• সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫
ads
৩০ মিনিটেই সোনারগাঁও টু গৌরীপুর

ছবি : সংগৃহীত

যোগাযোগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

৩০ মিনিটেই সোনারগাঁও টু গৌরীপুর

  • কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ মে ২০১৯

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটারের মতো দূরত্ব যাত্রী ও যানবাহনের চালক-সহকারীর জন্য ছিল যানজটময় দুর্ভোগের। তীব্র যানজটের কারণে এই পথ কতক্ষণে পাড়ি দিতে পারবেন, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতেন যাত্রীরা। কখনো কখনো ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লেগেছে দেশের প্রধান এ মহাসড়কের ওই ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে। কিন্তু এসবই এখন অতীত। কারণ, এই পথ এখন পাড়ি দেওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মিনিটে!

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতী নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু এবং দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু গত শনিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান গতকাল রোববার বলেন, নতুন দুটি চার লেনের সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানুষের যাত্রা আরামদায়ক হয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষও এর সুফল পাবেন। আবার পুরনো দুই লেনের সেতু দুটিরও সংস্কার কাজ চলমান। আগামী ডিসেম্বরে সংস্কার কাজ শেষ হবে।

রোববার বেলা দেড়টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রিয়াজ উদ্দিন, আবদুল হান্নান, সোহেল রানা ও জুবায়ের হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, তারা নিয়মিত ঢাকায় আসা-যাওয়া করেন। গত শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত এখান থেকে ঢাকায় পৌঁছতে চার থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগত। আর আজ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস গৌরীপুর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে মাত্র ৫০ মিনিটে। সে হিসাবে তীব্র যানজট লেগে থাকা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত পাড়ি দিতে লেগেছে ৩০ মিনিট।

চালক রিয়াজ মিয়া, মো. ফারুক, লিটন মিয়া, শামীম হোসেন, শাহীন আলম ও ইকবাল হোসেন রোববার দুপুরে দাউদকান্দির পেন্নাই এলাকায় বলেন, দীর্ঘদিন মহাসড়কে যানজটে নাকাল হওয়ার পর তারা স্বস্তির দেখা পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে থামিয়ে বিরক্ত না করলে ঈদে তারা আনন্দে গাড়ি চালাতে পারবেন।

ঢাকার দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কুমিল্লার বাসিন্দা মো. তানভীর গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর আজ  (রোববার) কুমিল্লায় ফিরতে আরাম পেলাম। মেঘনা, গোমতী সেতু অতিক্রমের সময় মন আনন্দে ভরে উঠল।’

এতদিন চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহনগুলো দুই লেনের গোমতী ও মেঘনা সেতুতে ওঠার পর সেতুর দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার, ছুটির দিন এবং ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করত। এর ফলে ভোগান্তি পোহাতে হতো চালক ও যাত্রীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে রোগী, নারী-শিশুসহ সব যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়ে তাই স্বভাবতই আনন্দিত এই পথের চালক-যাত্রীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads