• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ভোগান্তি বাড়ছে ট্রেনে কমছে ফেরিতে

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে গতকাল ট্রেনের ছাদেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। ছবিটি রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে তোলা

ছবি -বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

ভোগান্তি বাড়ছে ট্রেনে কমছে ফেরিতে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ আগস্ট ২০১৮

সড়কে যানজটের ভয়ে এবার অধিকাংশ যাত্রীই ঈদযাত্রায় বেছে নিয়েছেন ট্রেনকে। কিন্তু সেখানেও ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলছে না। যানজটের কবলে পড়তে না হলেও নিয়মিত ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অপরদিকে অপেক্ষার প্রহর কিছুটা হলেও কমছে ফেরি পারাপারের রুটে চলাচলকারী বাসযাত্রীদের। দূরপাল্লার বাসেও এখনো যাত্রীদের চাপ শুরু হয়নি, তাৎক্ষণিক টিকেটও পাচ্ছেন অনেকে।

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে গতকাল রোববার ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে আগের দিনের মতোই অধিকাংশ ট্রেন ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ খানিকটা দেরিতে। যাত্রীদের অনেকে ট্রেনের ছাদে চড়ছেন। ইঞ্জিনের সামনে, দরজার হাতলে ঝুলেও বাড়ির পথ ধরেছেন অনেকে। এই ভিড়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা মিলিয়ে বিড়ম্বনা সঙ্গে নিয়েই চলছে ঈদযাত্রা।

ট্রেনের সূচি অনুযায়ী গতকাল রোববার সকাল ৬টায় কমলাপুর থেকে দিনের প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি ছেড়ে যায় এক ঘণ্টা দেরিতে, সকাল ৭টার পর। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে স্টেশন ছাড়ে। চিলাহাটির নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা, তবে ট্রেনটি স্টেশনেই আসে বেলা ১০টা ৫ মিনিটে, ছেড়ে যায় ১০টা ৫৫ মিনিটে। বেলা ৯টার রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন বেলা ১১টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে আসেনি। দিনাজপুরের এক্সপ্রেস সকাল ১০টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি বেলা পৌনে ১১টায় কমলাপুরে এসে ১১টায় স্টেশন ছেড়ে যায়। লালমনিরহাট ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়ার কথা বেলা ৯টা ১৫ মিনিটে। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত সেটি স্টেশনেই আসেনি। ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর ট্রেনের কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা সকাল ৮টায়। ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট দেরি করে বেলা ১০টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি কমলাপুরের প্ল্যাটফর্মে আসে।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ট্রেনে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। যাত্রীদের ভিড়ে ট্রেনের দরজা দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ঢুকতে পারছিলেন না বাড্ডার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ফরিদ আহমেদ। উপায় না দেখে, স্ত্রীকে জানালা দিয়ে ট্রেনে উঠিয়ে দেন তিনি। অনেক কসরত করে পরে নিজে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘দরজায় যে ভিড়, ধাক্কাধাক্কি করে উঠতেই পারতাম না। কী আর করব, ট্রেন ঠিক সময়ে এলে এই ঝামেলাটা হতো না। এতক্ষণে হয়তো বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে যেতাম।’

রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী এমদাদ উল্লাহ স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্টেশনে এসে বসে আছেন সকাল ৭টা থেকে। ট্রেন ঠিক সময়ে না আসায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রতি ঈদেই রংপুর এক্সপ্রেস দেরি করে, আর আমাদের এই দুর্ভোগ হয়। সকাল থেকে বসে আছি, গরমে অস্থির লাগছে।’

এ ব্যাপারে কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, শনিবার তেজগাঁওয়ে একটি ট্রেন এক ঘণ্টা আটকে থাকায় অন্য ট্রেনগুলো দেরি করেছে। গতকাল (শনিবার) যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় অন্য ট্রেনগুলো ছাড়তে দেরি হয়েছে। সেগুলো ফিরতেও দেরি হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রীর চাপেও ট্রেন যেতে দেরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি থাকে। প্রতিটি স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামায় সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লাগে। যে কারণে ট্রেনগুলো গন্তব্যে দেরি করে পৌঁছায়। সেখান থেকে ফিরতেও দেরি হয়।’

এদিকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে নাব্য সঙ্কটের কারণে রোববার কে-টাইপ ও মাঝারি ধরনের ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দুপুরে ঘাট এলাকায় দুই শতাধিক গাড়ি অপেক্ষারত অবস্থায় দেখা যায়। সকাল থেকেই ছোট ও হালকা গাড়ি পারাপার করে ফেরিগুলো। ফলে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের সারি দীর্ঘ হয়। বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবদুল আলিম জানান, শনিবার রাতের দিকে ৬টি ফেরি চলাচল করেছে। রোববার ভোর সকাল থেকে ১৬টি ফেরি চলাচল শুরু হয়। রো রো ফেরিগুলো বন্ধ আছে। ধারণক্ষমতার কম লোড নিয়ে ফেরিগুলো চলছে।

তবে ভিন্ন অবস্থা ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশ পথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায়। আমাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রোববার ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ৫০-৮০টির বেশি যানবাহন দেখা যায়নি। বিআইডব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এসএস আশিকুজ্জামান বলেন, ঘাটের প্রস্তুতি ভালো থাকায় ঈদে গরুবোঝাই ট্রাক ও যাত্রী পরিবহন পারাপার স্বাভাবিক রাখতে আরিচা ফেরি সেক্টরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাটুরিয়া টার্মিনালে চারটি ঘাট ও দৌলতদিয়া টার্মিনালে ছয়টি ঘাট চালু আছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবং ফেরি পারাপার স্বাভাবিক থাকলে এ মৌসুমেও ঘাট এলাকা স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করেন বিআইডব্লিউটিসির এই কর্মকর্তা।

ঈদযাত্রার ‍তৃতীয় দিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গের জেলাগুলোর যাত্রীদের ভিড় থাকলেও উত্তর-পূর্বের জেলাগুলোর যাত্রীদের তেমন চাপ দেখা যায়নি। গাবতলী, মহাখালী ও কল্যাণপুরেও যাত্রীদের বাড়তি চাপ ছিল না। অনেকেই টার্মিনালে গিয়ে তাৎক্ষণিক বাসের টিকেট পেয়েছেন। বাস কাউন্টারগুলোর ব্যবস্থাপকরা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি হলে আজ সোমবার বিকাল থেকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ থাকবে বেশি।

এ দিন মহাসড়কে তীব্র যানজট না থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে ধীরগতিতে চলে যান। মেঘনা সেতুতেও একই অবস্থা দেখা যায়। দুই ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে। আজ সোমবার যাত্রী ও যানের চাপ বাড়লে যানজটের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলছে নৌপথে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সীমাহীন ভিড় ছিল এ দিনও। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক (কন্ট্রোল রুম) আলমগীর কবির বলেন, প্রতিদিন সরকারি-বেসরকরি প্রায় ৮০টি লঞ্চ সদরঘাট থেকে ছাড়া হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট থেকে ঈদের বিশেষ লঞ্চ ছাড়া হচ্ছে। ১০ আগস্ট থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত অন্তত ৯ লাখ মানুষ গন্তব্যে পৌঁছেছেন। আগামী দুই দিন অন্তত আরো তিন-চার লাখ মানুষ লঞ্চযোগে বাড়ি ফিরবে। ঈদে মানুষের ঢল নামায় ধারণক্ষমতার চেয়ে লঞ্চে ২০ শতাংশ যাত্রী বেশি উঠছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads