• মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

যুক্তরাজ্য ও ইইউ’র মধ্যে সমঝোতা

সংগৃহীত ছবি

বিদেশ

ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া প্রস্তুত

যুক্তরাজ্য ও ইইউ’র মধ্যে সমঝোতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০১৮

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মাসব্যাপী আলোচনার পর ব্রেক্সিট ইস্যুতে একটি ‘খসড়া চুক্তি’ তৈরি করেছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। চলতি সপ্তাহের এ ফলপ্রসূ আলোচনার পর কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষের নেতারা। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে।

মন্ত্রিসভার একটি সূত্রের উল্লেখ করে বিবিসি জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের কারিগরি পর্যায়ে কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। সপ্তাহজুড়ে এই চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই পক্ষে মধ্যে আলোচনা চলছিল। মন্ত্রিসভার সমর্থন চাইতে গত বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বিশেষ বৈঠক আহ্বান করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এর আগে মে তার ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ে প্রত্যেক মন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

আলোচনায় দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর ইতোমধ্যে ডলারের বিপরীতে পাউন্ড ও ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু পার্লামেন্ট ও মন্ত্রিসভা এখনো এই খসড়া অনুমোদন করেনি, ফলে মুদ্রার এই ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

ইইউ জানিয়েছে, বুধবারের মধ্যেই তারা খসড়া নথিটি ‘পর্যালোচনা’ করতে পারে; অপরদিকে আয়ারল্যান্ড সরকার বলেছে, আলোচনা চলমান আছে এবং এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খসড়া চুক্তিটির বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়ায় এর সংক্ষিপ্তসার সম্পর্কে তারা কিছু বলতে পারছে না।

খসড়া চুক্তির খুঁটিনাটী বিষয়গুলো এখনো প্রকাশ্যে না এলেও ব্রিটেনের রাজনৈতিক শিবিরগুলো ভিন্ন ভিন্ন কারণে এমন বোঝাপড়ার বিরোধিতা করছে। বিরোধী নেতা বরিস জনসন ও জ্যাকব রিস-মগ ব্রেক্সিটপন্থি খসড়া নথিটিতে কী থাকতে পারে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই এর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, খসড়া মানতে গেলে যুক্তরাজ্য ইইউ’র নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিরোধীরা এ চুক্তির খসড়া প্রত্যাখ্যান করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সীমান্তে অচলাবস্থা এড়াতে ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের মধ্যে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করার প্রস্তাবে তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য এবং ইইউ নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইউরোপীয় নেতারা একটি বিশেষ সম্মেলন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে হতে যাওয়া সম্ভাব্য ৫০০ পৃষ্ঠার চুক্তিটিতে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে একটি বিবৃতি আছে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্তে কোনো রকম তল্লাশি চালানো হবে না এমন নিশ্চয়তার বিধান রাখা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ইইউ’র বাণিজ্য বিষয়ক নিয়মনীতির ফলে যুক্তরাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্য যখন বেরিয়ে যাবে, তখন দেশটির নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইইউ। কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চুক্তি হয়নি, এটি কেবল একটি খসড়া, যা নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। তবে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা যদি এই খসড়া চুক্তিতে সম্মতি না জানায় তাহলে চুক্তিটি আবারো আলোচনার টেবিলেই ফিরে যাবে। তাহলে ২৭ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত স্থানীয় সময় আজ বুধবার বৈঠক করবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads