• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
ঢাকাকে হারিয়ে শিরোপা কুমিল্লার

ছবি : সংগৃহীত

বিপিএল

ঢাকাকে হারিয়ে শিরোপা কুমিল্লার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয় সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কুমিল্লার করা ২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ডায়নামাইটসের ইনিংস থামে ১৮২ রানে। আর তাতেই এবারের আসরের শিরোপা ঘরে তুলে নিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের এই ফাইনাল ম্যাচটির দিকেই তাকিয়ে ছিল কোটি দর্শক-সমর্থকরা। আজ শুক্রবার ফাইনালের এই মহারণে টস জিতে ব্যাটিং নেয় ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এর আগে মিরপুরে খেলা সবশেষ পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে আগে ফিল্ডিং করা দল। তবে প্রিয় বন্ধুর এই সিদ্ধান্তকে একাই ভুল প্রমাণ করেন তামিম ইকবাল। পুরো টুর্নামেন্টে নিজের জাত চেনাতে ব্যর্থ ফাইনালকে বেঁছে নিয়েছেন বামহাতি এই ব্যাটসম্যান। এদিন টি-২০ ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। 

৬১ বলে ১৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফাইনালটাকে মনোমুগ্ধকর করেছেন দেশসেরা এই ওপেনার। ১১টি ছয় ও ১০টি চারে দারুন এই ইনিংসটি সাজিয়ে অপরাজিত থাকেন তামিম ইকবাল। যা বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। প্রথম সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল ২০১৭ সালে ক্রিস গেইলের ১৪৬ রানের।

শুরুতেই ওপেন করতে মাঠে নামেন তামিম ও লুইস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লার। দলীয় ৯ রানে রুবেলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে আসেন এই ক্যারিবিয়ান। এর পর এনামুলকে সাথে নিয়ে দলের হাল ধরেন টাইগার হার্ডহিটার তামিম। এই জুটিতে তারা ৯৮ রান যোগ করেন তামিম-বিজয়। বিজয় আউট হলে বেশিদূর এগুতে পারেননি শামছুর রহমান। ১ রান যোগ করেই সাকিবের হাতে রান আউট হয়ে ফিরে যান তিনি।

অধিনায়ক ইমরুল কায়েসকে সাথে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন তামিম। তামিম-ইমরুল দলকে ১৯৯ রানে নিয়ে গিয়ে ঢাকাকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিয়ে তাদের ইনিংস শেষ করেন। ইমরুল ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ঢাকার হয়ে সাকিব ও রুবেল একটি করে উইকেট তুলে নেন। ২৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক বনে যান বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডার।

২০০ রানের টার্গেটে ওপেনিংয়ে নামেন ঢাকার ক্যারিবীয়ান তারকা সুনীল নারাইন এবং লঙ্কান তারকা উপুল থারাঙ্গা। প্রথম ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন নারাইন। বোলার সাইফউদ্দিন দারুণ এক থ্রোতে ফেরান নারাইনকে। এরপর ব্যাটে উপুল থারাঙ্গা ও রনি তালুকদার মিলে ব্যাটে ঝড় তোলেন। তবে দলীয় ১০২ রানে উইকেট বিলিয়ে দেন থারাঙ্গা। পেরেরার করা নবম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে ফেরেন তিনি। ২৭ বলে ৪৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি খেলেন থারাঙ্গা। এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন অধিনায়ক সাকিব। তবে দলীয় ১২০ রানে তাকে ফেরান ওয়াহাব রিয়াজ। তার করা ১২তম ওভারের প্রথম বলে ব্যক্তিগত ৩ রানে ফেরেন সাকিব।

এরপর ১ রানের ব্যবধানে রানআউট হয়ে ফেরেন রনি তালুকদার। ফেরার আগে ৩৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর দলীয় ১৩২ রানে আন্দ্রে রাসেলকে ৪ রানে ফেরান থিসারা পেরেরা। তার করা ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাসেল। দলীয় ১৪১ রানের মাথায় কাইরন পোলার্ড ১৫ বলে ১৩ রান করে সাজঘরের পথে হাঁটেন। কোনো রান না করেই বিদায় নেন শুভাগত হোম। ১৯তম ওভারে ১৫ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করে বিদায় নেন নুরুল হাসান সোহান। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ঢাকা। কুমিল্লার পেসার ওয়াহাব রিয়াজ তিনটি, থিসারা পেরেরা দুটি আর সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট পান।

লিগের শেষ দিকে এসে একের পর এক হারে কিছুটা শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল ঢাকা। এরপর বেশ লড়াই করেই উঠতে হয়েছে সেরা চারে। এলিমিনেটর ম্যাচে মুশফিকের চিটাগং ভাইকিংস, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মাশরাফির রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় ফাইনালে। সাকিবের নেতৃত্বাধীন ঢাকা দলে ছিলেন আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড ও সুনীল নারাইনের মতো তারকা। এছাড়াও ছিলেন রুবেল হোসেন আর নুরুল হাসান সোহানরা।

অন্যদিকে, অনেকটা দুর্দান্ত খেলেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফাইনালে উঠে। ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বাধীন দলটিতে তামিম ইকবাল ছাড়াও ছিলেন শহীদ আফ্রিদি, থিসারা পেরেরা, ওয়াহাব রিয়াজ, শামসুর রহমান শুভ ও সাইফউদ্দিনরা। চলতি আসরের লিগ পর্বে ঢাকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় পায় কুমিল্লা। যা এবার শিরোপার লড়াইয়ে তামিম-ইমরুলদের জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের জায়গা ছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads