• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
নতুন সংযোজন সিটিং সার্ভিস

ছবি : সংগৃহীত

যোগাযোগ

গণপরিবহনে নৈরাজ্য

নতুন সংযোজন সিটিং সার্ভিস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ মে ২০১৯

রাজধানীর গণপরিবহনে চলছে নৈরাজ্য। একাধিক নৈরাজ্যের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে সিটিং সার্ভিস নামের প্রতারণা। অনেক ভুক্তভোগীকে বলতে শোনা যায়, যাত্রী না পাওয়ায় সিটিং। বিষয়টি খোলাসা করলে এমন দাঁড়ায়, নগরীর একাধিক রুটে যে সিটিং সার্ভিস পরিবহনগুলো চলে তা যাত্রী না পেলে সিটিং থাকে। রাস্তায় অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় থাকলে তখন আর তা সিটিং থাকে না। কোনো তোয়াক্কা না করে যাত্রী ঠাসাই হয়ে যায় পরিবহনগুলো। তখন আর কেউ পরিবহনটিকে দেখলে বলবে না, এ সিটিং সার্ভিস। এমন রাজ্যের অভিযোগ নিয়েই নগরে চলছে সিটিং সার্ভিস।

ফলে সর্বনিম্ন ভাড়া আর ৫ টাকা নেই। এখন হয়েছে ১০ টাকা। গেটলক সার্ভিসও নেই। সিটিং সার্ভিস নাম করে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ৫ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। কে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে আর তা নির্ধারণের নিয়মনীতি কী, এ সম্পর্কে জানেন না চালক ও হেলপাররা।

গতকাল শুক্রবার খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় আনোয়ার হোসেন নামের এক যাত্রীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বসচা বাধে তুরাগ পরিবহনের কন্ডাক্টর জয়নাল মিয়ার। তখন জয়নালের কথার সূত্র ধরে উল্লিখিত তথ্যগুলো জানা যায়। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে জয়নাল বলেন, ইচ্ছে হয় যাবেন, নইলে নেমে যান।

এদিকে যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মালিবাগ ভাড়া ৫ টাকা। সব গাড়ির ভাড়াই ৫ টাকা। তুমি কেন ১০ টাকা নেবে?

এমন ঘটনা শুধু তুরাগ গাড়ির নয়, রাজধানীর সব গাড়ির একই চিত্র। তবে রোজার শুরু থেকেই রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া, গেটলক সার্ভিসে স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহন না করা, রাইড শেয়ারিং মোটরবাইক অ্যাপসের পরিবর্তে খ্যাপে ৩ থেকে ৪ গুণ অতিরিক্ত ভাড়ায়, যানজট ও গণপরিবহন সংকটের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এদিকে রমজানের শুরু থেকে ইফতারির আগ মুহূর্তে যানজট, গণপরিবহন সংকটসহ নানা কারণে নগরীর যাত্রীসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

গতকাল সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের প্রায় ৯৭ শতাংশ সিটিং সার্ভিসের নামে দরজা বন্ধ করে যাতায়াত করছে। এতে নগরীর মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজের যাত্রীসাধারণ চরম নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৯০ শতাংশ যাত্রী রমজানে গণপরিবহন ব্যবস্থার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ৯৫ শতাংশ যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হন। ৯৮ শতাংশ যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হয়। ৬৮ শতাংশ যাত্রী চলন্ত বাসে ওঠানামা করতে বাধ্য হন।

সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও ৩৬ শতাংশ যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হন। হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ কোথায় করতে হয় জানেন না ৯৩ শতাংশ যাত্রী, তবে ৯০ শতাংশ যাত্রী মনে করেন অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না বলেই তারা অভিযোগ করেন না।

যাত্রী ভোগান্তির এই চিত্র গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেলেও এসব ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। এ ছাড়া যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৯৩ শতাংশ অটোরিকশা। অনেকটা কাকতালীয়ভাবে ড্রাইভারের পছন্দের গন্তব্য মিলে গেলে রাজি হয় যাত্রীর গন্তব্যে যেতে।

এদিকে কমলাপুর, মগবাজার, শনিরআখড়া, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর-১০, মহাখালী, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারাসহ নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ট্যাক্সি ক্যাবের দেখা মেলে না। এই নৈরাজ্যে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে রাইড শেয়ারিংয়ের নামে চলাচল করা মোটরবাইকগুলো।

অন্যদিকে বিআরটিএ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে রাজধানীতে বাস-মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে যথাক্রমে ১ টাকা ৭০ পয়সা ও ১ টাকা ৬০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ কিলোমিটারে ৭ টাকা ও ৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও কেউ তা মানছে না।

এভাবে সিটিং সার্ভিস, গেটলক, ভিআইপি, অভিলসহ বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে গণপরিহন চালকরা। এ ছাড়া রাজধানীর মতিঝিল-রামপুরা-উত্তরা রুটসহ কিছু কিছু এলাকায় এসি বাস সার্ভিস চলছে। কিন্তু এসব এসি বাস সার্ভিসের ভাড়ার কোনো নীতিমালা নেই বলে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্র জানায়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়, এ বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী হয়রানির ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। এর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads