• মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬
ads
প্রিয়াঙ্কাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গারা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গারা

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ

প্রিয়াঙ্কাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গারা

  • জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, টেকনাফ
  • প্রকাশিত ২৩ মে ২০১৮

হলিউড ও বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গারা। তার প্রতিটি পরিদর্শনস্থলে ব্যাপক ভিড় জমে যাচ্ছে। এ কারণে পুলিশ সদস্যদের বাড়তি নিরাপত্তার আয়োজন করতে হচ্ছে। তার সফরসূচিতেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। আগে থেকে জানানো হচ্ছে না তিনি কোথায় কখন যাবেন। তবে এত কড়া নিরাপত্তা না রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ইউনিসেফের এই শুভেচ্ছাদূত। তিনি বহরে গাড়ির সংখ্যাও কমাতে বলেছেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের মতোই কাজ করবে বলে জানিয়েছে। নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

কক্সবাজার সফরের দ্বিতীয় দিনে টেকনাফের কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি গতকাল সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্র, লেদা ও রোহিঙ্গা এন্ট্রি পয়েন্ট ভাঙ্গায় যান। দুপুরে উখিয়ার বালুখালী-১ রোহিঙ্গা শিবিরও পরিদর্শন করেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা সেখানে ইউনিসেফের অর্থায়নে এনজিও সংস্থা কোডেক পরিচালিত চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খোঁজখবর নেন। সেখানকার ছাত্র মনজুর আলী জানায়, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে এতদিন টিভির পর্দায় দেখেছি। আজকে বাস্তবে দেখে খুব ভালো লাগছে। মনজুর জানায়, প্রিয়াঙ্কা তাদের পড়ালেখার সুবিধা-অসুবিধার খবরাখবর নেন। সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী রোহিঙ্গা শিশুদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

মিয়ানমারের আরাকানের মতো অনগ্রসর অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জনপ্রিয়তা বেশ বিস্ময়কর। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই বেশ ভিড় জমে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা যুবক সাইফুল আলম, আবুল কালাম, লালু মাঝিরা সাংবাদিকদের জানান, তারা ভারতের সিনেমা সম্পর্কে ভালোই খোঁজখবর রাখেন। আরাকানে ভারতীয় সিনেমা খুব জনপ্রিয়। উচ্ছ্বসিত আবুল কালাম জানান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে কাছে থেকে দেখতে পেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সাইফুল বলেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তার প্রিয় অভিনেত্রী। তার অনেক ছবি তিনি দেখেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফের হারিয়াখালী রোহিঙ্গা ত্রাণকেন্দ্র ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যামপ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি শাহপরীর দ্বীপের ভাঙ্গা এলাকায় যান। এ পয়েন্ট দিয়ে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। অভিনেত্রী গাড়ি থেকে নেমে সেখানে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করেন। দেখেন নাফ নদী ও ওপারে মিয়ানমারের অবস্থান। সেখানে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। তিনি তাদের স্বাস্থ্য ও পড়ালেখার খোঁজখবর নেন।

এরপর প্রিয়াঙ্কা টেকনাফের নেটং পাহাড়ে যান। নাফ নদী পেরিয়ে রোহিঙ্গারা কীভাবে বাংলাদেশে ঢুকেছে তা তাকে জানানো হয়। অভিনেত্রী সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করেন। দুপুর ১২টার দিকে তিনি উখিয়ার বালুখালী-১ রোহিঙ্গা শিবিরে যান। 

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হয়ে রোহিঙ্গা ক্যামপ পরিদর্শনের জন্য ৪ দিনের সফরে গত সোমবার বাংলাদেশে এসেছেন হলিউড ও বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি ওইদিনই বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছে সড়কপথে ইনানী রয়েল টিউলিপ হোটেলে ওঠেন। বিকালে তিনি মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরে যান। সেখানে একটি ডায়রিয়া ট্রিটমেন্ট সেন্টার পরিদর্শন করেন, রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিশুদের সঙ্গে বেশ কিছুটা পথ হাঁটেন, তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে নিয়ে দৌড় শুরু করেন প্রিয়াঙ্কা এবং তাদের সঙ্গে হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আজো কক্সবাজারে থাকবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads