• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads

পুঁজিবাজার

টানা পতনের পর ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে দুই শতাংশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ মার্চ ২০১৮

টানা দরপতনের পর দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। দরপতনে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বিনিয়োগসীমায় নেমে আসায় কৌশলী বিনিয়োগকারীরা সুযোগ লুফে নিয়েছেন। এতে শেয়ার ক্রয় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ডিএসইর ১৯ খাতের মধ্যে ১৫ খাতের বাজার মূলধন ১ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচকটি গতকাল প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছে। 

ব্যাংক ব্যবস্থায় তারল্য সঙ্কট ও আমানতের সুদহার বৃদ্ধির কারণে চলতি বছরের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা তৈরি হয়। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত পুনর্নির্ধারণের কারণে বাজার পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচকটি ৭৫৫ পয়েন্ট হারায়। নিয়মিত দরপতনে অধিকাংশ শেয়ারের দর সর্বনিম্ন দরে নেমে আসে। এ অবস্থায় কমদরে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য কমদরে শেয়ার কেনার সুযোগটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই নিয়েছেন। কারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগ সামর্থ্য প্রায় নেই বললেই চলে।

বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই ক্রয়াদেশের চাপে অধিকাংশ শেয়ারের দরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এতে শুরু থেকেই সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৭৮ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের তুলনায় ১০৮ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫৫৯৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়। এদিন ব্লু চিপ খ্যাত শেয়ারের দরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। এতে ডিএস-৩০ সূচকটি আগের দিনের চেয়ে প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়েছে।

ডিএসইর খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়লেও ব্যাংকখাত দরবৃদ্ধি সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এদিন এ খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। অবশ্য সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সিরামিক খাতে। এ খাতটির গড় মূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এর বাইরে জীবন বীমা খাত ২ দশমিক ৮ শতাংশ, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক খাত ২ দশমিক ২ শতাংশ, সেবাখাতের ২ দশমিক ১ শতাংশ দর বেড়েছে। একমাত্র পাট খাতের বাজার মূলধন সামান্য কমেছে। এদিন ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এককভাবে ব্যাংকখাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা।

অব্যাহত দরপতনে সাইড লাইনে থাকা বিনিয়োগকারীদের একটি অংশকে বৃহস্পতিবার সক্রিয় হতে দেখা গেছে। এদিন শেয়ার ক্রয়ে নেতৃত্বে ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। এতে  ডিএসইর লেনদেনে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩৩ শতাংশ বেশি। 

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৫ কোমপানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬১টির, কমেছে ৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টি কোম্পানির শেয়ারের। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩০ কোমপানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ৪৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি কোম্পানির শেয়ারের।

ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কোমপানি হলো : স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক লি., বেক্সিমকো লি., লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ইউসিবিএল, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লি., ইফাদ অটোস, সিটি ব্যাংক লি., গ্রামীণফোন ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
দরবৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোমপানি হলো : বেক্সিমকো লি., গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, শাশা ডেনিমস, তাক্কাফুল ইন্স্যুরেন্স, বিডি ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ব্যাংক লি., প্রিমিয়ার ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও জিএসপি ফাইন্যান্স।
অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোমপানি হলো : কুইন সাউথ টেক্সটাইল, স্টাইল ক্র্যাফট, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ইউসিবিএল, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, এনভয় টেক্সটাইল, ফাইন ফুডস, মুন্নু স্টাফলার, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ও রেকিট বেিকজার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads