• সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

বাংলাদেশ

ভোটের হিসাব কষছে সব দল

  • রেজাউল করিম লাবলু, আফজাল বারী ও কামাল মোশারেফ
  • প্রকাশিত ০১ মার্চ ২০১৮

বছরটা নির্বাচনের। এরই মধ্যে চলে গেছে দুই মাস। ডিসেম্বরেই হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদিও গুঞ্জন, আগাম ভোট হতে পারে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ। কেমন নির্বাচন হবে- তা নিয়ে জনগণের মধ্যেও রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। নির্ভার থাকতে ছক আঁকছে টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ। জেতার পথ খুঁজছে চলতি সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি। বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও চায় বড় বিজয়। অন্য দলগুলোও পিছিয়ে নেই স্বার্থের হিসাবে। আবার সময়ের পরিবর্তনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা নিয়েও ভাবনা রয়েছে সব দলের।

নির্বাচনের আগে ‘তৃতীয় শক্তি’ নিয়েও কথা উঠছে। এবারো বাজছে সেই সুর। যদিও তার কোনো লক্ষণ দেখছে না অধিকাংশ রাজনীতি-সচেতন মহল। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী মৌসুমেই শুধু এ ধরনের তৎপরতার কথা শোনা যায়।

রাজনৈতিক কৌশল বিবেচনায় বর্তমানে আওয়ামী লীগকে চাপমুক্ত মনে করছেন দলটির নেতারা। আর মামলাজালে পড়া বিএনপির নেতাদের ধারণা, পরিস্থিতি পাল্টাবে।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, দেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সংবিধানের মধ্যে থেকেই তা হবে। বিএনপি ভোট ঠেকাতে পারবে না। সেই সক্ষমতা তাদের নেই। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচন নিয়েই ভাবছে। বিএনপি কী করবে না করবে তা নিয়ে ভাবার সময় নেই।

বিএনপি জনগণকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ‘সরকারের অপচেষ্টা’ রুখে দেবে- এমন আশায় আছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। তবে আওয়ামী লীগ ‘৫ জানুয়ারি মার্কা’ (দশম জাতীয় সংসদ) আরেকটি একতরফা নির্বাচনের দিকে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দলটির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের ভাষ্যও তাই। তিনি মনে করেন, দলের জন্য যা ভালো হবে সেটিই করবেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। দুদলের শাসনব্যবস্থা মানুষ দেখেছে। তারা শান্তি চায়।

বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না- এ প্রশ্ন জেগেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার মনে। তার ধারণা খণ্ডিত বিএনপি নির্বাচনে থাকতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিকে সবাই যাত্রা শুরু করেছে, কিন্তু অনেক ইস্যুর মীমাংসা হয়নি।

তবে বিএনপি ভাঙার নীলনকশা করে লাভ নেই বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতের চেয়ে এখন বেশি ঐক্যবদ্ধ।

সুষ্ঠু নির্বাচনের আলামত দেখছেন না লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি- এলডিপির প্রধান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকারদলীয়রা নির্বাচনের মাঠে আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের মতে, নির্বাচন, গণতন্ত্র এগুলো সরকারের ত্রিসীমানা ছেড়ে পালিয়েছে। সরকার গণতন্ত্রকে কবর দেওয়ার পথে হাঁটছে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ রাজনীতিতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখছেন। তার ভাষ্য, যে দেশে গণতন্ত্রই নেই, সেখানে রাজনীতির কথা অনেক দূরে। আর একটি ভোটের আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী মনে করেন, সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জনগণ আশা করছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম মনে করেন, সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত বিভীষিকাময়। সঙ্কট নিরসনের দায়িত্ব আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।

যেমনটি চায় আওয়ামী লীগ

এরই মধ্যে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছে আওয়ামী লীগ। শিগগির শরিক দলগুলোর সঙ্গে বসে আসন ভাগাভাগির কথাও ভাবছে দলটি। নির্বাচনে কার কী ভূমিকা থাকবে- এসব নিয়ে জোট নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী রাজ্জাক বলেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। বিএনপি ঠেকাতে পারবে না। সেই সক্ষমতা তাদের নেই।

ক্ষমতাসীন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের দাবি, বিএনপির কোনো কর্মসূচি বা কথা নিয়ে আওয়ামী লীগ মাথা ঘামাচ্ছে না। বিএনপিকে নিয়ে ভাবার সময় নেই।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৪ দলের মধ্যে কিছু বোঝাপড়া বাকি রয়েছে, যার সমাধান হয়নি।

জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দুই ধরনের কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে হিসাব-নিকাশ হবে একরকম। আর দলটি গতবারের মতো নির্বাচন বয়কট করলে হিসাব অন্যরকম।

বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলেই মনে করছে আওয়ামী লীগ। সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। বিএনপি নির্বাচনে এলে ১৪-দলীয় জোটের পরিধি না বাড়লেও কয়েকটি দলের সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতা হতে পারে। তাদের প্রধান লক্ষ্য নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি বলয় থেকে বিভিন্ন দলকে বিচ্ছিন্ন করা। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি আসন ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে আওয়ামী লীগ। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে একসময়ের বিএনপি নেতা তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সঙ্গে ঢাকার একটি আসন নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তিনি আমাকে গুলশান থেকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।

অন্যদিকে বিএনপি বা তাদের জোট নির্বাচনে এলেও যাতে সুবিধাজনক অবস্থায় দাঁড়াতে না পারে সেই কৌশলেও এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে। দলটি হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলছে। হেফাজতের সঙ্গে কয়েকটি ইসলামপন্থি দলও আছে। তাদের কয়েকটি আবার ২০-দলীয় জোটের শরিক। হেফাজতের সঙ্গে থাকা দলগুলোর মধ্যে আছে ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, জমিয়াতুল উলামা ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ইত্যাদি। ১৪ দল তাদের না টানলেও এদের সঙ্গে একধরনের ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের এক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর তিন সদস্য এ বিষয়ে ভূমিকা পালন করছেন।

দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও ইসলামপন্থি দল তরিকত ফেডারেশনকে ১৪ দলে নেওয়া হয়। এবার ইসলামী ঐক্য ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৪ দলে আসার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে একটি বৈঠকে দলটির সভাপতি সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী ও মহাসচিব জয়নুল আবেদিন জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত থেকে নিজেদের এই আগ্রহের কথা জানায়। তবে শরিকদের আপত্তির কারণে সরাসরি জোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি থমকে গেলেও জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম তাদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

পথ খুঁজছে বিএনপি

বর্তমান পরিস্থিতিকে কঠিন সময় বলেই মনে করছেন বিএনপির অধিকাংশ নেতা। তারা বলছেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর একবার বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছিল বিএনপি। বর্তমানে তার চেয়েও বড় সঙ্কট চলছে। জীবনের শেষ বেলায় দলীয় প্রধান দুর্নীতির মামলায় কারাগারে। পরবর্তী কাণ্ডারি তারেক রহমান লন্ডনে প্রবাস জীবনযাপন করছেন, যার দুই দফায় ১৭ বছরের সাজা হয়েছে।

বিএনপির অভিযোগ, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে ছাড়াই বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা যাবে বলে আওয়ামী লীগ ভাবছে। তবে শেষ পর্যন্ত উনারা (খালেদা ও তারেক) যেতে না পারলেও তাদের নির্দেশনা নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যেতেও পারে বলে মনে করছেন দলের একাংশের নেতারা। তাদের যুক্তি, নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সব পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে। আর কট্টরপন্থিরা মনে করছে, যে কোনো মূল্যে খালেদা ও তারেক রহমানকে নিয়েই নির্বাচনে যেতে হবে। ২০-দলীয় জোটের ঐক্য ধরে রেখেই আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনে যেতে চায় বিএনপি।

খালেদাবিহীন বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা বর্জন নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আগে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হোক তারপর এ বিষয়ে ভাবা যাবে। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তার (খালেদা) ত্যাগ অনেক বেশি। আমি মনে করি, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে যদি সবার ভালো হয় তাহলে তিনি সেটিই করবেন। সেক্ষেত্রে তিনি তেমনই দিকনির্দেশনা দেবেন। এ ক্ষেত্রে এমাজউদ্দীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের উদাহরণ টানেন।

সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ দলটির মহাসচিবের। তিনি বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র আট মাস বাকি। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় বসার কোনো লক্ষণ নেই।

এলডিপি নেতা অলি আহমদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের আলামত দেখছে না জনগণ। কারণ দেশে রাজনীতি নেই। সরকারদলীয় নেতা-সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোট চাইছেন। আর বিএনপিপ্রধান কারাগারে। হিসাব স্পষ্ট, জোটনেত্রীকে না ছাড়লে ২০ দল নির্বাচনে যাবে না। আর আওয়ামী লীগ পুরনো কায়দায় ভোট করবে। সরকারের মেয়াদ বাড়বে। বর্তমান আবহ তা-ই বলে।

বিজেপি নেতা পার্থ বলেন, যে দলটি দেশ চালাচ্ছে তারা রাজনীতি করছে না, প্রতিহিংসায় লিপ্ত। গণতন্ত্রের কবর দিয়ে অন্যদেরও রাজনীতি থেকে দূরে রাখছে। এককথায় রাজনীতির ভবিষ্যৎ ভালো নয়, ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন।

 

জাতীয় পার্টির চ্যালেঞ্জ

 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। এরপর নিজের আসন ঢাকা-১৭তেও প্রচার চালিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় জনসভায় অংশ নিয়ে লাঙ্গলে ভোটের আহ্বান জানাচ্ছেন এরশাদ।

তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে পরিস্থিতিই বলে দেবে সামনে কৌশল কেমন থাকবে।

সিপিবি-বাসদ-গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার জোট

নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের জুলাই মাসে সিপিবি-বাসদ-গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ে জোট গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতৃত্বাধীন কোনো জোটেই যাবে না তারা। আগামী নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট রয়েছে। এই নির্বাচন কবে এবং কোন ফর্মুলায় হবে- সেটি এখন বিবেচ্য নয়। বরং আগে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সিপিবিসহ বাম দলগুলো নির্বাচনের আমূল সংস্কারের জন্য আন্দোলন করছে।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, আমরা বিকল্প আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি নির্মাণের প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় সামনে চলার অংশ হিসেবে নির্বাচনকে দেখছি। সেভাবেই ভূমিকা পালনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাম প্রগতিশীল ঘরানার ঐক্যের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ে সচেষ্ট হবেন বলে মনে করছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, দ্বিদলীয় ঐক্যের বাইরে দেশপ্রেমিক ও স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী দলগুলোকেও এক করার চেষ্টা করছি।

জোট নিয়ে তৎপর জেএসডি

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও নতুন গঠিত যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক ডা. বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী বলেন, আমরা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও কলুষিত রাজনীতিমুক্ত দেশ গঠনে জোট করতে যাচ্ছি। যারা আমাদের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত হতে চান তারা যুক্ত হবেন। সবার প্রতি এই আহ্বান। কয়েকটি দল যুক্ত হয়েছে। আশা করছি আরো অনেকেই যুক্ত হবেন।

 

জেএসডি সভাপতি রব মনে করেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ অতি ক্ষমতার লোভে বাকশাল করে। আর এখন অতি ক্ষমতার লোভ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কবর দেওয়ার আয়োজন করছে। এটা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সমমনা দলগুলো নিয়ে গোছানোর চেষ্টা করছি। এখনো চূড়ান্ত কিছু দাঁড়ায়নি। আগামীতে অনেক দূর এগোতে পারব বলে মনে করছি।

সংলাপ চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম মনে করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা স্থায়ী করতে যা যা করার তা করে যাচ্ছে। আবার চরিত্রগতভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাদের শাসন একই ধরনের। তারা আখের গোছাতেই ব্যস্ত থাকে। বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে আওয়ামী লীগকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আন্তঃদলীয় সংলাপের ব্যবস্থা করতে হবে। এর মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে। তালিকা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা কোনো জোটে নেই, একক নির্বাচন করব।

 

রাজনীতি পর্যবেক্ষণ

ভোটের রাজনীতিতে প্রধান দুই দলের বাইরে ছোট ছোট দলের তেমন কোনো গুরুত্ব নেই বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। এ ধরনের সব দলের মিলিত ভোট এক শতাংশ হওয়া নিয়েও সংশয় তার। তিনি বলেন, নির্বাচন যখন আসে তখনই কেবল এসব দলের তৎপরতা দেখা যায়। মাঠের রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো জোর নেই। তারা জোট গঠনের কথা বলছে। আমার তো মনে হয়, ৩০০ আসন তো দূরের কথা ১৫০ আসনেও তারা প্রার্থী দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি দিনে দিনে কঠিন হয়েছে। ভোটের মাত্র আট মাস আগে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কেউ দাঁড়াতে পারবে বলে মনে হয় না।

তৃতীয় শক্তি বা এই ধরনের প্রক্রিয়ায় যেতে হলে বহু আগে থেকে মাঠে কাজ করতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। নিজেদের ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads