• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
রেলের হাল নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

প্রায় দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে টিকেট কালোবাজারি হচ্ছে

প্রতীকী ছবি

যোগাযোগ

রেলের হাল নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ জুন ২০১৮

দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে টিকেট কালোবাজারি, সময়মতো ট্রেন না আসা, ট্রেনের টয়লেট ও ওয়েটিং রুম নোংরা, রেলের জমি বেদখল হয়ে যাওয়াসহ নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমপিরা। তারা এসব ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়মুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, সবচেয়ে গণমুখী পরিবহন হলো রেলওয়ে। একটি রেলে এক থেকে দুই হাজার লোক পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু মাঝখানে আমরা এই রেল বাদ দিয়ে সড়কপথে মনোযোগ দিয়েছিলাম। রেলওয়ের মতো নিরাপদ ভ্রমণ আবার আমাদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে।

বগুড়া-৬ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম ওমর বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি ১০টার ট্রেন রাত ১টায় আসে। সেটা এখনো পরিবর্তন হয়নি। প্লাটফর্মের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। অ্যাটেনডেন্স কে কোথায় থাকে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব কারণে রেলওয়ের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা টিকেট পাই না, সিট নেই, কেবিন নেই। আমাদের উত্তরবঙ্গের মানুষের অপরাধটা কী। আমাদের ওই লাইনে পুরনো ট্রেন চলে। আট-দশ বছর ঢাকা-চট্টগ্রাম চলার পর ট্রেনগুলো আমাদের ওই লাইনে চলে। এই সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না।

রওশন আরা মান্নান বলেন, ডিজিটাল যুগে রেলওয়ের সবকিছু নতুন করে করতে হবে। রেলের অনেক সম্পদ লুটপাট হয়ে যায়। এটি বন্ধ করতে হবে। একটি দালালচক্র সবসময় স্টেশনে হাঁটাচলা করে। এদের শাস্তি দিতে হবে। সিন্ডিকেট থেকে বের করতে পারলে রেল লাভজনক হবে।

হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি আবদুল মুনিম চৌধুরী বলেন, ট্রেনের প্রথম শ্রেণিতে ওঠার পর দেখলাম ফ্যান চলে না। চারদিকে দুর্গন্ধ। এটা যদি প্রথম শ্রেণি হয় তাহলে সাধারণ মানুষ যেখানে বসছে সেটার কী অবস্থা!

জবাবে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, রেলের কোনো মন্ত্রণালয় ছিল না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিভাগ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নতুন মন্ত্রণালয় করেছেন। এরপর থেকে রেলের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু উত্তরবঙ্গে ২৬টি ট্রেন যাতায়াত করে। বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপর রোড কাম রেল ব্রিজ করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অত্যাধুনিক রেলস্টেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন যাবে। গোপালগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন শিগগিরই উদ্বোধন হবে। দেশের একটি জেলাও রেল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads