• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

বিদেশ

রোহিঙ্গা সঙ্কট

‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াবে’

৮ হাজার কোটি টাকার আহ্বান জাতিসংঘের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৭ মার্চ ২০১৮

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কট আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় আরো ৮ হাজার কোটি টাকা সহায়তায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সম্মেলনে গতকাল শনিবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রাজাক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ ও বিতাড়নের বিষয়টি এখন আর রাখাইন রাজ্য ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়। এটা শুধু মানবিক সঙ্কটও নয়, বরং দিন দিন এটা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নষ্টের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

এ অবস্থায় ইসলামি স্টেটের (আইএস) মতো দলগুলো শিকড় গাড়তে পারে বলে হুশিয়ার করেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘লাখো রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে... এদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এই সুযোগে দায়েশ (আইএস) ও অন্যান্য উগ্রপন্থি দল রোহিঙ্গাদের নিজ দলে ভেড়াতে পারে।’

নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রাজাক। তিনি জানান, তার দেশ এক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রাজাকের এই বক্তব্যের সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। দেশটির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

এদিকে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয়দের সহায়তায় ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি তহবিলের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জেনেভায় এক জরুরি বৈঠকে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ আহ্বান জানায়।

সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, আশ্রয়প্রাপ্ত শরণার্থী ও স্থানীয়দের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এই অর্থের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় অর্থ পেলে খাবার ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে ত্রাণ সংস্থাগুলো। ৫০০ একর জমিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ তহবিল গঠন করলেও গত ফেব্রুয়ারিতে এর মেয়াদ শেষ হয়। সর্বশেষ আহ্বান করা তহবিল দিয়ে মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণহত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট চালানো এই বর্বরতাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। অব্যাহত নির্যাতনে বাস্তুচ্যুত হয়ে এ পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার চলে আসার কথা স্বীকার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads