• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
আলো ছড়াচ্ছে গুঞ্জন পাঠাগার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

বাংলাদেশ

আলো ছড়াচ্ছে গুঞ্জন পাঠাগার

  • নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২২ জানুয়ারি ২০২১

নবীনগর পৌর এলাকার সোহাতা গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন হাবিবুর রহমান স্বপন। ছোটবেলাই বাবাকে হারান তিনি। নিজের শেষ সম্বল দুই শতক জায়গায় একটি টিনের ঘরের এক পাশে ১৬০ টাকার একটি বাঁশের র্যাক ও তিনটি বই নিয়েই ২০০৪ সালে শুরু করেন ‘গুঞ্জন পাঠাগার’। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এমন পরিবারে খেয়ে না খেয়ে মায়ের দেওয়া টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে বই কিনে সোহাতাসহ পৌর এলাকায় স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে বই ফেরি করতেন তিনি। বইপড়া শেষ হলে আবার সেই বই নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করে নিয়ে আসতেন তিনি। লক্ষ্য ছিল এলাকাকে নিরক্ষর মুক্ত করা।

তিন ভাইয়ের সবার ছোট স্বপন। পয়সার অভাবে উন্মুক্ত থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে টিউশনির ফির টাকা দিয়ে নিজে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বই কিনছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন গাজীরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমানে গুঞ্জন পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। প্রতিদিন বিকেলে বসে নবীন-প্রবীণদের বইপড়ার আড্ডা। এই পাঠাগারে অধ্যয়ন করে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। নিজের শেষ সম্বল দুই শতক জায়গায় টিনের ঘরের পরিবর্তে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় গুঞ্জন পাঠাগারটি বর্তমানে বিল্ডিং হলেও স্বপনের দেনা সাড়ে চার লাখ টাকা। শিক্ষার্থীদের অনেকের জ্ঞান আহরণে সহায়ক হয়ে উঠেছে পাঠাগার।

বইপাঠ ছাড়াও পাঠাগারটির রয়েছে সাপ্তাহিক পাঠচক্র, মাসিক পরীক্ষা, ছয় মাসিক পরীক্ষা, দারিদ্র্য ও মেধাবী সম্মাননা ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান কার্যক্রম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার আড্ডা, বৃক্ষরোপণ, পিঠা উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ নানা কাজ হচ্ছে গুঞ্জনের ব্যানারে।

২০২০ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম গুঞ্জন পাঠাগারকে একটি বই গাড়ি উপহার দেন। স্বপন মিয়া বলেন, মায়ের পরে পাঠাগার আমার প্রথম ভালোবাসা। বিশ্বাস করি, পৃথিবীকে বদলে দিতে পরমাণু যুদ্ধ নয়, জ্ঞানযুদ্ধ দরকার। পাঠাগারের মাধ্যমে সারা বিশ্বে জ্ঞানযুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চাই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads