• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একাংশ

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ

কোটা সংস্কার আন্দোলন

ফেসবুকে গুজব রটনাকারীদের খুঁজছে পুলিশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ এপ্রিল ২০১৮

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অজ্ঞাত সংখ্যক লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মৃত্যু ও রগ কাটার মতো মিথ্যা তথ্য প্রচার করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যারা সহিংস করে তুলেছে তাদেরকে খুঁজে বের করার কাজ চলছে।

পুলিশ বলছে, এজন্যে তারা প্রাথমিকভাবে ফেসবুকের দুশোটির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করেছিলেন। কিন্তু গত দু'দিনের তদন্তের পর এখন এই সংখ্যা এখন প্রায় ৩০টিতে নেমে এসেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে তারা এখন উসকানিমূলক তথ্য প্রচারকারী ও গুজব রটনাকারীদের খুঁজে বের করবেন। এসবের মধ্যে রয়েছে ফেসবুক পেইজ, ফেসবুকে ও টুইটারে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং কিছু অনলাইন পোর্টাল।

বৃহস্পতিবার ঢাকার রমনা থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কারো নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। এর সঙ্গে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির নাম ও পোস্টও যুক্ত করা হয়েছে।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক বিষয়। কিন্তু কিছু লোক যখন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ফেসবুকের অপব্যবহার করে সহিংসতায় প্ররোচনা দেয় তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

সোশাল মিডিয়ায় যেসব কনটেন্ট শেয়ার হচ্ছে, আপলোড করা হচ্ছে কিম্বা সেখানে যেসব মন্তব্য করা হচ্ছে সেগুলোর উপর নজর রাখার জন্যে এই ইউনিটের রয়েছে বিশেষ একটি বিভাগ। এই বিভাগের কর্মকর্তারা এরকম দুটো ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

তারা বলছেন, পুলিশের গুলিতে আবু বকর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃত্যু এবং আন্দোলনের বিরোধিতা করায় এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে -এরকম মিথ্যা খবর রটিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে সহিংস করে তোলা হয়েছিলো।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আবু বকরের মৃত্যু হয়েছে বলে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে কিন্তু এই খবরের কোন সত্যতা নেই। তিনি শুধু তার চোখের কোণে সামান্য আঘাত পেয়েছেন’।

তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলায় একজন ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই খবরেরও কোন ভিত্তি নেই। যার পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে রটানো হয়েছে, সেই ছাত্রীই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, রাগ উঠে যাওয়ায় তিনি লাথি মেরেছিলেন এবং তখন তার পা কেটে যায়।’ 

পুলিশ বলছে, আবু বকরের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর পরেই আন্দোলনকারীরা সহিংস হয়ে উঠে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে ঢুকে সেখানে ভাঙচুর চালায়। নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এসব মিথ্যা খবর রটিয়ে যারা হিংসাত্মক কার্যকলাপে প্ররোচনা যুগিয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করারই কাজ চলছে।’

তিনি জানান, গুজব রটানোর অভিযোগে প্রথমে তারা ফেসবুকের দু'শোটির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করেছিলেন। সেসব প্রোফাইল তারা খতিয়ে দেখেছেন। দেখার চেষ্টা করেছেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কারা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব মিথ্যা সংবাদ রটিয়েছে। এখন এই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ৩০টির মতো।

‘আমরা এখন এই আইডিগুলো নিয়ে কাজ করছি। এসবের পেছনে আসলেই যারা আছে তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে,’ বলেছেন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads