• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ads
তামিম ঝড়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

ঝড়ো সেঞ্চুরির পর শূন্যে ভাসছেন কুমিল্লার হার্ড হিটার ওপেনার তামিম ইকবাল

ছবি : ক্রিকইনফো

বিপিএল

তামিম ঝড়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

  • মাহমুদুন্নবী চঞ্চল
  • প্রকাশিত ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ফাইনালের জন্যই হয়তো সব জমা রেখেছিলেন তামিম। গোটা বিপিএলে সর্বোচ্চ রান যেখানে অপরাজিত ৫৫। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে সেই তামিম দেখালেন তার বীরত্ব। রীতিমতো কচুকাটা করলেন ঢাকার বোলারদের। চার-ছক্কায় মাতালেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। বল মুহুর্মুহ আছড়ে পড়ল গ্যালারিতে। দেখা মিলল বিস্ফোরক এক সেঞ্চুরির। অপরাজিত থাকলেন ৬১ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। ব্যাট হাতে কারিশমা দেখানো তামিম ফিল্ডিংয়েও যেন উড়ন্ত বাজপাখি। নিলেন অসাধ্য দুটি ক্যাচ। বিপিএলের ফাইনাল যেন গোটাই তামিম শো। শেষ অবধি এই তামিম ম্যাজিকেই শেষ হাসি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। অপ্রতিরোধ্য ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারিয়ে বিপিএলের শিরোপায় চুমু এঁকেছে কুমিল্লা শিবির। বিপিএলে কুমিল্লার এটি দ্বিতীয় শিরোপা।  

জিততে হলে ঢাকাকে করতে হবে বরাবর ২০০ রান। কঠিন লক্ষ্যে সাকিবদের শুরুটা ছিল হতাশারই। হার্ড হিটার ওপেনার সুনীল নারাইন পেলেন ডায়মন্ড ডাক। কোনো বল না খেলেই রান আউট। তবে শুরুর ধাক্কা দ্রুতই সামলে নেয় ঢাকা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে উপল থারাঙ্গা ও লোকাল বয় রনি তালুকদার ঢাকাকে স্বপ্ন দেখান পুরোদমে। দুজনের খুনে ব্যাটিংয়ে ঢাকার রান আসতে থাকে বিদ্যুৎ গতিতে। ৯ ওভারেই শতরান পূর্ণ হয় ঢাকার। কুমিল্লা শিবিরে তখন রাজ্যের শঙ্কা। তবে লঙ্কান ওপেনার থারাঙ্গাকে ফিরিয়ে কুমিল্লাকে স্বস্তি এনে দেন পেরেরা। ২৭ বলে ৪৮ রান করা থারাঙ্গার (চারটি চার, তিন ছক্কা) ক্যাচ নেন আবু হায়দার রনি। ভাঙে পাকাপোক্ত জুটি।

এর পর থেকেই যেন ঢাকার ছন্দপতন। ওয়াহাব রিয়াজকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান (৩)। তামিমের দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ। পরের ওভারে দুর্ভাগ্যজনক রান আউট ভালো খেলতে থাকা রনি। ৩৮ বলে ৬৬ রান করেন রনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও চারটি ছক্কার মার। ঝিমিয়ে পড়া ঢাকাকে টেনে তুলতে পারেননি মারকুটে আন্দ্রে রাসেল। ৩ বলে চার রান করে তিনি ওয়াহাব রিয়াজের শিকার। ১৩২ রানে ঢাকার নেই তখন ৫ উইকেট। রাসেলের স্বদেশি কাইরন পোলার্ড এক চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে আশা জাগালেও শেষটা বিষাদের। ১৫ বলে ১৩ রান করে তিনি বিদায় ওযাহাব রিয়াজের বলে। আবারো দুর্দান্ত ক্যাচ তামিমের।

পোলার্ডের পর শূন্য রানে ফেরেন শুভাগত হোম। সাইফের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দেন পেরেরার হাতে। দুই ছক্কায় শেষের দিকে ঝলক দেখানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ নূরুল হাসান সোহান। ১৫ বলে ১৮ রান করে তিনিও ওয়াহাব রিয়াজের শিকার। মাহমুদুল হাসানও চেষ্টায় ছিলেন। দুই ছক্কা মেরেছিলেন তিনিও। কিন্তু ৮ বলে ১৫ রান করা মাহমুদুলকে ফেরান সাইফ। শেষ পর্যন্ত ঢাকার ইনিংস শেষ হয় ৯ উইকেটে ১৮২ রানে। ১৭ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লার ইনিংস ছিল পুরোটাই তামিমময়। কুমিল্লার রান ৩ উইকেটে ১৯৯। এর মধ্যে তামিমই করেছেন ৬১ বলে ১৪১ রান, তাও অপরাজিত।  কুমিল্লার বাকি সব ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন ৫৯ বলে ৪৭! অতিরিক্তি থেকে এসেছে বাকি ১১ রান।

ইনিংসটির পথে তামিম ওলটপালট করে দিয়েছেন রেকর্ড বই। ৫০ বলে ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি, বিপিএলে তো বটেই, টি-টোয়েন্টিতেই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম সেঞ্চুরি। বিপিএলে এটি তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি। বিপিএলের ফাইনালে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বড় ইনিংসও এটি। ছাড়িয়েছেন এখানে নিজেকেই। ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টিতে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের হয়ে করেছিলেন ১৩০ রান। বিপিএলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছিল সাব্বির রহমানের ১২২। বিস্ফোরক ইনিংসের পথে তামিম ১০টি চারের পাশে ১১টি ছক্কা মেরেছেন। সাব্বিরের ৯ ছক্কা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের আগের রেকর্ড।

তামিমের সঙ্গে নামা এভিন লুইস এদিন কিছু করে দেখাতে পারেননি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৮৯ রানের জুটি গড়েন তামিম বিজয়ের সঙ্গে। বিজয় আউট হন ব্যক্তিগত ২৪ রানে। চতুর্থ উইকেটে ১০০ রানের তামিমের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ইমরুলের রান ২১ বলে ১৭। গোটা ইনিংস ছিল যেন তামিম-শো। যেভাবে পেরেছেন, মেরেছেন ঢাকার বোলারদের। শিরোপার সঙ্গে অনুমিতভাবে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটিও জিতেছেন তামিম।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads