• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
গণপরিবহন সঙ্কটে দুর্ভোগ

বিক্ষোভে কোথাও কোথাও বিআরটিসি বাস চলতে দেখা গেছে

সংরক্ষিত ছবি

যোগাযোগ

গণপরিবহন সঙ্কটে দুর্ভোগ

রিকশা পাঠাও উবার হচ্ছে ভরসা, ভাড়া বেশি # ঢাকা থেকে ছাড়েনি দূরপাল্লার বাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৩ আগস্ট ২০১৮

ঢাকার সড়কগুলোয় বৃহস্পতিবারও গণপরিবহনের সঙ্কট ছিল চরমে। আন্তঃজেলা চলাচলকারী বাস তো নেই-ই, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী বাস কদাচিৎ চলতে দেখা যায়। প্রায় সব সড়ক ফাঁকা দেখা গেছে। দু-একটি গাড়ি চলেছে কোনো কোনো রুটে। এতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও নাগরিকদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের কবলে পড়েন অফিসগামীরা।

সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও গতকাল বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, গার্মেন্ট, গণমাধ্যম ও শপিং মল ইত্যাদি খোলা ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অফিস ও কর্মস্থলগামী মানুষের ঢল নামে রাস্তায়। উপায় না থাকায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা, উবার ও পাঠাওয়ের মাধ্যমে অনেককে বাসা থেকে কর্মস্থল ও কর্মস্থল থেকে বাসায় পৌঁছাতে হয়। তাও সম্ভব না হওয়ায় বা কম আয়ের মানুষদের পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়।

গত কয়েক দিনের বিক্ষোভের মধ্যে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পরিবহন মালিকরাও বৃহস্পতিবার ঢাকার রুটে বাস নামাননি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গতকালও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চায়। সেগুলো ঠিকঠাক না থাকায় ভয়ে অনেকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হননি।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভে ‘যানবাহন ভাঙচুরের প্রতিবাদে’ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বলে বাস পরিবহন মালিক সমিতির কয়েক নেতা জানিয়েছেন। তবে তারা কেউ উদ্ধৃত হয়ে মিডিয়ায় বক্তব্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। এ অবস্থায় মালিকরা নিরাপত্তার বিষয়টিই সামনে নিয়ে আসছেন। ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বাংলাদেশের খবরকে জানানো হয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে বৃহস্পতিবারও যান চলাচল বন্ধ ছিল।

গতকাল নগরীর বিভিন্ন মোড় ঘুরে দেখা যায়, শত শত মানুষ রাস্তায় বাস ও অন্য পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় অফিস সময়ে অন্যান্য দিন যেখানে যানজট লেগে থাকে, সেখানে গতকাল ছিল গাড়িহীন অবস্থা। এসব এলাকায় গণপরিবহন ছিল না বললেও চলে। পরিবহন না থাকার দুর্ভোগের সঙ্গে সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও যোগ দেয়। ফলে নাগরিকদের দুর্ভোগ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

মিরপুর থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে গতকাল সকালে বাসা থেকে বের হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সকাল ৮টার মধ্যে তাকে অফিসে পৌঁছাতে হয়। তিনি মিরপুর-১২ নম্বরের রাস্তায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু কোনো বাস মিরপুর থেকে ছেড়ে যায়নি।’ রাজধানীর গুলশান এলাকার আরেক কর্মজীবী লায়লা সুলতানা বলেন, ‘তিন চার দিনের এ আন্দোলনের ফলে কর্মস্থলে যাওয়া ক্ষেত্রে নানা বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। আর এর ফলে সময়মতো তিনি যেমন গন্তব্যে পৌঁঁছুতে পারছেন না, তেমনি আবার অফিস থেকে বাসায় ফিরতে পারছেন না।’

এদিকে গণপরিবহনের সঙ্কটের সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পাঠাও, উবার ও রিকশার চালকরা। অন্য যানবাহনের লাইসেন্স চেক করলেও রিকশার কোনো ঝামেলা নেই। কিন্তু ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভাড়াভিত্তিক বাইকার ও রিকশাচালকদের যেন পোয়াবারো। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত বাইকে সর্বোচ্চ ভাড়া আসে ৫০ টাকা। অথচ গতকাল কোনো অ্যাপস ব্যবহার না করে বাইকাররা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নেন দেড়শ থেকে দুইশত টাকা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী থেকে গতকাল সকালে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আবার কোনো বাস এসব টার্মিনালে আসেনি। এতে ঢাকা থেকে প্রায় সব সড়কপথে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীর বাইরে যেতে চাইলেও অনেকে পারেননি। আবার বিভিন্ন প্রয়োজনে দূরের যাত্রীরা ঢাকায় আসতে পারেননি। বাস চলাচল বন্ধ থাকার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গাবতলীর ট্রাফিক সার্জেন্ট সোহেল রানা বলেন, ‘বাস চলেনি।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads