• সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫
ads
শালবন-জাদুঘর সড়কের বেহাল দশা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

শালবন-জাদুঘর সড়কের বেহাল দশা

  • খায়রুল আহসান মানিক, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১২ জুন ২০১৯

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন কুমিল্লা শালবন বৌদ্ধবিহার, নব শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর সড়ক চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ছে। কুমিল্লা কোটবাড়ি থেকে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৩০টি অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শালবন বৌদ্ধবিহার, ময়নামতি জাদুঘরসহ দর্শনীয় স্থানগুলোর দর্শনার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রবেশের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশা হওয়ায় দিন দিন শালবন বৌদ্ধবিহার, নব শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমছে।

ময়নামতি জাদুঘর কাস্টোডিয়ান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানায়, লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে গত ৭ থেকে ৮ মাসে কুমিল্লার দর্শনীয় স্থান থেকে  সরকার প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউট থেকে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের গায়ের প্রত্যেকটি অংশে পিচ ঢালাই উঠে মাঝারি ও ছোটো ছোটো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পলিটেকনিকেল থেকে ক্যাডেট কলেজ, নব শালবন প্রবেশ পথ থেকে জাদুঘর পর্যন্ত প্রায় ৩০টি অংশে বিশাল বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন ছাড়াও একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে সড়কটি দিয়ে চলাচল করা সম্ভব না। সিএনজি চালিত অটোরিকসা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা সড়কের বড় বড় গর্তগুলো অতিক্রম করতে গিয়ে উল্টে পড়ছে। গর্তে আটকে গেলে যাত্রীরা পিছনে ধাক্কা দিয়ে বা টেনে উঠাতে হচ্ছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ ওই সড়কের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে আছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়ে কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার, কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়, নব শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, লতিকোট মুড়া, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লালমাই পাহাড়, শালবন মাধ্যমকি বিদ্যালয়, বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র ডাইনোসর পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটক ও বিনোদন প্রেমীরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত সড়কটি স্থায়ী ভাবে সংস্কার করছে না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মিতালী ও মরিয়ম বলেন, সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মনে মধ্যে সব সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা বিরাজ করে। সিএনজি এবং অটোরিকশা যখন গর্তে ঢুকে পড়ে তখন মনে হয় গাড়িটি উল্টে গেছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ সীমা অতিক্রম করেছে। আমরা চাই খুব দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।

পরিবার নিয়ে শালবন ও জাদুঘরে ঘুরতে আসা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, পরিবার নিয়ে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে যাবো। কিন্তু সড়কটির যে বেহাল দশা যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম রনি বলেন, দুর্ভোগের অপর নাম বিশ^বিদ্যালয় সড়ক। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিন হবে। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই।

আনোয়ার হোসন, আল আমিন ও রফিকুল ইসলাম নামে তিন সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, যাত্রী নিয়ে সড়কটিতে দিয়ে চলাচল করতে এখন খুব ভয় হয়। গর্তে পড়ে কখন গাড়িটি উল্টে যায়। দীর্ঘদিন হবে খুব দুর্ভোগ অতিক্রম করে সড়কটি দিয়ে গাড়ি চালাই। আমরা চাই সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়। 

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, কুমিল্লা শালবন বৌদ্ধবিহার, নব শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরসহ দর্শনীয় স্থানগুলোর পর্যটক কমছে একমাত্র প্রবেশ পথের সড়কটির কারণে। খানাখন্দ ও গর্তে ভরা সড়ক দিয়ে দর্শনার্থীরা আসছে না। চলতি অর্থ বছরে শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের দেড় কোটি টাকা রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সড়কটি সংস্কার না করায় পর্যটক ও বিনোদনপ্রেমীদের পরিমাণ কমছে। যার ফলে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, এই সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশ ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করেছি। তারপরেও কোন সাড়া মেলেনি।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়–য়া বলেন, সংস্কারের জন্য ইট পাথর ও বালু মিশিয়ে সড়কে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ওর্য়াক ওয়াডার দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই মেরামতের কাজ শুরু হবে।   

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads