• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সড়কে যানজট, ট্রেনে বিলম্ব

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে ছুটছে মানুষ। ছবিটি গতকাল শিমুলিয়া ঘাটের

ছবি -বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

ঈদে ঘরে ফেরা

সড়কে যানজট, ট্রেনে বিলম্ব

  • রানা হানিফ
  • প্রকাশিত ১৯ আগস্ট ২০১৮

ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবারও মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট লক্ষ করা গেছে। এ কারণে রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া ঈদের বিশেষ বাস সার্ভিসের সবগুলোতেই দেখা দিয়েছে দীর্ঘ শিডিউল বিপর্যয়। ট্রেন যাত্রার প্রথম দিন সময়সূচি ঠিকঠাক থাকলেও দ্বিতীয় দিন প্রতিটি ট্রেনই কমলাপুর ছেড়েছে বিলম্বে। দেরির ভোগান্তি ছাড়াও ঠাসাঠাসি যাত্রীর চাপ ও তীব্র গরমে নাভিশ্বাস হওয়ার উপক্রম হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। এ তিন ফেরিঘাটেও ছিল গাড়ির দীর্ঘ লাইন। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিরতি ট্রেন ঢাকায় বিলম্বে পৌঁছানো ও অতিরিক্ত চাপে যাত্রী ওঠা-নামায় সময় লেগে যাওয়ায় ট্রেনের এমন শিডিউলের হেরফের হচ্ছে।

অন্যদিকে সড়কে ভোগান্তির প্রধান কারণ হিসেবে পশুবাহী ট্রাকসহ ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় পরিবহনের চাপ, ফেরিঘাটগুলোয় দীর্ঘ যানজট, মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় বেহাল দশাকেই দুষছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলাবাগান, মতিঝিলের বাস কাউন্টারগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি কোচই নির্ধারিত সময়ে ২ থেকে ৪ ঘণ্টার বিলম্বে ছাড়ছে। নৈশকোচগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন তারা। কল্যাণপুর ঈগল পরিবহন কাউন্টার থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১১টার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ খুলনা থেকে ফিরতে দেরি করায় তা রাজধানী ছেড়েছে রাত ৩টায়। একই চিত্র ছিল দক্ষিণাঞ্চলে চলাচলকারী অধিকাংশ পরিবহন কোম্পানির বাস সার্ভিসের চিত্র। হানিফ পরিবহনের চালক বেগ শহিদুল ইসলাম খোকন জানান, ঢাকা থেকে নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দীর্ঘ যানজটের কারণেই তিন থেকে চার ঘণ্টা লেগে যায়। একইভাবে ফিরতে ট্রিপেও ফেরিঘাটের দীর্ঘ জটে পড়ে নষ্ট হচ্ছে আরো তিন-চার ঘণ্টা। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক দিনে একটা ট্রিপ শেষ করে ৭-৮ ঘণ্টা রেস্ট (বিশ্রাম) নিতে পারি। কিন্তু ঈদে সে সুযোগ তো পাচ্ছিই না বরং প্রতিটি ট্রিপে উল্টো ৪-৫ ঘণ্টা শিডিউল মিস হচ্ছে।’

ঈদে বাড়ি ফিরতে সপরিবারে কল্যাণপুর বাস কাউন্টারে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় হাজির হন বেসরকারি চাকরিজীবী কবিরুল ইসলাম। গোল্ডেন লাইনের পিরোজপুরের সাড়ে ৯টার কোচে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কাউন্টারে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানানো হয়, ফিরতি কোচ দৌলতদিয়া ঘাটে দীর্ঘ যানজটে আটকে আছে। ফেরিতে উঠতে সময় গেলে যেতে পারে তিন থেকে চার ঘণ্টা। কবিরুল বলেন, কাউন্টার থেকে আমাদের বলা হয়, কল্যাণপুরের কাছাকাছি যাদের বাসা, তারা বাসায় চলে যেতে পারেন, বাস ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। বাস পৌঁছানোর এক ঘণ্টা আগে যাত্রীদের ফোন করে জানানো হবে।

এ ছাড়া কোরবানির পশুর ট্রাকের চাপে মহাসড়কে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। উত্তরবঙ্গে চলাচলকারী বাসগুলোকে ঢাকা থেকে বের হতে ও প্রবেশ করতে থেমে থেমে যানজটে পড়তে হচ্ছে গাজীপুর ও টাঙ্গাইল অংশে। বাংলাদেশের খবরের গাজীপুর ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেকটা ধীরগতিতেই চলতে হচ্ছে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে। কিছু কিছু জায়গায় পশুবাহী ট্রাক বিকল হওয়ার ঘটনায়ও সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এ দিকে কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবারের তুলনায় শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের অবস্থা ভালো ছিল। ধীরগতিতে চললেও তেমন একটা যানজট ছিল না এই সড়কে।

এদিকে নাব্য সঙ্কটে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল শুক্রবার রাত থেকে কম থাকলেও শনিবার দুপুর নাগাদ তা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। অন্যদিকে নাব্য সঙ্কট না থাকলে তীব্র স্রোতের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ঈদে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দুটিতে পরিবহনের চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে পশুর ট্রাকের কারণে এই চাপ আরো বেড়ে যায়। এই রুটে মোট ১৬টি ফেরি চলাচল করছে।

অন্যদিকে তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের ফেরি যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এই রুটে ফেরি চলাচলের সংখ্যাটা কম-বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড স্রোতের কারণে বেশ কিছু ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঘাটের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী পাটুরিয়ার অংশে বাসের দীর্ঘ জট রয়েছে। অন্যদিকে দৌলতদিয়া অংশ ঢাকা প্রবেশের অপেক্ষ শত শত পশুর ট্রাক ও ফিরতি বাসের জট রয়েছে। এই রুটে ছোট-বড় সব মিলিয়ে ২১টি ফেরি চলাচল করলেও তীব্র স্রোতে নদীর প্রতিকূল অবস্থার কারণে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম।

এ দিকে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে ট্রেনে। শিডিউলভুক্ত ট্রেন ছাড়াও ঈদের বিশেষ ট্রেনের সময়সূচিতেও দেখা দিয়েছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বিলম্ব। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে বিশেষ ও শিডিউলভুক্তসহ মোট ৬৮টি ট্রেন রাজধানী ছেড়েছে।

শনিবার শুরুতে ঢাকা-রাজশাহীর আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে সকাল ৭টায়। খুলনা অভিমুখী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছেড়েছে সকাল ৮টায়। এই ট্রেনটি ছাড়ার সময় ছিল সকাল ৬টা ২০ মিনিট। এ ছাড়া দিনাজপুরের চিলাহাটি নীলসাগর এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে কমলাপুরের প্লাটফর্ম। শিডিউলভুক্ত ট্রেনটি ৮টার বদলে ছেড়েছে ১০টা ২০ মিনিটে। সকাল ৯টার রংপুর এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে সকাল ১০টায়। আর ঈদের বিশেষ ট্রেন লালমনিরহাট এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিলম্বে ঘরমুখী ঈদযাত্রীদের নিয়ে ত্যাগ করেছে রাজধানী। বিশেষ এই ট্রেনটির ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৯টা ১৫ মিনিট।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, প্রথম দিন (শুক্রবার) ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও সেগুলো ঢাকায় ফিরতে বিলম্ব হয়েছে। পাশাপাশি ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের ট্রেনে ওঠা-নামায়ও অতিরিক্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই ঘণ্টার শিডিউল হেরফের হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads