• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
ads
সড়ক শৃঙ্খলায় ২০ সিদ্ধান্ত

ঢলের মতো ঢাকায় ফিরছে মানুষ। সামনে বাস পেলেই হুড়োহুড়ি করে ওঠার চেষ্টা। শিমুলিয়া ঘাটের দৃশ্য।

ছবি -বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

সড়ক শৃঙ্খলায় ২০ সিদ্ধান্ত

# পরিবহন খাত শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পাবে #নসিমন-করিমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ # ঢাকায় আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হবে # ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাসের চেহারা পাল্টাবে # বিশ্রামাগার হবে ৪ সড়কে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০১৮

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্তত ২০টি সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দুটি কমিটি গঠন করেছে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সড়কে জিরো গতির গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। সড়ক ও মহাসড়কে ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন-করিমন জাতীয় ছোট যানগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঢাকায় আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেটা বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রঙ করে বাসের চেহারা পাল্টাতে হবে। এর মধ্যে অবশ্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। সেগুলোই এখন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে পরিষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিস্তারিত জানান সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোয় কোনো অযান্ত্রিক যানবাহন চলবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করবে রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি)। যেসব জেলায় আরটিসি নেই, সেখানে অতিসত্বর আরটিসি গঠন ও নিয়মিত সভা করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক-মহাসড়কে বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের বাম্পার, হুক ও অ্যাঙ্গেল অপসারণ করতে হবে। ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ অপসারণ করা হয়েছে। ২২টি মহাসড়কে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, লেগুনা, নসিমন-করিমন বন্ধে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে এ ধরনের যান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জাতীয় মহাসড়কে এসব ধীরগতির গাড়ি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। এমনকি ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন, করিমন, অটোরিকশার খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমতি না দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধপত্র পাঠানো হবে। জাতীয় মহাসড়কগুলোয় ইজিবাইকসহ ছোট-ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরি করতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মালেককে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

তিনি বলেন, কোনো গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, হুটার, স্টিকার ও মনোগ্রাম লাগানো চলবে না। হাইওয়েতে সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ৮০ কিলোমিটার। এই কাজের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি ও হাইওয়ে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অবৈধ যানবাহন ডাম্পিংয়ের জন্য পর্যায়ক্রমে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চালক ও হেলপারদের জন্য বিশ্রামাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এর সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে গরিব চেহারার গাড়িগুলোর বডির রঙ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরে মধ্যে পরিবর্তন করতে হবে। মহানগরীতে যানবাহন, বাসের প্রতিযোগিতা বন্ধে কন্ট্রাক্ট সার্ভিস বন্ধ করা হবে বলেও জানান তিনি। এ সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে কি রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আস্তে আস্তে আরো ইম্প্রভমেন্ট হবে। রাজধানীতে বেশিরভাগ গণপরিবহনে ভাড়ার বিনিময়ে টিকেট দেওয়ার ব্যবস্থায় ফেরা যায় কি না- এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মেয়র সাঈদ খোকনকে প্রধান করে যে কমিটি করেছি, তারা এ ব্যাপারে সুপারিশ দেবে। আমরা সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাব। গত বছরের অক্টোবরে বলেছিলেন রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বিষয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কিছু করা হয়নি- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সভা হবে। কয়েকদিন একটু অপেক্ষা করুন, সিদ্ধান্ত হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর ঈদের সময় যে তিনটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তিনটিই হাইওয়েতে এবং প্রত্যেকটি হাইওয়েতেই ডিভাইডার ছিল। কাজেই সড়কগুলোতে ডিভাইডার দিলেই দুর্ঘটনা কমে যাবে, তা সত্য নয়। সভায় ঢাকা মহানগরীতে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় পরিষদের সদস্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আফরোজা খান, পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা উত্তরের প্যানেল মেয়র, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানসহ সব বিভাগের ডিআইজি ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সভায় ছিলেন না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads