• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

বাংলাদেশ

‘এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। মা-বোনেরা পথে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না’

  • আসিফ উল আলম সোহান
  • প্রকাশিত ১৮ নভেম্বর ২০১৮

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক ১৯৬৮ সালের ১০ আগস্ট ময়মনসিংহে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু। এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি নতুন বাংলা ছাত্রসমাজে যোগ দেন এবং ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের ভিপি (১৯৮৪-১৯৮৮) নির্বাচিত হন। তারপর জাতীয় ছাত্রসমাজের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব এবং জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ চলতি নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের খবরের বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সোহান

বাংলাদেশের খবর : আগামী নির্বাচনে কি মনোনয়ন চাইবেন?

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক : জি, আমি মনোনয়ন চাইব।

বাংলাদেশের খবর : নির্বাচনে তো সব দলই অংশগ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে আপনারা দলীয় সর্বশেষ কী নির্দেশনা পেয়েছেন— আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে, নাকি এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবেন?

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক : এ বিষয়ে পার্টির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আমরা এখনো পাইনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমাদের পার্টির প্রেসিডেন্ট দেশের জন্য অনেক কাজ করেছেন। তাই দলকে শক্তিশালী করার জন্য এককভাবে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়া উচিত। তাতে জোটে যে সিটগুলো ছিল, তার থেকে বেশি সিট আমরা পাব ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশের খবর : গত টার্মে আপনারা (জাতীয় পার্টি) বিরোধী দলেও ছিলেন, আবার মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন। বিগত ৯ বছরে আপনার নির্বাচনী এলাকায় কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে?  

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক : আমি ডিরেক্টলি কাউকে খারাপ বলব না। তবে আসলে ঢাকা-১৪ আসনে এরশাদ সাহেবের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, যেমন বেড়িবাঁধ, গরুর হাট, মিরপুর স্টেডিয়াম— এমন অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এখানে এতটা উন্নয়নমূলক কাজ আওয়ামী লীগের যিনি এমপি বা অন্য কেউ করতে পারেননি। বর্তমানে ঢাকা-১৪ আসনে দৃষ্টান্তমূলক কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তাছাড়া এখানে সামাজিক অবস্থানও সুন্দর নেই।

বাংলাদেশের খবর : বর্তমান এমপি আসলামুল হকের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে মর্মে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক : সমাজে আসলে এসব নিয়ে কথা বলার মতো পরিবেশ নেই। একচলি সমাজে যে যে সেক্টরের, তাকে যদি সেই সেক্টরের নেতা বানানো হয় তাহলে খুবই ভালো হয়। মনে করেন, আমি পড়ালেখা জানি না; কিন্তু আমাকে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেওয়া হয়, আমি কিন্তু পারব না। তার মানে যিনি যে সেক্টরের, তাকে সেই সেক্টরের দায়িত্ব দিলে সমাজটা অবশ্যই সুন্দর হতো। বর্তমানে যারা এমপি আছেন, তাদের অনেককে যিনি যে সেক্টরে দক্ষ তাকে সেই সেক্টরে না দিয়ে অন্য সেক্টরে দেওয়ায় সমস্যা হয়েছে। তাই সামাজিক অবস্থানটা ভালো নেই। মানুষ খুব খারাপ অবস্থায় আছে। ছাত্র, শ্রমিক কিংবা সাধারণ জনতার কথা বলেন— কোনো দিক দিয়েই কেউ ভালো অবস্থানে নেই।

বাংলাদেশের খবর : এখন আপনার এলাকায় মূল সমস্যা কী? গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট— এগুলো কি...?

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক : গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট— এগুলোর সমস্যা তো আছেই। তাছাড়া এলাকায় মাদকের সমস্যা খুব বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে চাঁদাবাজিও বেড়ে গেছে। এলাকায় মা-বোনেরাও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। এ ধরনের অনেক সমস্যা আছে এলাকায়, যেগুলো জনপ্রতিনিধিদের সমাধান করা উচিত বলে মনে করি।  

বাংলাদেশের খবর : এলাকার জনগণের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি কী? নির্বাচিত হলে তাদের জন্য কী কী করবেন?

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক : এলাকার লোকজনকে কথা দিয়েছি, আল্লাহর রহমতে যদি আমি এমপি নির্বাচিত হই, তাহলে সব দলের নেতাকর্মী, ছাত্র-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে প্রতি ইউনিটে পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করব। এই পঞ্চায়েত কমিটির মাধ্যমে ওই ইউনিটটা চলবে। বিভিন্ন স্থানে আমরা বক্স বসাবো, যেন ভয়ে যারা প্রকাশ্যে নালিশ জানাতে পারে না, তারা যেন তাদের নালিশ লিখে ওই বক্সে রাখতে পারেন। ওই বক্স ২৪ ঘণ্টা পর পর খোলা হবে। এভাবে আমরা মামলা-মোকদ্দমাসহ সব ধরনের সমস্যার সমাধান করব। বেকারদের কাজের সুযোগ-সুবিধা বাড়াবো। সমাজের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সব ধরনের কাজ করব ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশের খবর : আপনাদের একক (এরশাদ) শাসনামলের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য কী বলে মনে করেন?

মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক : এখন তো হাজার হাজার কোটি টাকার ফান্ড। তখন এত টাকার ফান্ড থাকলে দেশের আরো অনেক উন্নতি করা যেত। আর এখন দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা যা খাচ্ছি, তার সবই ভেজাল। আমাদের ভেজাল চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা ওষুধ খাচ্ছি ভেজাল।

তার মানে দেশের কোনো কিছুই ভালো নেই। বিচারিক ব্যবস্থাও ভালো নেই। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে আপনারা দেখেছেন, যারা অ্যাসিড মারতো তাদের কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়ার পর অ্যাসিডমারা বন্ধ হয়ে যায়। সে রকম, যারা ভেজাল খাদ্য বিক্রি করে শিশুসহ আমাদের সবাইকে শেষ করে দিচ্ছে, তাদের দু-চারজনকে যদি আজকে সরকার ফাঁসি দিয়ে দিত, তাহলে এটা বন্ধ হয়ে যেত।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads