• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
সড়ক ও সেতুর অভাবে নড়বড়ে পল্লী যোগাযোগ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে একটি বাঁশের সেতু দিয়ে পারাপার করে ৯ গ্রামের মানুষ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

সড়ক ও সেতুর অভাবে নড়বড়ে পল্লী যোগাযোগ

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২০ আগস্ট ২০১৮

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসাবে বাংলাদেশের পল্লী এলাকার সড়ক সারা বছর ব্যবহারের সুযোগ পায় মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ। ইউনিয়ন পর্যায়ের ৮৪ শতাংশ সড়ক এখনো কাঁচা। আর উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা সড়কের হার ৩৩ শতাংশ। যাতায়াত অবকাঠামোর ত্রুটিতে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত পল্লীর মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে পল্লীর অন্তত ৪০ শতাংশ সড়ক সংস্কার না হলে যাতায়াত ব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে যাবে বলে ধারণা সংস্থাটির।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশের ৮৭ শতাংশ মানুষের বসবাসের দুই কিলোমিটার দূরত্বে সড়কপথ রয়েছে। এ সংস্থার উদ্বেগ সড়কের জরাজীর্ণ সেতু নিয়ে। সংস্থাটি বলছে, ২৫ বছরের বেশি বয়সী সেতুগুলো সংস্কারে প্রয়োজন ২০০ কোটি ডলার। আর প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৬৫০ কোটি ডলার। পল্লী এলাকার যোগাযোগ উন্নয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মতামতে এসব তথ্য জানিয়েছে এডিবি ও বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পল্লী সেতু স্থাপন ও সংস্কারে প্রয়োজন ৮৫০ কোটি ডলার। বিশাল এ অঙ্কের অর্থ জোগান দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের এ মুহূর্তে নেই। এ অবস্থায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য সেতু সংস্কারে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ প্রকল্পে ১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার ব্যয় করবে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় উন্নয়ন তহবিল থেকে সরকার অর্থ ব্যয় করলেও এ প্রকল্পে দ্রুত রাজস্ব তহবিলের অর্থ ছাড় করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পল্লী সড়ক সংস্কারে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ১৯ কোটি ডলার সহায়তা দিতে সম্মতি দিয়েছে এডিবি। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই প্রকল্পে সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংক বলছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কের সাড়ে চার কিলোমিটারে গড়ে একটি সেতুর প্রয়োজন। পল্লী অঞ্চলে ১৭ হাজার ৭৮৪টি সেতুর চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে বর্তমানে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সেতু রয়েছে ১৪ হাজার ৬৬৭টি। সড়ক যোগাযোগ কাঠামো নিরবচ্ছিন্ন করতে আরো ৩ হাজার ১১৭টি সেতু নির্মাণ করতে হবে। গড়ে ৬৭ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুগুলো নির্মাণে ব্যয় হবে ২০০ কোটি ডলার।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পল্লী এলাকার যাতায়াত অবকাঠামোর সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে ব্যয় হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তিনি বলেন, উন্নয়নের অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই সরকারের তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানব সম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে সরকার। এ অবস্থায় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের সামর্থ্য সরকারের রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্বব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, দেশে বিদ্যমান সেতুগুলোর অন্তত ২০ শতাংশের বয়স ২৫ বছর অতিক্রম করেছে। দ্রুত এসব সেতু পুনঃস্থাপন করতে হবে। ১৯৯০ সালে নির্মাণ করা ১৯ বছর বয়সী ৬০ শতাংশ সেতুর গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন। তা ছাড়া ১০ বছর অতিক্রম করেছে এমন কিছু সেতুরও সংস্কার প্রয়োজন। এ লক্ষ্য পূরণে দরকার ৬৫০ কোটি ডলার। বিপুল চাহিদার বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে সেতু নির্মাণ ও একেবারেই নাজুক সেতু পুনঃস্থাপনে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

এডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে পল্লীর অন্তত ৪০ শতাংশ সড়ক সংস্কার করা প্রয়োজন। তবে এতে অর্থায়নের সক্ষমতা সরকারের নেই। সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারের ব্যয় পর্যালোচনা করে সংস্থাটি বলছে, জরুরি সংস্কারের মাত্র ৩৫ শতাংশ অর্থ সরকারের তহবিল থেকে আসতে পারে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ শীর্ষক একটি প্রকল্পে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

দুই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি সহায়তা অনুসন্ধান করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইআরডি বেশ কিছু দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে এডিবি ও বিশ্বব্যাংক দুই প্রকল্পে অর্থায়নে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads