন চিরজীবন। 

 

| বিবিসি বাংলা থেকে নেওয়া |

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads