• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের প্রতিবাদ 

সংগৃহীত ছবি

বিদেশ

বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের প্রতিবাদ 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৮ নভেম্বর ২০১৮

আবায়ার (বোরকা) বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ শুরু করেছেন সৌদি আরবের নারীরা। এই কর্মসূচিতে বোরকা উল্টো পরে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন। ছবিগুলোয় দেখা যায়, নারীরা বোরকা উল্টো পরে শরীর ঢেকে রেখে প্রতিবাদ করছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান। 

মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল এ দেশটিতে নারীদের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে। ঘরের বাইরে বেরুতে হলে নারীদের আপাদমস্তক ঢাকা কালো বোরকা পরতে হয়। ‘ইনসাইড-আউট আবায়া’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে কয়েকজন নারী ছবি পোস্ট করেছেন। এর মাধ্যমে তারা পোশাকের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী নোরা আবদুল করিম চলতি সপ্তাহে টুইটারে লেখেন, সৌদির নারীবাদীরা অনেক সৃজনশীল। তাই তারা প্রতিবাদের নতুন এই পন্থা বেছে নিয়েছে। আবায়া উল্টো পরে ছবি পোস্টের মাধ্যমে তারা জোরপূর্বক পোশাকটি পরিধান করানোর বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ করছেন। অপর এক নারী টুইটারে লেখেন, এটি একটি ‘নাগরিক প্রতিবাদ’।

গত মার্চে সিবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ইসলামে আপাদমস্তক ঢাকা কালো পোশাক পরা বাধ্যতামূলক নয়। এ সম্পর্কিত শরিয়া আইন খুবই পরিষ্কার ও স্পষ্ট। নারীরা মার্জিত ও সম্মানজনক পোশাক পরবেন। এর মানে এই নয় যে, নারীদের কালো রঙের আপাদমস্তক ঢাকা আবায়া পরতে হবে। নারীরাই সিদ্ধান্ত নেবেন কোন ধরনের মার্জিত ও সম্মানজনক পোশাক তারা পরবেন। এরপরও দেশটিতে নারীদের পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হয়নি। এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশও দেওয়া হয়নি।

গত বছর সেপ্টেম্বরে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক ডিক্রিতে নারীদের রাস্তায় গাড়ি চালানোর অনুমতি দেন। চলতি বছরের জুন মাস থেকে সেটি কার্যকর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখারও অনুমতি পান সৌদি নারীরা। তবে দেশটিতে এখনো অভিভাবকত্ব রীতি অনুযায়ী নারীদের ঘরের বাইরে যেতে হলে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে নিতে হয়। বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় আলাদা দুটি ভাগ রয়েছে। একটিতে শুধু পুরুষ আরেকটিতে শুধু নারীদের নিয়ে পরিবারের পুরষ সদস্যরা বসেন। এ ছাড়া পাসপোর্টের আবেদন, বাইরে ভ্রমণ, বিয়ে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ব্যবসা শুরু, কারাগার ত্যাগ- এসব বিষয়ে নারীদের এখনো পরিবারের অনুমতি লাগে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads