• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ফাঁকা ঢাকায়ও আইন অমান্যের প্রবণতা বাসের

বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

সংরক্ষিত ছবি

যোগাযোগ

সড়ক শৃঙ্খলায় তৎপর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ

ফাঁকা ঢাকায়ও আইন অমান্যের প্রবণতা বাসের

  • রানা হানিফ
  • প্রকাশিত ২৯ আগস্ট ২০১৮

ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে এখনো রাজধানীতে ফেরেনি অধিকাংশ বাসিন্দা। গতকাল মঙ্গলবারও চিরচেনা যানজটের ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও অলিগলি অনেকটাই যানবাহনশূন্য ছিল। তবে এ অবস্থায়ও উল্টোপথে চলা, সিগন্যাল না মানা, যত্রতত্র বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর মতো অপরাধ চলেছে। তাই রাজধানীতে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক বিভাগের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ২৫ আগস্ট যানবাহনশূন্য রাজধানীতে ডিএমপির ট্রাফিকের চারটি বিভাগে আইন অমান্যের দায়ে মামলা করা হয় ২ হাজার ১৪৯টি। ওইদিন ফিটনেসবিহীন ৩৩টি যানবাহনকে পাঠানো হয় ডাম্পিংয়ে আর মোট জরিমানা আদায় করা হয় ৭ লাখ ২৭ হাজার ৫৫০ টাকা। ঈদ উদযাপন শেষে রোববার রাজধানীতে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়লেও ফাঁকা ঢাকার চিত্র ছিল আগের মতোই। এদিন মামলা হয় ২ হাজার ৬৭৪টি, ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয় ২৮টি মোটর যান। আইন অমান্যের দায়ে মামলা হয় ৫৫৭টি বাস ও মিনিবাসের বিরুদ্ধে আর জরিমানা আদায় করা হয় ২৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬০ টাকা। আর গত সোমবার ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে মামলা হয় ৩ হাজার ৩৭৯টি। যার মধ্যে রয়েছে ৭৭২টি বাস ও মিনিবাস। এদিন ৩১টি মোটরযান ফিটনেস না থাকার দায়ে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয় আর জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া সপ্তাহের প্রথম তিন দিনের এমন তথ্যে আইন প্রয়োগের কঠোর অবস্থানের প্রমাণও পাওয়া যায় সরেজমিনে। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে ছিল না যানজট। সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলামোটর সিগন্যালে গিয়ে দেখা যায়, পথচারী পারাপারের জেব্রাক্রসিং থেকেও কয়েক ফুট দূরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে যানবাহনগুলোকে। গুরুত্বপূর্ণ এই সিগন্যালের পুলিশ বক্স থেকে মাইকের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন মানতে জনসচেতনতামূলক ঘোষণাও আসতে থাকে। একই চিত্র দেখা যায় কারওয়ানবাজার-পান্থপথ সিগন্যাল, শাহবাগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর, আসাদগেট, খামারবাড়ী এলাকাতেও। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সিগন্যালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শফিকুল ইসলাম উল্টোপথে চলাচলের জন্য চারটি মোটরবাইকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হলেও ওপর মহলের নির্দেশে আমরা কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করছি। মামলা দেওয়াটা শুধু শাস্তি নয়, আইন মানতে সচেতন করাও।

কাঁটাবন সিগন্যালে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য আকরাম শেখকে দেখা যায় জেব্রাক্রসিংয়ের ওপর দাঁড়ানো কয়েকটি বাস ও মোটরবাইক চালককে সরিয়ে দিয়ে সাবধান করতে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও গবেষণা) গোবিন্দ চন্দ্র পাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হলেও আমরা সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় নানা কর্মসূচি নিয়েছি। পুলিশের জনবলের সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও সম্পৃক্ত করছি ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য। জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন গবেষক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর-অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে, এরপর ট্রাফিক বিভাগের যে তৎপরতা তাতে অবশ্যই তাদের সাধুবাদ জানাই। আসলে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেও আইন মানার প্রবণতা গড়ে ওঠে। পাশাপাশি চালক, যাত্রী ও পথচারী প্রত্যেককেই নিজ উদ্যোগে ট্রাফিক আইন মেনে চলা উচিত। সবার অংশগ্রহণ ও সদিচ্ছা না থাকলে সড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, গেল জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহজুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদ থেকে সৃষ্টি হয় এই আন্দোলন। জনসমর্থন পাওয়া এই আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ উদযাপন শুরু করে জাতীয় ট্রাফিক সপ্তাহ। ওই সময়টাতে রাস্তায় দেখা যায়নি ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অধিকাংশ লাইসেন্সবিহীন চালক রাস্তায় নামেনি, মোটরবাইক চালক ও আরোহীর মাথায় দেখা গেছে হেলমেট। আর সড়কের এমন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যরাও। ওই সময় সড়কে আইন অমান্যের কারণে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৮ হাজার করে মামলা দায়ের করেছে ট্রাফিক পুলিশ আর দিনে জরিমানা আদায় করেছে অর্ধকোটি টাকারও ওপরে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads