• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

বিদেশ

কঠিন সময় পার করছেন ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১১ এপ্রিল ২০১৮

এক কঠিন ও নজিরবিহীন অন্ধকার সময় পার করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত সোমবার ছিল তার জন্য চরম উৎকণ্ঠার আর ঝুঁকির দিন। একই দিনে সিরিয়া ইস্যুতে অপ্রমাণিত রাসায়নিক হামলা ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে যেমন প্রেসিডেন্সিয়াল প্রটোকল ভঙ্গ করেন তিনি, আবার রাতের বেলা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনের বাসা ও অফিসে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) অভিযান চালানোয় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন ট্রাম্প। সোমবার এ প্রসঙ্গে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডারসন কুপার বলেন, ‘এটা সত্যিই একটা অবিশ্বাস্য দিন যখন আপনাকে প্রতি মুহূর্তে ভাবতে হচ্ছে কী ঘটতে যাচ্ছে, এরপর আবার কী ঘটতে পারে।’ অবশ্য ট্রাম্প এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। হোয়াইট হাউজে তিনি বলেন, ‘এটা খোলাখুলি একটা অসম্মানজনক ব্যাপার। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে সত্যিই এটা একটা হামলা। এই হামলার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে দাঁড়াতে হবে।’

ঘরে-বাইরে আলোচনার কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহির্বিশ্বে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্প এত পরীক্ষার মুখে পড়েছেন যে তা গুনে রাখা অসম্ভব অনেক ক্ষেত্রেই। পররাষ্ট্রনীতি এবং বক্তব্যের কারণে ট্রাম্প দেশের বাইরেও যেমন নিত্যনতুন শত্রু তৈরি করছেন, তেমনি হোয়াইট হাউজকেও রেখেছেন ব্যাপক দ্বন্দ্বের মধ্যে। ইতোমধ্যেই ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন। এতদিন চীনের সঙ্গে যুদ্ধ অনেকটাই অপ্রকাশ্যে চলছিল। কিন্তু এখন যুদ্ধ এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, চীনা পণ্যের ওপর একের পর এক করারোপ করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। যদিও সোমবারের টুইটবার্তায় জিনপিংকে বন্ধু বলে সম্বোধন করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে দৌমায় রাসায়নিক হামলার পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রয়েছেন- ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সবচেয়ে ভয়াবহ দিকে মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষক।

ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই রাশিয়া প্রসঙ্গ ট্রাম্পের জন্য নিত্যনৈমিত্তিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক সংক্রান্ত জাকারবার্গের বক্তব্যের পর সেই চাপ আরো একধাপ বেড়েছে। আর সবকিছুর ওপরে বিশেষ কাউন্সিল রবার্ট মুয়েলার তো আছেনই। ট্রাম্পের নির্বাচনে রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্তে অনেকটাই এগিয়েছেন মুয়েলার। গত সপ্তাহেই সিএনএন জানায়, মুয়েলারের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। এই জিজ্ঞাসাবাদের ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ।

এরই জের ধরে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মুয়েলারের তদন্তের অংশ হিসেবে কোহেনের বাসা ও অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে। নিউইয়র্কের ওই কার্যালয়ে সোমবার সকাল ৯টার দিকের ওই অভিযান থেকে কোহেন ও তার গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে। নথিপত্রের মধ্যে এক পর্ন তারকাকে অর্থপ্রদান সম্পর্কিত কাগজপত্রও রয়েছে। তদন্তকারী এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগে থেকে না জানিয়েই ওই অভিযান চালানো হয়েছে।

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক দিন আগে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন কোহেন। এরপরই তিনি সবার আলোচনায় উঠে আসেন। নির্বাচনের সময় সেই কথা চেপে রাখার জন্যই তাকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। মাইকেল কোহেনের আইনজীবী স্টিফেন এম রায়ান এক বিবৃতিতে বলেছেন, মুয়েলারের তদন্তের কথা স্বীকার করা হয়েছে। ২০১৬ সালের জুনে ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড জুনিয়র ও জারেড কুশনারের সঙ্গে একদল রুশ প্রতিনিধির বৈঠক ঘিরে হোয়াইট হাউজের সাবেক কমিউনিকেশন্স সেক্রেটারি হোপ হিকসের সঙ্গে কোহেনের কোনো ই-মেইল চালাচালি হয়েছিল কি না তাও খতিয়ে দেখছে এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস।

হোয়াইট হাউজেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক অভিলাষ সমস্যার সৃষ্টি করছে। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সিআইএপ্রধান মাইক পম্পেওকে নির্বাচন করেছেন তিনি। এমন সিদ্ধান্তের ফলে স্বভাবতই ডেমোক্র্যাট শিবিরে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও গত সপ্তাহে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে (মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র) অভিবাসী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে অভিবাসী সংক্রান্ত হোয়াইট হাউজের নীতিমালার সঙ্গে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক অবস্থায় আছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে জন বোল্টনের দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগেই জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল মুখপাত্র মাইকেল অ্যান্তনকে বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প। কয়েক দফায় স্ক্যান্ডালের ঘটনায় এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সিপ্রধান স্কট প্রুইতের ভবিষ্যৎ এমনিতেই সুতোর ওপর ঝুলছে। সুতরাং চলতি সপ্তাহ নাগাদ নিজের অবস্থানে প্রুইত টিকে থাকবেন কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads