• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
‘নেপালের তদন্ত কমিশন অসন্তুষ্ট’

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস

সংরক্ষিত ছবি

বিদেশ

‘নেপালের তদন্ত কমিশন অসন্তুষ্ট’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৯ আগস্ট ২০১৮

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ‘অসম্পূর্ণ ও অপ্রকাশিত’ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেপালের ইংরেজি দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইকান্তিপুর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাকে ‘অনৈতিক ও প্রতারণামূলক’ বলেছে নেপাল সরকারের অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশন।

গত সোমবার কমিশনের সদস্য-সচিব বুদ্ধিসাগর লামিচ্ছানে স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাঠমান্ডু পোস্ট ও ইকান্তিপুরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন নিয়ে কমিশন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং অসন্তুষ্ট’। কাঠমান্ডু পোস্টের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পাইলট আবিদ সুলতান ‘ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মারাত্মক মানসিক চাপ ও উদ্বেগের’ মধ্যে ছিলেন এবং ওই অবস্থায় তিনি একের পর এক যেসব ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন, তার পথ ধরেই গত মার্চে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিএস-২১১ বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেপাল সরকার গঠিত অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশনের প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে পাওয়ার দাবি জানিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট লেখে, পাইলট আবিদ সুলতান ত্রিভুবনে নামার প্রস্তুতির সময় বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ‘অসত্য’ তথ্য দিয়েছিলেন; এক ঘণ্টার ওই পুরো ফ্লাইটে তিনি ককপিটে বসেই ধূমপান করছিলেন।

গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১। এতে পাইলট আবিদ সুলতানসহ আরোহীদের ৫১ জনের মৃত্যু হয়।

মর্মান্তিক ওই ঘটনায় নেপাল সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ না করলেও তার একটি কপি কাঠমান্ডু পোস্টের কাছে আছে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ফ্লাইটের পুরো সময়ে প্রধান বৈমানিক আবিদের আচরণ তার স্বাভাবিক চরিত্রের সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না’। এ বিষয়টি আগেই নজরে আনা উচিত ছিল বলে নেপালি তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নেপালের অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কমিশনের কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো- ওই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে চেষ্টা করা। সেই তদন্ত এখনো চলছে। কমিশন বিশ্বাস করে, দুর্ঘটনার তদন্ত ‘গণমাধ্যমের প্রপাগান্ডার’ বিষয় নয়। ‘কমিশন এ ধরনের অনৈতিক ও প্রতারণামূলক সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ধরনের প্রতিবেদন সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভুল ধারণা ও বিশ্বাসের জন্ম দেবে।’ কমিশন বলছে, যেখানে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং কমিশনের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে, সেখানে যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই না করে এরকম একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো ‘অফিসিয়ালি’ সম্পন্ন হয়নি এবং তা প্রকাশও করা হয়নি। যখন প্রতিবেদনটি তৈরি হবে, নেপাল সরকারের নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশনের নিয়ম মেনে তা প্রকাশ করা হবে। ‘সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কমিশনের অনুরোধ, এ ধরনের স্পর্শকাতর একটি বিষয় নিয়ে কেউ অনুমাননির্ভর ধারণার পেছনে ছুটবেন না, কেননা ওই ঘটনায় নেপাল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশের নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে।’

এর আগে সোমবারই ইউএস-বাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো দুর্ঘটনার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগে এ ধরনের অসমর্থিত মতামত প্রকাশ কোনো গণমাধ্যমের কাছেই কাম্য নয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads