• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ‘হোতা’ চিহ্নিত

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ‘হোতা’ চিহ্নিত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ওয়ানাক্রাই ভাইরাস আক্রমণ, সনি কর্পোরেশন হ্যাক করার দায়ে কুখ্যাত হ্যাকারগ্রুপ লাজারুসের সদস্য নর্থ কোরিয় নাগরিক পার্ক জিন ইয়কের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

নর্থ কোরিয় হ্যাকাররা গোটা পৃথিবীকে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকের পেছনেও নর্থ কোরিয় হ্যাকাররা জড়িত বলে অভিযোগ আছে।

এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ সাইবার আক্রমণকারীদের হুঁশিয়ার করতে সাইবার হামলার পেছনে দায়ীদের নাম প্রকাশ করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নর্থ কোরিয় এই নাগরিকের নাম-পরিচয় প্রকাশ ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

দেশটির বিচার দফতর বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে বলেছে, পার্ক ২০১৬ সালে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঞ্চিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায়ও জড়িত ছিলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পার্কের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তার বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে, তারপরও এই নাগরিককে উত্তর কোরিয়া বিচারের জন্য ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেবে কি না- তা এখনও স্পষ্ট নয়। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে অপরাধী হস্তান্তরের কোনো চুক্তিও নেই।

কে এই হ্যাকার 

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্ক জিউন হিউক ছিল একটি হ্যাকার টিমের অংশ। এরা পরিচিত 'ল্যাজারাস গ্রপ' নামে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লকহীড মার্টিন কর্পোরেশনকে তারা টার্গেট করেছিল। কিন্তু সফল হতে পারেনি।

তবে এর আগে ২০১৪ সালে এরা সনি কর্পোরেশনে একটি বড় সাইবার হামলা চালায়। সেখান থেকে তারা অনেক তথ্য চুরি করে নেয়। অনেক তথ্য নষ্ট করে ফেলে। এই হামলাটি চালানো হয়েছিল 'দ্য ইন্টারভিউ' নামে একটি ছবি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পর।

ছবিটির একটি চরিত্র ছিল উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের আদলে, এতে দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া চাইছিল, সনি কর্পোরেশন যেন এই ছবি না বানায়।

পার্ক জিউন হিউক ফেসবুকে এবং টুইটার বিভিন্ন বিভিন্ন নামে একাউন্ট খুলে লোকজনের কাছে এমনসব লিংক পাঠাতো যাতে উত্তর কোরিয়ার নানা ম্যালওয়ের থাকতো।

তবে তাদের সবচেয়ে মারাত্মক সাইবার হামলা ছিল 'ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়ের' দিয়ে। ২০১৬ সালে এই সাইবার হামলার শিকার হয় বিশ্বজুড়ে অনেক দেশ এবং কোম্পানি। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) এই হামলায় অংশত অচল হয়ে পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের এসিস্ট্যান্ট এটর্নি ট্রেসি উইলকিনসন বলেছেন, এরা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ কিছু সাইবার হামলার জন্য দায়ী। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতির ঘটনাও আছে।

যে চীনা কোম্পানি 'চুসান এক্সপো'র আড়ালে এই হ্যাকার চক্র কাজ করতো তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যা বলছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের নেয়া পদক্ষেপকে একটা বড় অগ্রগতি বলে বর্ণনা করেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যেহেতু নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে এই অর্থ চুরি হয়েছিল, তাই যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশেও সিআইডি এই সাইবার হামলার ঘটনা তদন্ত করছে। তারা সব কিছুই দেখছে।

"আমরা চাই যারা দোষী, তারা ধরা পড়ুক।"

তবে সিআইডির যে কর্মকর্তা এই ঘটনার তদন্ত করছেন, তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার কথা তারা আগেও শুনেছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে নিজেদের তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার মতো কিছু পাননি।

সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা যদি কোন বিদেশি সংস্থা পেয়ে থাকে, তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করবো, তাদের প্রমানগুলো আমরা দেখবো। আমরা এফবিআই এর সঙ্গেও বসবো। বসে আমরা তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি জানান, সামনের সপ্তাহেই ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা আছে।

নিজেদের তদন্ত সম্পর্ক তিনি বলেন, এই ঘটনায় যেহেতু অনেক বিদেশি নাগরিক জড়িত, তাই তদন্তে অগ্রগতির জন্য সেসব বিদেশি নাগরিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। এসব দেশের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।

তিনি জানান, এই ঘটনায় তারা এ পর্যন্ত ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, ভারত, চীন এবং জাপানি নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads