• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
শিক্ষকদের অনশন অব্যাহত

এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশন অব্যহত রয়েছে শিক্ষকদের

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ

এমপিও দাবি

শিক্ষকদের অনশন অব্যাহত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ জুন ২০১৮

এমপিওভুক্তির দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো ‘আমরণ অনশন কর্মসূচি’ পালন করেছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। দাবি পূরণে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা। ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের’ ব্যানারে গত সোমবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে এমন কঠোর কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন তারা।

গতকাল কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ‘সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা টি-শার্ট গায়ে ও ‘এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা ফিতা মাথায় বেঁধে সহস্রাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী গতকাল কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনশনরত শিক্ষকদের মধ্যে অন্তত সাতজন গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েন। খোলা আকাশের নিচে রোদের মধ্যে ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা। তাদের দাবি, অনশনে কোনো শিক্ষকের প্রাণ গেলে দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘আমরণ অনশনরত কোনো শিক্ষকের মৃত্যুর দুঃসংবাদ শোনার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমপিওভুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে বলে অনশনরতরা আশাবাদী বলে জানান তিনি। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, ‘আমরা টানা ১৫ দিন রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখনো আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই আমরণ অনশন পালনে নেমেছি। এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিদিন এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতিতে আমাদের ন্যায্য দাবির এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। আমরা ক্ষুধার জ্বালায় রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় ছাড়া শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাব না।’

আন্দোলনরতদের অভিযোগ, অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন সেখানে নতুন এমপিওভুক্তি নিয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন। এর আগেও একই দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনশনের পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভেঙে ফিরে যান তারা।

তথ্য মতে, সারা দেশে বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ২৪২টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাকে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত না করায় ফের আন্দোলনে নেমেছেন তারা। বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ২৮ হাজার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads