• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭
বিষণ্নতা ও মনোব্যাধি বাড়াচ্ছে করোনা

প্রতীকী ছবি

বিদেশ

বিষণ্নতা ও মনোব্যাধি বাড়াচ্ছে করোনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৮ এপ্রিল ২০২১

করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্নতা, স্মৃতিভ্রংশ, মনোব্যাধি ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো সমস্যায় ভুগছেন অনেক মানুষ। গত ছয় মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওপর গবেষণা করে এমন তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। খবর : বিবিসি। 

এতে বলা হয়েছে, আগে কোভিড সংক্রমিতদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে মানসিক বা স্নায়ুবিক সমস্যা নতুন করে বা পুনরায় দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে যারা ভর্তি ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা বেশি। করোনা মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫ লাখের বেশি করোনা রোগীর নথি পর্যালোচনা করে জানার চেষ্টা করেছেন মস্কিষ্কে রক্তক্ষরণ, পারকিনসন্স, গিলিয়ান-ব্যারি সিনড্রোম (এক ধরনের ফ্লু-জনিত উপসর্গ), স্মৃতিভ্রংশ, মনোব্যাধি, ভাবের অসংগতি, উদ্বেগ অসংগতি মতো সচারাচর দেখা যায় এমন ১৪টি মানসিক ও স্নায়ুবিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটা বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, কোভিডে আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুগছে উদ্বেগ ও ভাবের অসংগতিতে। খুবই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চাপ থেকে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া করোনা সংক্রমণের ফলে মানুষের দেহের যে শারীরিক প্রতিক্রিয়া তাতে স্ট্রোক ও স্মৃতিভ্রংশের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে পারকিনসন্স বা গিলিয়ান-ব্যারি সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে কোভিডের কোনো যোগসূত্র পাননি গবেষকরা। গবেষণাটি পর্যবেক্ষণধর্মী হওয়ায় কোভিড-১৯ আদৌ এসব রোগের কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে কি না অথবা কোভিডে ভোগা ব্যক্তিদের কিছু অংশ ভাইরাসটির কারণেই পরের ছয় মাসে স্ট্রোক বা বিষণ্নতার শিকার হয়েছেন কি না তা গবেষক দল নিশ্চিত করতে পারেননি।

তবে কোভিড-১৯-এর প্রভাব বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এ রোগে আক্রান্ত একটি দলের সঙ্গে ফ্লুতে আক্রান্ত একটি দল এবং অন্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত আরেকটি দলের তুলনা করেন গবেষকরা।

তিনটি দলের মধ্যে কোভিডে আক্রান্তরা অন্য শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের চেয়ে বেশি হারে মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগেছেন। তিন দলের মানুষদের যতটা সম্ভব তুলনাযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ, জাতিসত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সূচকে মেলানো হয়েছে।

গবেষণার ফল থেকে দেখা যায়, অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগের তুলনায় কোভিডে ভুগে সুস্থ হয়ে ওঠার পর মানসিক বা স্নায়ুবিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা ১৬ শতাংশ বেশি এবং ফ্লুতে ভোগাদের তুলনায় এ হার ৪৪ শতাংশ বেশি। আরেকটা আশঙ্কার কথা হলো, কোভিডে যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাদের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মস্তিষ্কের জটিলতায় ভোগার আশঙ্কা বেশি থাকে। আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠার পর মনের ভাব, উদ্বেগ বা মনোব্যাধির অসংগতি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিতে পারে ২৪ শতাংশের ক্ষেত্রে এবং অসুস্থ থাকাকালীন ডেলিরিয়ামের অভিজ্ঞতা হতে পারে ২৮ শতাংশ রোগীর।

অ্যালঝেইমার রিসার্চ ইউকের গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. সারা ইমারিসিও বলেন, আগের গবেষণা থেকে দেখা গেছে, যাদের স্মৃতিভ্রংশজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের কোভিড-১৯ রোগ হলে সংকটাপন্ন পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। নতুন এই গবেষণায় জানার চেষ্টা করা হয়েছে, বিপরীত দিক থেকেও একই ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে কি না। এই গবেষণায় রোগের সঙ্গে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর সম্পর্কের কারণের ওপর মনোযোগ দেওয়া হয়নি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মাসুদ হুসাইন বলেন, করোনাভাইরাস মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং সরাসরি ক্ষতি করে তার প্রমাণ রয়েছে। এর অন্যান্য পরোক্ষ প্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে-যেমন রক্ত জমাটবাঁধা, যা থেকে রোগীর স্ট্রোক হতে পারে। এ ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধে শরীরে যে সাধারণ প্রদাহ সৃষ্টি হয় সেটাও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গবেষণায় কোভিডে ভোগা যে এক-তৃতীয়াংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার এক বা একাধিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সেটা ছিল প্রথম স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল। তবে কোভিড এ ধরনের অসুস্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে- এমন আশঙ্কাও নাকচ করছেন না গবেষকরা।

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স তাকুয়েত বলেন, আমাদের গবেষণার ফলাফল এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অন্যান্য ফ্লু বা সংক্রামক রোগের চেয়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ এবং মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এর আগে গত বছর আরো একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর মানসিক সমস্যা ভুগেছেন ২০ শতাংশ মানুষ। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads