• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
হাট ইজারায় সিন্ডিকেট ভাঙতে চায় ডিএনসিসি

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট ইজারায় আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)

সংরক্ষিত ছবি

বাংলাদেশ

হাট ইজারায় সিন্ডিকেট ভাঙতে চায় ডিএনসিসি

  • রানা হানিফ
  • প্রকাশিত ০৫ জুলাই ২০১৮

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট ইজারায় আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গেল বছর বেশ কয়েকটি হাটের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় সেগুলোর ইজারা বন্ধ ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল সিন্ডিকেট করে দরপত্র গ্রহণ এবং কাঙ্ক্ষিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য প্রস্তাব করায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ বছর সেই জটিলতা দূর করতে হাটের বিপরীতে সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণও করে দিয়েছে ডিএনসিসি।

এ বছর গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটসহ আরো সাতটি অস্থায়ী হাট বসাচ্ছে উত্তর সিটি করপোরেশন। গাবতলী বাদে বাকি সাতটি হাটের বিপরীতে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান ও বিক্রি শুরু করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন। প্রতিবছরের মতো এবারো তিনটি বিকল্প ধাপে দরপত্র আহ্বান করেছে তারা।

উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন সাতটি হাটের বিপরীতে দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। প্রথম পর্যায়ে দরপত্র শিডিউল বিক্রি করা হবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। আর দরপত্র জমা নেওয়া হবে ১২ জুলাই সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। ওইদিনই বিকাল ৩টায় দরপত্র খোলা হবে। প্রথম ধাপে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়া গেলে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বিক্রি হবে দ্বিতীয় ধাপের দরপত্র এবং মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক হবে ২৪ জুলাই এবং ৫ আগস্ট তৃতীয় ধাপের শিডিউল বিক্রির পর দরপত্র জমা ও মূল্যায়ন করা হবে ৬ আগস্ট।

ডিএনসিসি সম্পত্তি বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর গাবতলীর স্থায়ী হাট বাদে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, আশিয়ান সিটি হাউজিং পশুর হাট, ভাটারা (সাইদ নগর) পশুর হাট, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন বছিলা পুলিশ লাইনের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা এবং মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টির খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হচ্ছে।

উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরের হাটের সরকারি সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৭৮ টাকা, শিডিউল বিক্রি হচ্ছে ৪৩ হাজার ৬০০ টাকায়। খিলক্ষেত বনরূপা হাটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৯ টাকা। এই হাটের শিডিউল বিক্রি হচ্ছে ৩১ হাজার ৮০০ টাকায়। আশিয়ান সিটির হাটের সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮৪ টাকা, শিডিউল বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। ভাটারা সাইদ নগর হাটের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯৬৭ টাকা, মোহাম্মদপুর বছিলা হাটের দাম ধরা হয়েছে ৮৩ লাখ ২১ হাজার টাকা, মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং হাটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ লাখ ৯ হাজার ৮১৯ টাকা এবং মিরপুর ডিওএইচএসের হাটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা। এসব হাটের শিডিউলের মূল্য রাখা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা করে। ২০১৭ সালে বনরূপা ও আশিয়ান সিটির হাটের ইজারা নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয় ডিএনসিসিকে।

হাটের ইজারা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ বছরও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, উত্তর সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার দফতর এবং করপোরেশনের পাঁচটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর থেকে শিডিউল বিক্রি ও জমা নেওয়া হবে।

তবে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বছরও ই-টেন্ডারের মাধ্যমে হাটের ইজারা সম্পন্ন করতে পারছে না ডিএনসিসি।

উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, হাট ইজারা নিয়ে গত বছর আমাদের জন্য ছিল বিব্রতকর একটা বিষয়। বেশ কয়েকটি হাটের বিপরীতে ইজারাদাররা সিন্ডিকেট করে কম মূল্য প্রস্তাব করেছিল। তখন সরকারি মূল্য উল্লেখ না থাকায় তারা এ সুযোগ পেয়েছিলেন। এতে কয়েকটি হাটের ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। হাটগুলো নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিকরা এমনটা করেন। আগে হাটের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে বেশি মূল্য না পাওয়া গেলে দুই বছরের মূল্যের গড় মূল্যকে সর্বনিম্ন দর ধরা হতো। কিন্তু এ বছর মন্ত্রণালয় থেকে হাটের বিপরীতে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছর হাট নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট হতে দেওয়া হবে না। তিনটি নির্ধারিত তারিখে দরপত্র নেওয়া হবে। যদি প্রথম দিন কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী দুটো ধাপে ইজারা সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।

ই-টেন্ডার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়াত মেয়রের পরিকল্পনাটি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। আসলে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাইরে ই-টেন্ডারের ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads