• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

বিদেশ

হাতে লেখা দৈনিক দ্য মুসলমান

৯২ বছরে পা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৮ এপ্রিল ২০১৮

পোস্টকার্ড বিলুপ্তপ্রায়। হাতে লেখা চিঠি লেখার প্রচলনও শেষে হওয়ার পথে। কিন্তু এখনো রমরমিয়ে চলছে হাতে লেখা খবরের কাগজ। বিশ্বের একমাত্র হাতে লেখা উর্দু দৈনিক দ্য মুসলমান পার করল ৯১ বছর।

কম্পিউটার বা কোনোরকম মুদ্রণযন্ত্র নয়, যাত্রা শুরুর দিন থেকে এখন পর্যন্ত হাতেই লেখা হচ্ছে এ খবরের কাগজ। ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু হয় এই দৈনিকের। সৈয়দ আজমতউল্লাহর হাত ধরে ভারতের চেন্নাই শহর থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য মুসলমান। সাবলীল উর্দু ভাষায় খবরের পিঠে খবর সাজিয়ে চলেছে এই সংবাদপত্র। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে জনপ্রিয়তায় এতটুকুও ভাটা পড়েনি। খবরের কাগজটির বর্তমান সম্পাদক সৈয়দ আরিফুল্লাহ বলেন, তিন প্রজন্ম ধরে চলছে এই উর্দু দৈনিক। সূচনাটা করেছিলেন তার দাদু সৈয়দ আজমতউল্লাহ। চেন্নাইয়ের ট্রিপলিকেন হাই রোডে দুই কামরার ছোট্ট দুটি ঘরে প্রথম কাজ শুরু হয় এই দৈনিকের।

দাদুর মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে কাগজটির হাল ধরেন তার বাবা সৈয়দ ফাজাউল্লাহ। বর্তমানে তার কাঁধেই রয়েছে গোটা দায়িত্ব। সময় বদলালেও দৈনিকের ঐতিহ্য ও ধরনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দ্য মুসলমানের মূল আকর্ষণ এর অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি। খবর সাজানোর পাশাপাশি রঙ-তুলির বৈচিত্র্যে নানা ক্যালিগ্রাফি ফুটিয়ে তোলা হয়। রঙ আর বিভিন্ন কলম ও তুলি দিয়ে লেখা হয় শিরোনাম ও ছবির ক্যাপশন। তবে এখানে কোনো খবরেরই বাইলাইন নেই।

চার পাতার দৈনিকের কাজ শুরু হয় সকাল ১০টায়। দু’জন অনুবাদক খবরগুলো উর্দু ভাষায় লিখে দেন। ঘণ্টা দু’য়েক ধরে অনুবাদের কাজ চলে। তারপর ক্যালিগ্রাফি ও মূল কাগজ লেখার কাজ শুরু হয়। মূল কপি তৈরি হওয়ার পর দুপুর ১টা নাগাদ প্রিন্টের মাধ্যমে বাকি কপিগুলো তৈরি হয়। সন্ধের মধ্যে খবরের কাগজ পৌঁছে যায় প্রায় ২১ হাজার পাঠকের হাতে। প্রতিটি খবরের কাগজের দাম মাত্র ৭৫ পয়সা। প্রথম পাতায় থাকে দেশ ও বিদেশের নানা খবর। দ্বিতীয় পাতায় সম্পাদকীয়। পরের পাতা দুটিতে স্থানীয় খবর ও বিজ্ঞাপন। সম্পাদক বলেন, সাধারণত এই দৈনিকে ব্রেকিং নিউজ থাকে না।

মূলত সমাজের নানা বিষয়ের ওপরই জোর দেওয়া হয় এই দৈনিকে। ইসলামভিত্তিক খবর প্রথম পছন্দ হলেও সবরকম পাঠকের কথা বিবেচনা করা হয়। এ জন্যই খবর বাছা হয় এখানে। তিনি আরো বলেন, দ্য মুসলমান কখনোই থেমে থাকবে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কাগজের ঐতিহ্য একইরকম থাকবে। সব স্তরের পাঠকের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়াই এই দৈনিকের একমাত্র উদ্দেশ্য। চিফ রিপোর্টার চিন্নাস্বামী বালাসুব্রামোনিয়াম বলেন, দিল্লি, কলকাতা ও হায়দরাবাদে এই দৈনিকের পাঠক রয়েছে।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads