• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
সংস্কৃতির বিনিময় পর্যটন বিকাশে সহায়ক : প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ

সংস্কৃতির বিনিময় পর্যটন বিকাশে সহায়ক : প্রতিমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৯ এপ্রিল ২০১৯

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী, এমপি বলেছেন, সংস্কৃতির বিনিময় পর্যটন বিকাশে সহায়তা করে। সংস্কৃতির এই বিনিময় উভয় দেশের জনগণ কে লাভবান করবে এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত "নেপালি-বাংলা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার" উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত। বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যকার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক হাজার বছরের পুরাতন। নেপালের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা মৈথালি ভাষার কবি বিদ্যাপতি এবং তার কর্ম আমাদের মধ্যযুগীয় সাহিত্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য, বিনিময়কৃত মূল্যবোধ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে দুই দেশের সমমত আমাদের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত। একুশ শতকের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা মোকাবেলা এবং আমাদের মধ্যকার সম্ভাবনাকে বিকশিত করে বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য উভয় দেশকেই পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেপালের ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, নেপাল বাংলাদেশের একজন প্রকৃত বন্ধু। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নেপালের সরকার ও জনগণ তাদের সমর্থন ও সমমর্মিতা নিয়ে আমাদের পাশে ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতিদানকারী ৭ম দেশ নেপাল। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর হতেই আন্তরিকতা, সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। আমরা পরস্পরের কাছে এসেছি। বর্তমানে বাংলাদেশ এবং নেপাল জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, সার্ক ও বিমসটেক সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সাধারণ স্বার্থ রক্ষায় একত্রে কাজ করে চলেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ এবং নেপাল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে রক্ষায় দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একত্রে টাইগার প্রজেক্ট এ কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যকার জনগণের সম্পর্ক,পর্যটন ও বাণিজ্যের উন্নয়নে ইতিমধ্যেই ঢাকা-কাঠমান্ডু সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পর্যটনের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পর্যটন, ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটরদের উন্নয়নে দুই দেশের সম্মিলিতভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মাহবুব আলী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমূহের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষে কাজ করে চলেছেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বহুমাত্রিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দরে নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করেছেন।

দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য পরিচালনার সুবিধার্থে কাকরভিটা-ফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধা রুট টি ১৯৯৭ সাল হতেই চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর চিকিৎসা বিদ্যা অধ্যয়নে নেপালি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বৃত্তি প্রদান করে থাকে। এছাড়াও প্রতিবছর প্রায় ২৫০০জন নেপালি ছাত্র-ছাত্রী চিকিৎসা বিদ্যা, নার্সিং এবং প্রকৌশল বিদ্যা সহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আসে।আমি বিশ্বাস করি তারা উভয় দেশের সম্পর্কোন্নয়নে এক এক জন দূত।

তিনি এরকম একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি সহ অন্যান্য সকল অংশীজনদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের চার্জ দ‍্যা আ‍্যফেয়ার্স ডন বাহাদুর ওলি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের হাইকমিশনার ও রাস্ট্রদূত গণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নেপাল কালচারাল কর্পোরেশন ও বাংলাদেশের শিল্পীরা গান ও নাচ পরিবেশন করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads