• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
নট আউট মোস্তাফিজ

নট আউট মোস্তাফিজ

ছবি : ইন্টারনেট

বিপিএল

নট আউট মোস্তাফিজ

  • মোস্তফা তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বাংলাদেশের ‘কাটার মাস্টার’ বলে পরিচিত বাঁহাতি পেস বোলার মোস্তাফিজুর রহমান এখন দারুণ ফর্মে রয়েছেন, যা আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের জন্য ইতিবাচক। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবারের মতো শেষ হয়েছে রাজশাহী কিংসের, সেই সঙ্গে মোস্তাফিজেরও। রাজশাহী শেষ চারে উঠতে না পারায় মোস্তাফিজের বোলিং কারিশমা বিপিএল দর্শকরা এবার আর দেখতে পারবেন না। বিপিএলে মোস্তাফিজ এবার বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট। আর মজার কথা, তিনি ব্যাট হাতে একবারো আউট হননি।

মোস্তাফিজ ৫ জানুয়ারি রাজশাহী কিংসের বিপিএলের প্রথম ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। দল হেরে যায়। তবে ব্যাট হাতে ১৩ বলে করেন অপরাজিত ১১ রান। ৯ জানুয়ারি খুলনা টাইটানসের সঙ্গে ৭ উইকেটে জয় পায় রাজশাহী। ওই ম্যাচে মোস্তাফিজ ৪ ওভার বল করে ১৮ রান দিয়ে লাভ করেন ২টি উইকেট। ব্যাট হাতে নামেননি তিনি। ১১ জানুয়ারি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলের বিপক্ষে হেরে যায় মোস্তাফিজের দল। ওই ম্যাচে মোস্তাফিজ ৩.৪ ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে পান ১টি উইকেট। আর ব্যাট হাতে ১ বলে অপরাজিত ১ রান করেন তিনি। ১৩ জানুয়ারি রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৫ রানে জিতে যায় রাজশাহী। ম্যাচে মোস্তাফিজ কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৭ রান দেন। ব্যাট করতে নামেননি তিনি। ১৫ জানুয়ারি খুলনা টাইটানসের সঙ্গে পরাজিত হয় মোস্তাফিজের দল। ম্যাচে মোস্তাফিজ ৪ ওভার বল করে ২১ রানে পান ১টি উইকেট। ব্যাট হাতে নামলেও কোনো বলের মোকাবেলা করতে হয়নি তাকে। ১৬ জানুয়ারি ঢাকা ডায়নামাইটসের বিরুদ্ধে ২০ রানে জয় পায় রাজশাহী। ম্যাচে মোস্তাফিজ ৪ ওভার বল করে ১৯ রানে পান ১টি উইকেট। ব্যাট হাতে মাঠে নামা হয়নি তার। ২১ জানুয়ারি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলের সঙ্গে ৩৮ রানের বড় জয় পান মোস্তাফিজরা। ম্যাচে মোস্তাফিজ বল হাতে ৩.২ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে লাভ করেন ১টি উইকেট। ২৩ জানুয়ারি চিটাগং ভাইকিংস দলের বিরুদ্ধে হেরে যায় রাজশাহী। ম্যাচে মোস্তাফিজ বল হাতে ৩.৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। আর ব্যাট হাতে তার মাঠে নামা হয়নি। ২৫ জানুয়ারি সিলেট সিক্সার্স দলের সঙ্গেও পরাজিত হয়। ম্যাচে মোস্তাফিজ বল হাতে ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে পান ২টি উইকেট। ওই ম্যাচেই তার বলে সবচেয়ে বেশি রান হয়। আর ব্যাট হাতে তিনি ৩ বলে করেন অপরাজিত ১ রান। এরপর ২৬ জানুয়ারি মোস্তাফিজের দল ৭ রানে হারিয়ে দেয় চিটাগং ভাইকিংসকে। ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ২৮ রান দিয়ে তিনি পান ৩টি উইকেট। ব্যাট হাতে মাঠে নামেননি মোস্তাফিজ। ২৯ জানুয়ারি রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরে যান মোস্তাফিজরা। ম্যাচে মোস্তাফিজ ৩.৪ ওভারে ৩৩ রানে কোনো উইকেট পাননি। তবে ব্যাট হাতে মাত্র ১ বলে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৩০ জানুয়ারি শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে তার দল জয় পায় সিলেট সিক্সার্স দলের বিপক্ষে। ম্যাচে মোস্তাফিজ ৪ ওভারে ৩১ রানে লাভ করেন ১টি উইকেট। আর ব্যাট করতে নামেননি তিনি।   

রাজশাহী (নেট রানরেট -০.৫১৮) দল ঢাকার (নেট রানরেট ০.৯৭৪) সমান ১২ পয়েন্ট পেলেও শেষ চারে উঠতে পারেনি। নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে ঢাকা শেষ চারে উঠে যায় রাজশাহীকে টপকে। শেষ চারে রাজশাহী থাকলে হয়তো মোস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্য আরো চোখে পড়ত। 

মোস্তাফিজ বল হাতে মোট ১২ ম্যাচে ৪৬.২ ওভার বল করে ৩০১ রান দিয়ে লাভ করেন ১১টি উইকেট। শেষের সারির এই ব্যাটসম্যান হিসেবে নেমে ৫ ম্যাচে মোট ১৭ রান করলেও পুরো বিপিএলে তিনি ছিলেন ব্যাট হাতে অপরাজিত। ভালো ফর্মে থাকায় মোস্তাফিজ আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ভালো নৈপুণ্য দেখাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অবশ্য দুটি খেলাই ছোট ফরম্যাটের বলে ওই আশা করাই যায় তাকে নিয়ে। 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads