• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
অনাহারে কাশ্মীরবাসী

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশ

অনাহারে কাশ্মীরবাসী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ আগস্ট ২০১৯

কাশ্মীরে কয়েকদিন ধরেই চলছে অচলাবস্থা। বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক খাবার সরবরাহ। নেই বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ। ব্যাংক ও এটিএমগুলোতেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। ৭২ ঘণ্টা পার না হতেই দোকানগুলোতেও শেষ হয়ে গেছে খাবার। পণ্যের দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। গত রোববার থেকে এ অচলাবস্থায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে নিম্নবিত্ত অনেক কাশ্মীরি। এদিকে কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলের চেষ্টার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে মারা যান। কাশ্মীরজুড়ে চলছে গণগ্রেপ্তার। খবর জিও টিভি, দ্য টেলিগ্রাফ, বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

খবরে বলা হয়, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে এক তরুণ ঝিলাম নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শ্রীনগর, পুলওয়ামা, বারমুল্লাসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের ওপর ভারতীয় সেনাবাহিনী গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে। সব যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো উপায় নেই ভেতরের মানুষের। শহর ও গ্রামগুলোর আশপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেখা গেছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলে টিভি চ্যানেল, ফোন সংযোগ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

সানা নামে ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি জানিয়েছে, তাদের পরিবার না খেয়ে আছে। কোথাও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কারফিউ জারির পর মুদির দোকানে যেন মানুষের বন্যা ছিল। মসলা ও শাকসবজির দোকানেও ছিল ভিড়। হাজারো মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। গ্যাস স্টেশনগুলোতেও ছিল গাড়ির লম্বা লাইন। ব্যাংকগুলোতেও টাকা শেষ হয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের উপ-সম্পাদক মুজামিল জলিল জানান, তারা শ্রীনগরের সব এটিএমেই খোঁজ নিয়ে দেখেছেন, টাকা নেই। অনেকেই এখন হাতে হাতে টাকা নিয়ে ঘুরছে। দরিদ্র গোষ্ঠীর কোনো জমা টাকাও নেই। যদিও ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা খাদ্যাভাবের ঘটনাকে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সেখানে তিন মাসেরও বেশি খাবার মজুত রয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, মোদি সরকার মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে আন্দোলনকারী ও বিরোধী পক্ষের নেতাদের গ্রেপ্তার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাসহ কয়েক শ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহও। অন্যদিকে সমঝোতা এক্সপ্রেস নিয়ে ভারতে আসতে অস্বীকার করছে পাকিস্তানের রেলকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, ভারতে গেলে তারা বিপদে পড়তে পারেন। তাই তারা ওই ট্রেন নিয়ে আসবেন ওয়াঘা সীমান্ত পর্যন্ত। সেখান থেকে ভারতীয় রেলকর্মীরা ট্রেনটিকে ভারতে নিয়ে যাবেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ির আমলে চালু হয়েছিল দিল্লি-লাহোর সমঝোতা এক্সপ্রেস।

আটারি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার বলেন, অমৃতসর থেকে ভারতীয় রেলকর্মীরা সমঝোতা এক্সপ্রেস নিয়ে আসেন। এ জন্য বৃহস্পতিবারের সমঝোতা এক্সপ্রেস ভারতে ঢুকেছে দেড় ঘণ্টা দেরিতে। ওয়াঘার স্টেশন মাস্টার প্রথমে ভারত সরকারকে চিঠি লিখে জানান, পাকিস্তানের রেলকর্মীরা সমঝোতা এক্সপ্রেস নিয়ে ভারতে ঢুকতে চাইছেন না। তাই ভারত ট্রেনটিকে আনার জন্য কয়েকজন রেলকর্মী পাঠাক। তাদের যেন পাসপোর্ট ও ভিসা থাকে। বুধবারই ভারতীয় হাইকমিশনারকে ফেরত পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেস নিয়ে ভারতে ঢুকতে অস্বীকার করলেন পাকিস্তানের রেলকর্মীরা। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করেছে পাকিস্তান।

গত সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে গত মঙ্গলবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইমরান খান। তাই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আরো বেশি সেনাকে টহল দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বুধবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, যখন কূটনীতিই হচ্ছে না, তখন কূটনীতির জন্য অর্থ খরচ করে লাভ কি? ভারতীয় হাইকমিশনার এখানে কী করছেন? পাকিস্তানের হাইকমিশনারও বা দিল্লিতে কী করছেন? ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। যুদ্ধকে পাকিস্তান ভয় পায় না। অসম্মান ও যুদ্ধের মধ্যে বাঁচতে হলে যুদ্ধকেই বেছে নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads