• বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬
মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে মিয়ানমার সরকার মেনে নেবে না : সু চি

ছবি : সংগ‍ৃহীত

বিদেশ

মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে মিয়ানমার সরকার মেনে নেবে না : সু চি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকলে ৩টায় শুরু হওয়া শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য রাখছেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি।

সু চি তার বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে মামলাটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। 

তিনি বলেন, আরাকান আর্মির সংঘর্ষের কারণে রাখাইনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ২০১৬ সালে ক্রমাগত আক্রমণ চালায় আরসা। ২০১৭ সালের আগস্টে আরসা একটি সামরিক চৌকি ধ্বংস করে ও ৩০ জন পুলিশকে হত্যা করে। এভাবে তারা ১২টি হত্যাযজ্ঞ চালায়। এরপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী সশস্ত্র হামলা চালায়। মিয়ানমারের ক্লিয়ারেন্স অপারেশনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে গাম্বিয়া।

অং সান সু চি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো জেনোসাইড করলে সংবিধান অনুযায়ী মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা কোর্ট মার্শাল করে। সেই ধারবাহিকতায় ২৯ জন সেনা সদস্যসহ এক হাজার ৩২ জনকে জিজ্ঞাসাবদ করা হয়। আরো গভীর অনুসন্ধানের অনুরোধ করছি গাম্বিয়াকে। মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে মিয়ানমার সরকার মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা অনেক দ্রুত।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সু চি তার বক্তব্যে আরও বলেন, জাতিগত সংঘাতে নয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি দেশের অভ্যন্তরে গণহত্যার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে তবে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সেনা সদস্য, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে আমি এ বিষয়েও নিশ্চিত করছি যে, আমাদের সবার নজর সেনা সদস্যদের দিকে। একইসঙ্গে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শুনানির প্রথম দিনে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী। এ সময় রোহিঙ্গা গণহত্যাকে বৈশ্বিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব কেন এ ধরনের বর্বরতা ঘটে যাওয়ার অনুমোদন দিচ্ছে সে প্রশ্ন তোলে দেশটি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর গত ১১ নভেম্বর অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করে গাম্বিয়া।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads