• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
ads
ফারমার্স ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

দুর্নীতি দমন কমিশন

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ

সিনহার একাউন্টে টাকা স্থানান্তর

ফারমার্স ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে তদন্ত করতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ছয় কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক।

আগামীকাল বুধবার সকাল দশটায় তাদের দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। এদিকে বিচারপতি সিনহা নিজের লেখা বইয়ে সহকর্মী বিচারকদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তাতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম।

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও শাহজাহান নামে দুজন ব্যক্তি ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় আলাদা দুটি ঋণ একাউন্ট খোলেন। যাতে ঠিকানা ব্যবহার করা হয় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উত্তরার বাসার। এর দুদিন পর ৮ই নভেম্বর ওই ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে সুরেন্দ কুমার সিনহা চার কোটি টাকার আলাদা দুটি পে অর্ডার পাঠান। যা তার বেতন অ্যাকাউন্টে জমা করার নির্দেশ দেয়া হয়। সে সময়কার ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তলব করেছে দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে চার কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করিয়ে ভিন্ন ব্যক্তির নামে স্থানান্তর দেখিয়ে আত্মসাত এবং মানিলণ্ডারিং এর অভিযোগে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ছয় কর্মকর্তাকে ২৬ সেপ্টেম্বর তলব করেছে দুদক। টাকাটা কার একাউন্টে গেছে সেটাই অনুসন্ধানের বিষয়।

এদিকে সাবেক বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার লেখা বইয়ে অন্য বিচারকদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, 'যাদের সঙ্গে উনি বেঞ্চে বসেছেন উনাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলা এটা খুবই অগ্রহণযোগ্য। তিনি নিজেই বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন'।

এর আগে, ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণের নামে আত্মসাৎ ও পে-অর্ডারে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে দুদকের পরিচালক ও অভিযোগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, চার কোটি টাকা সিনহার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। সিনহা তার লেখা বইয়েও এই টাকার বিষয়ে ব্যাখা দিয়েছেন। সিনহা জানিয়েছেন, বাড়ি বিক্রির চার কোটি টাকা তার ব্যাংকে জমা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়েও লিখেছেন সিনহা তার বইয়ে।

তবে দুদক সরাসরি তদন্তের বিষয়ে সিনহার নাম উল্লেখ করছে না। এমনকি দুদকের চিঠিতে তার নাম উল্লেখ না করে তাকে ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads