• রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৬
কেমোথেরাপির বিকল্প আবিষ্কার

প্রতীকী ছবি

বিদেশ

কেমোথেরাপির বিকল্প আবিষ্কার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি ২০২০

ইঁদুরের শরীরে তামার তৈরি ক্ষুদ্র ধাতব কণা ব্যবহার করে ক্যানসার নিরাময়ে সফল হয়েছে জার্মানির একদল বিজ্ঞানী। এই ধাতব কণা প্রয়োগের পর ইঁদুরের শরীরে আর ক্যানসার ফিরে আসেনি বলে দাবি তাদের।

সম্প্রতি জার্মানির বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল অ্যাজিওয়ান্তে কেমির আন্তর্জাতিক সংস্করণে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা ক্যানসার আক্রান্ত বেশ কিছু ইঁদুরের শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি কপার অক্সাইড ধাতব কণা প্রয়োগ করেন।

কপার (তামা) এবং অক্সিজেনের সংমিশ্রণে কপার অক্সাইড তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা এই কপার অক্সাইডকে ক্ষুদ্র ধাতব কণার রূপ দেন; যা মানুষের চুলের চেয়ে শতগুণ পাতলা। চিকিৎসকরা ক্যানসার আক্রান্ত ইঁদুরের শরীরের টিউমারে এই ধাতব কণা ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করেন। এই ধাতব কণা ইঁদুরের শরীরে প্রয়োগের পর ইতিবাচক ফল পেয়েছেন তারা। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি

মেইল বলছে, ধাতব কণা প্রয়োগে ক্যানসার নিরাময় হয়েছে এবং আক্রান্ত কোষ প্রাণীর শরীরে আবারো ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ক্যানসার কোষকে সরাসরি ধ্বংস করেছে।

তবে নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি এখন মানব শরীরে প্রয়োগের অপেক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের আশা, ক্যানসার আক্রান্ত প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসায় বহুল ব্যবহূত কেমোথেরাপির বিকল্প হতে পারে নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি।

গবেষক দলের অন্যতম দুই সদস্য জার্মানির কেইউ লিভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফান সোনেন এবং চিকিৎসক বেলা মানশিয়ান বলেন, আমরা যদি এই ধাতব অক্সাইড বেশি পরিমাণে গ্রহণ করি, তাহলে সেটি বিপজ্জনক হতে পারে। কিন্তু যদি অতি ক্ষুদ্র পরিমাণে, নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত উপায়ে নেওয়া হয়, তাহলে সেটি উপকারী হতে পারে।

অধ্যাপক সোনেন বলেন, আমি যতটুকু জানি, লাইভ মডেলে ক্যানসার কোষের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ধাতব অক্সাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আমরা অন্যান্য ক্ষুদ্র ধাতব কণা তৈরি করতে চাই এবং এর মাধ্যমে কোন কোন কণা কোন ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহূত হবে তা শনাক্ত করা হবে।

গবেষণায় ব্যবহূত ইঁদুরের ফুসফুস এবং অন্ত্রে ক্যানসার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন, ওভারিয়ান ও ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসায়ও এই কপার অক্সাইড কাজ করতে পারে। শরীরের জীবন্ত কোষে এই ধাতব কণাগুলো বিষক্রিয়া তৈরি এবং মানব শরীরের ক্ষতির পাশাপাশি ডিএনের পুনরুৎপাদন ব্যাহত করে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads