• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads

প্রবাস

সৌদিতে ধরপাকড় খালি হাতে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সৌদি আরবে ধরপাকড়ের শিকার হয়ে গত রোববার রাতে বাংলাদেশে ফিরেছেন ১৭৫ প্রবাসী কর্মী। খালি হাতে ফেরা এসব কর্মীর কারো ছিল খালি পা, কেউ কেউ কাজের পোশাক পরেই বিমানে উঠেছেন।

তাদের বহনকারী সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট রোববার রাত ১১টা ৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হেড শরীফুল হাসান। ফেরত আসা শ্রমিকদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে বিমানবন্দরে খাবার সরবরাহ ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সৌদি সরকার প্রতিদিন শত শত বিদেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করছে। রিয়াদ ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে এখনো হাজার খানেক বাংলাদেশি রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়, দেশটি তাদের চলমান অভিযানে কাজ ও থাকার নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অন্তত ৩৮ লাখ বিদেশিকে আটক করেছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে এ অভিযান শুরু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার ৫২১ জনকে। আটক হওয়া বিদেশিদের মধ্যে এ পর্যন্ত নয় লাখ ৪০ হাজার ১০০ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

চাঁদপুরের বাবুল হোসেন ভাগ্য বদল করতে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু এমন দুর্দশা নিয়ে ফেরা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি জানান, সৌদিতে ছয় মাসের বৈধ আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) থাকার পরও কর্মস্থল থেকে ধরে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৌদি প্রশাসন তার কোনো কথাই শোনেনি। টাঙ্গাইলের আলিম ও মনির হোসেন, নরসিংদীর মো. জোবাইর, লক্ষ্মীপুরের ফরিদ, মুন্সীগঞ্জের শরিফ হোসেন এবং মেহেরপুরের সেলিম রেজাসহ আরো অনেকেই জানান, বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও তাদের জোর করে ধরে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আবার অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ আকামা নবায়ন করেনি বা তা বাতিল করে শ্রমিকদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের কোনো সহযোগিতা করেনি। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করবে বলে তারা জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads