• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭
জয়ের ধারায় মাশরাফির রংপুর

বল হাতে উইকেট পাওয়ার পর ক্রিস গেইলকে মাশরাফির অভিনন্দন। ব্যাট হাতেও ঝলক দেখিয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। রংপুরের হয়ে খেলেছেন ৪০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বিপিএল

জয়ের ধারায় মাশরাফির রংপুর

  • স্পোর্টস রিপোর্টার
  • প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

১৮১ রান চ্যালেঞ্জিং স্কোর, তা বলা যায় নিঃসন্দেহে। কিন্তু খুলনার এমন স্কোর রংপুরের কাছে যেন ছিল মামুলিই। যে দলে আছেন গেইল, ভিলিয়ার্স, হেলস ও রুশোর মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান- স্বস্তিতে থাকতেই পারে রংপুর রাইডার্স। হয়েছেও তাই। গতকাল বিপিএলের প্রথম ম্যাচে শেষ পর্যন্ত দারুণ জয়ই পেয়েছে মাশরাফি ব্রিগেড। খুলনাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে জয়ের ধারায় রয়েছে রংপুর। সেই সঙ্গে শিরোপা জেতার সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করল দলটি।

মাঝে টানা তিন ম্যাচ হেরে আত্মবিশ্বাসের খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল রংপুর। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার মারকুটে ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্স আসার পর থেকেই ছন্দে ফেরে দলটি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলেন মাশরাফিরা। টানা দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে দারুণ খেলেছেন ভিলিয়ার্স। গতকালের ম্যাচে রংপুরের বড় পাওয়া গেইলের ফিরে আসা। স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে না পারলেও ফিফটি করে রংপুরের ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটিংদানব। সঙ্গে আশাও দিয়ে রাখলেন- সামনেই আসবে বড় ইনিংস। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রানের দেখা পেয়েছেন অ্যালেক্স হেলসও। আর চলমান বিপিএলে সর্বোচ্চ রান স্কোরার রিলে রুশো এদিন ব্যাট করেছেন পাঁচ নম্বরে। শেষ ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে তিনি দেখিয়েছেন নিজের ক্যারিশমা।

খুলনার জন্য হতাশাটা চরমে। টানা তিন ম্যাচ হারের পর জয়ের দেখা পেয়েছিল দলটি। কিন্তু পরের চারটি ম্যাচে আবার হার। সব মিলিয়ে আট ম্যাচে জয় মাত্র একটি। টুর্নামেন্ট থেকে একপ্রকার ছিটকেই গেল দলটি, তা বলাই যায়। অবস্থান তলানিতে। সেখানে ৮ ম্যাচে সমান চারটি করে জয় ও পরাজয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রংপুর রাইডার্স। সমান ১০ পয়েন্ট ঢাকা ও চিটাগংয়ের (ঢাকা-কুমিল্লার ম্যাচের আগ পর্যন্ত)। নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় প্রথম স্থানে সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস। দ্বিতীয় স্থানে মুশফিকের চিটাগং ভাইকিংস।  

জিততে হলে করতে হবে ১৮১ রান। শুরুটা উড়ন্ত রংপুরের। ব্যাট হাতে খুলনার বোলারদের নাচিয়ে ছেড়েছেন ক্রিস গেইল ও অ্যালেক্স হেলস। ৭৮ রানের বিচ্ছিন্ন হয় ওপেনিং জুটি। মাত্র ২৯ বলে ৫৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন হেলস ইয়াসির শাহর বলে বোল্ড হয়ে। হেলসের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কার মার। এরপর জমে ওঠে গেইল-ভিলিয়ার্স জুটি। এই জুটি দলকে টেনে নিয়ে যায় ১২১ রান পর্যন্ত। ভিলিয়ার্সকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ। ২৫ বলে তিন চার ও চার ছয়ে ৪১ রান করে ফেরেন ভিলিয়ার্স। এরপর মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান গেইল। ক্যারিবীয় এই মারকুটে ওপেনার খুব একটা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ব্যাট করেননি। খুনে মেজাজের পরিবর্তে তাকে দেখা গেছে দায়িত্বশীল ইনিংস গড়তে।  দলীয় ১৭১ রানে আউট হন গেইল। তার আগে করে যান ৪০ বলে ৫৫ রানের ঝকঝকে ইনিংস। যার মধ্যে চারের (২) চেয়ে ছক্কাই (৫) বেশি। গেইলের পর মিঠুনের (১৫) বিদায় শঙ্কা জাগালেও রুশো-নাহিদুল জুটি রংপুরকে জয় পাইয়ে দেয় তিন বল হাতে রেখে। তিন বলে ১০ রানে রুশো ও এক বলে ১ রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদুল। খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন ইয়াসির শাহ।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে খুলনা টাইটান্স। প্রথম ওভারে আল-আমিনের উইকেট তুলে নেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি। ৪ রান করা আল-আমিন ক্যাচ দেন মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে। দলীয় ২৯ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে আউট হন জুনায়েদ সিদ্দিকী। ১২ বলে ১৩ রান করে ফরহাদ রেজার শিকার তিনি। ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেওয়া ব্রেন্ডন টেলরকে ফেরান ক্রিস গেইল। ২০ বলে ৩২ রান করে নাহিদুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন জিম্বাবুয়ের তারকা ব্যাটসম্যান।

৫৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০ বলে ২৯ রান করে ফরহাদ রেজার দ্বিতীয় শিকার হন খুলনার অধিনায়ক। পরের বলে শান্তকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ফরহাদ। তবে শেষ পর্যন্ত হয়নি। ৩৫ বলে ৪৮ রান করেন শান্ত।

পরে অবশ্য আরো একটি উইকেট পেয়েছেন ফরহাদ রেজা। অ্যালেক্স হেলসের হাতে ক্যাচ বানিয়ে চতুর্থ শিকার হিসেবে তুলে নেন আরিফুল হকের (৬) উইকেট। শেষদিকে ডেভিড ওয়াইজের ছোট ঝড়ে ১৮১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় খুলনা। ১৫ বলে ৩৫ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার। রংংপুরের হয়ে ৩২ রানে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ফরহাদ রেজা। অনুমিতভাবে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনিই। মাশরাফি ও গেইল একটি করে উইকেট লাভ করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads