• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

বিদেশ

সিরিয়ায় বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল : রাশিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১০ এপ্রিল ২০১৮

সিরিয়ার একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে হোমস শহরের নিকটবর্তী তাইফুর বিমানঘাঁটিতে (টি-৪ নামেও পরিচিত) বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইসরাইল এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিরিয়া ও তার মিত্র দেশ রাশিয়া। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল। খবর বিবিসি ও সিএনএন।

রুশ সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের আকাশসীমা থেকে দুটি ইসরাইলি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটটির মধ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এই ব্যাপারে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে বলে প্রথমে সন্দেহ করে। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে পেন্টাগন। লেবাননের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র অনেক নিচু হয়ে সিরিয়ার দিকে যাচ্ছে। হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ইরানি কিংবা ইরান সমর্থিত দলের সদস্য।

সিরিয়ার রাজধানীর কাছে পূর্ব ঘৌতার দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলায় ৭০ জন নিহত হওয়ার পরদিন বিমানঘাঁটিতে হামলা হলো। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সমর্থিত বাহিনী এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটের। তবে সিরিয়া অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে।

রাসায়নিক হামলার ঘটনায় স্থানীয় সময় রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ার করে বলেন, এর জন্য বাশার আল আসাদ সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এ ছাড়া তিনি প্রেসিডেন্ট বাশারকে পশু বলেও বর্ণনা করেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে সেখানকার এক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানা যায়।

পেন্টাগন জানায়, রাসায়নিক হামলায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আমরা কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করব। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হোয়াইট হাউজ জানায়, রাসায়নিক হামলার বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ফোনালাপে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

ম্যাখোঁ বলেন, রাসায়নিক হামলার বিষয়টি লাল সীমা অতিক্রম করার মতো ঘটনা। যদি প্রমাণিত হয় বাশার সরকার এর সঙ্গে জড়িত, তাহলে ফ্রান্স হামলা চালাবে। তবে সোমবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্স কেউই। রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে সোমবার বসার কথা নিরাপত্তা পরিষদের।

খবরে বলা হয়, সোমবার ভোরে হোমস শহরে বিমানঘাঁটির কাছে প্রচণ্ড রকমের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, তাইফুর বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেখানে বিমান প্রতিরক্ষা বিভাগ কাজ করছে। তাইয়াস নামের ওই বিমানঘাঁটি হোমস ও প্রাচীন শহর পালমিরার মাঝামাঝি অবস্থিত। এই স্থানটি মূলত রুশ সেনাবাহিনী ব্যবহার করে। হামলায় কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ফেব্রুয়ারিতেও একই বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলার অভিযোগ ওঠে দেশটির বিরুদ্ধে। সেসময় ইসরাইল দাবি করেছিল তাদের আকাশসীমায় একটি ইরানি ড্রোন প্রবেশ করেছিল। গত সপ্তাহে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তখন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতির মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads